তেহরান ও “ছয় পক্ষের” মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি দলের ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা সংক্রান্ত আলোচনার দিন স্থির হয়ে গিয়েছে – এটা ১৩- ১৪ই এপ্রিল. কিন্তু জায়গা এখনও ঠিক হয় নি. আর একটু হলেই এত কষ্ট করে সাক্ষাত্কারের সময়ও আবার বদলাতে হবে. এই বিষয়ে – মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির সাঝিন.

মনে করিয়ে দিই যে, ইতিমধ্যেই ঠিক হয়ে যাওয়া ইস্তাম্বুলের বদলে ইরানের প্রশাসন একই সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি জায়গার কথা তুলেছিল. কিন্তু পরে ফলশ্রুতি হিসাবে তারা বাগদাদ শহরকেই শেষ অবধি বেছে নিয়েছে. ইরাকের প্রশাসন জানিয়েছে যে, তারা এই বৈঠকের আয়োজন করতে প্রস্তুত. এখানে শুধু জানা নেই যে, অন্য সব পক্ষও তৈরী কি না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটনে আগের মতই ভাবা হচ্ছে যে, এই বৈঠক হবে ইস্তাম্বুলে ও তা হবে ১৩- ১৪ই এপ্রিল. পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন এর মধ্যেই এই বৈঠকের জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন ও এই জায়গা হবে ইস্তাম্বুল. “এই রকমই আমরা আশা করেছিলাম, যতক্ষণ না আমরা শুনতে পেয়েছি যে, ইরানের পক্ষ থেকে অন্য একটি বৈঠকের জায়গা ঠিক করা হয়েছে”, - বলেছেন আমেরিকার কূটনীতিবিদ.

মনে করিয়ে দিই যে, “ছয় পক্ষের” প্রাথমিক প্রস্তাব ভিয়েনাতে আয়োজন করা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে নেতিবাচক উত্তর এসেছিল. কারণ, যেমন বলা হয়েছিল যে, ভিয়েনাতে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদর দপ্তর, যারা বিগত সময়ে তেহরানের সমালোচনা নিয়মিত ভাবে করেছে. একই সঙ্গে ইউরোপীয় সঙ্ঘের রাজধানী ব্রাসেলস শহরের কথাও না করে দেওয়া হয়েছিল – যারা তেহরানের উপরে খনিজ তেল আমদানী সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. অবশেষে সব পক্ষই ইস্তাম্বুল নিয়ে একমত হয়েছিল, যেখানে প্রসঙ্গতঃ, ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে শেষবারের মত ইরান ও ছয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি দলের একেবারেই বিফল হয়েছিল. তার ওপরে ইস্তাম্বুল প্রাথমিক ভাবে ইরানের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব করা হয়েছিল. কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষ থেকে বৈঠকের স্থান ও কাল ঘোষণা করে দেওয়ার পরে তেহরান ঘোষণা করেছে যে, ইস্তাম্বুল শহরকে তারা আর সম্ভাব্য জায়গা বলে ভাবছে না. কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের “অমিত্র সুলভ পদক্ষেপ”, যারা ইরানের থেকে খনিজ তেলের আমদানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানের সঙ্গে সহমত হয়ে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

কিন্তু সম্ভবতঃ, অন্য কারণও থাকতে পারে. এই প্রসঙ্গে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আলেকজান্ডার ভাভিলভ মন্তব্য করেছেন:

“আমি মনে করি যে, তেহরান নিজেদের প্রস্তাবিত বৈঠকের জায়গা পাল্টানোর সিদ্ধান্ত এই কারণে নিয়েছে যে, এই ভাবে তারা সবাইকে দেখাতে চায়: ইরান এই বিশ্বে একা নয়, তার চারপাশে বন্ধুরা রয়েছে. কারণ ইরাকের প্রশাসন, যেমন, তেহরানের পক্ষে রয়েছে. তাই বাগদাদে এই বৈঠক হলে, তা তেহরানের পক্ষে সব দিক থেকে লাভজনক. একই সঙ্গে লাভজনক বাগদাদের জন্যও, এই কারণে যে, ইরাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা এত বছর ধরে অধিগ্রহণের পরে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তারাও আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়”.

বিশেষজ্ঞরা যেমন মনে করেছেন যে, ইরানের নেতৃত্বের হাতে আরও বাড়তি উদ্দেশ্য থাকতে পারে এই জায়গা বদলের জন্য. হতে পারে যে, তারা নিজেদের দেশের লোককেই দেখিয়া দিতে চায় যে, ইরান কারও হাতের পুতুল রাষ্ট্র নয়, বরং বিশ্বের দাবার ছকে তারাও একটি বড় শক্তি. এখানে কঠিন হবে বলা যে, এই ভাবে তেহরান শ্রীমতী ক্লিন্টনকে অসুবিধায় ফেলতে চেয়েছিল কি না. তবে যে কোন ক্ষেত্রেই তা করা সম্ভব হয়েছে. তারা কি চেয়েছিল আরও একবার পশ্চিমকে রাগিয়ে দিতে? আর তা কি সম্ভব হয়েছে. এটা কি কারণে তেহরানের দরকার, সেটা অন্য প্রশ্ন.

প্রসঙ্গতঃ, শুক্রবারে তেহরানে যে ধরনের মানসিকতা রয়েছে, তা নিয়ে রাশিয়ার এক রাজনীতিবিদ, যাকে কোন মতেই ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব সময়ের সমালোচক বলা যেতে পারে না, সেই আলেক্সেই পুশকভ, যিনি রাশিয়ার লোকসভায় আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত পরিষদের প্রধান হয়েছেন, তিনি বলেছেন যে, ইরান সামরিক ঘটনা পরম্পরাকে বিশেষ আমল দিচ্ছে না, যা কিন্তু যথেষ্ট সম্ভাব্য. তিনি বলেছেন:

“আমার এমন মনে হয়েছে যে, এই ধরনের ভুল এক সময়ে করেছিল ইরাকের প্রশাসন. তখন সাদ্দাম হুসেইন বুঝতে দিয়েছিলেন যে, তার কাছে হতে পারে গণ হত্যার অস্ত্র রয়েছে. তাঁর মতে, সাদ্দাম ভেবেছিলেন যে, এই ধরনের খেলা খেলে তিনি নিজেকে নিরাপদ করতে পারবেন. কিন্তু সবই উল্টো হয়েছিল – তার খেলাই তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল”.

ইরানের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, পরিস্থিতি এখনও তত দূর যায় নি, যা এক সময়ে ইরাকের সঙ্গে হয়েছিল. বর্তমানের সমস্যা গুলিকে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা এখনও সম্ভব. কিন্তু সময় মনে হয়েছে যে, আরও কমে আসছে.