পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহে মার্কিন রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানে সম্ভাব্য হামলার আভাস দিচ্ছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের গোলটেবিল বৈঠকে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন দুমার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সেই পুশকোভ। তেহরানের চারপাশে সামরিক হামলার চিত্রপট ক্রমশই পরিষ্কার রুপ পাচ্ছে। পুশকোভ মনে করেন, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আসন্ন আলোচনার ওপরই অনেক কিছুই নির্ভর করবে।

গত বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরীয় ৬টি দেশ( বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) একটি একক রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা  গঠনের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছায়।  ইরানের রকেট আক্রমণ প্রতিহত করার জন্যই তা তৈরী করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অত্র অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে। এমনটি মনে করছেন দুমার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সেই পুশকোভ। তিনি বলেন, ‘বস্তুত এই কর্মসূচি খুব পরিষ্কার। তেহরান হয়ত বা পাল্টা হামলা করতে পারে। আমার কাছে খুবই আশ্চার্য মনে হচ্ছে এ ভেবে যে, ইরান এমন ব্যতিক্রমধর্মী দেশ বেছে নিয়েছে যারা ইউরোপের স্থাপনার ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করছে। মার্কিনীরা বলছেন, কেনই বা তা নয়। সেই পেক্ষাপটে অনেক দেশই বলছে যে, ইরানের রকেট ক্ষেপনাস্ত্র থাকার কারণেই তারা হামলা করতে পারে’।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ২০১২ সালে অন্যতম শীর্ষ সমস্যা পরিণত হতে পারে. এমনকি তা সিরিয়ার নাটকীয় সংকটকেও হার মানাতে পারে।

আলেক্সেই পুশকোভ আরও বলেন, ‘রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ২০১২ সাল কি নতুন যুদ্ধের বছর হবে?। এ ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার বেশ কয়েকটি চিত্রপট রয়েছে। তাছাড়া একসারি দেশগুলোর এ মন্তব্যের কারণে এখন তা আরও সম্ভাবনা তৈরী করেছে। যা সত্যিই অনেক বড় বিপদ সংকেত প্রদান করছে। সামরিক অভিযান অবলম্বন করে ইরানের পরমাণু সমস্যা সমাধান হোক তা রাশিয়া চায় না’।

ইরানের সাথে ছয় জাতির (রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স)  মধ্যে আলোচনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। আজকের দিনে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের জন্য এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমনটি মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বিশেষ দূত আলেক্সান্দার সাদোভনিকোভ। তিনি বলেন, ‘ইরানের পরমানু সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় সেই বিবেচনা করেই ছয় জাতির সাথে ইরানের বৈঠক হওয়া উচিত। তবে উভয় পক্ষেরই আন্তরিকতা থাকতে হবে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলির. শান্তিময় উদ্যোগে ইরানের পরমানু সমস্যা সমাধানে তাদের তেমন আগ্রহ নেই। ইরান যে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করছে না তেহরানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়টি পুনরায় প্রমাণ করতে হবে। কোন প্রকার সংঘাত এড়িয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে এ ক্ষেত্রে ছয় জাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে’।

উল্লেখ্য, ইরান গোপনভাবে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করছে তা জানিয়ে  যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তেহরানকে দোষী সাব্যস্ত  করছে। অন্যদিকে তেহরান তার উত্তরে জানায়, ইরানের পরমাণু প্রকল্প দেশের বিদ্যুত উত্পাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবার ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।