আদাব, প্রিয় বন্ধুগণ!

শুভ অপরাহ্ন!

রেডিও রাশিয়ার স্টুডিও থেকে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে এই অনুষ্ঠানের নিয়মিত ভাষ্যকার কৌশিক দাস ---

আজ আপনারা এই অনুষ্ঠানে শুনবেন ---

 রাশিয়ার মুসলমান নাগরিকদের বিদেশে বিভিন্ন ঐস্লামিক শিক্ষাকেন্দ্রে অধ্যয়নের সমস্যা, মস্কো ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অধ্যক্ষের নিযুক্তি, রাশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদের প্রাচীরের চারিদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হতে যাচ্ছে. অতএব এবার আপনারা শুনুন ইসলাম ও মুসলমানেরা নামক অনুষ্ঠান.

কোরান

  কয়েক বছর আগে রুশী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাশিয়ার মুসলমানদের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মতো একটি শলা-পরামর্শ পরিষদ গড়া হয়. সেখানকার অধিবেশনে রাশিয়ার মুসলমানদের সব সংস্থার বৈদেশিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা হয়. সবার আগে, বিশেষতঃ এমন সব প্রশ্ন, যেমন বিদেশে কিভাবে ঐস্লামিক শিক্ষালাভ করা যেতে পারে, হজ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন, আর রাশিয়ার মুসলমানদের সংস্থাগুলির বৈদেশিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা.---

   আমাদের সংবাদদাতার সাথে সাক্ষাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ দূত কনস্তানতিন শুভালভ বলছেন আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আইনের আওতায় উভয়পক্ষের জন্যই কিছু কর্মসূচি পালন করাকে বাধ্যতামুলক করে. অংশতঃ, রুশী নাগরিকদের বিদেশে ঐস্লামিক শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে. আমরা চাই, যাতে শুধুমাত্র ইসলামী সংস্থাগুলির সুপারিশ ক্রমেই ছাত্রদের শিক্ষায়তনে ভর্তি করা হয়. আজকের দিনে যেসব মুসলমান শিক্ষার্থী বিদেশী ঐস্লামিক শিক্ষায়তনে অধ্যয়নরত, তাদের মধ্যে অনেকের কাছেই অনুরূপ সুপারিশপত্র নেই. আমরা চাই, যাতে ঐ ধরনের শিক্ষালাভ রাশিয়ায় উম্মিতের সেবীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারে.

   রাশিয়ার মুফতিতের বৈদেশিক দপ্তরের প্রধান রেনাত আব্বিয়ানভ জানিয়েছেন, যে বর্তমানে রাশিয়ার মুসলমানেরা মুলতঃ কাতার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষায়তনে পড়াশোনা করে. প্রথাগতভাবে রাশিয়ার মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষালাভের কেন্দ্রগুলি ছিল সিরিয়ায় ও মিশরে.---

   সিরিয়ায় এবং মিশরে এখন আমরা আর শিক্ষার্থীদের পাঠাচ্ছি না. আর উত্তর আফ্রিকার দেশগুলির কথা বললে, আমরা সেখানে অবস্থিত ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলির কাছ থেকে প্রস্তাবের অপেক্ষা করছি. আর ওখানে আমরা কোনো শিখ্যার্থী বা ইমামকে শুধু তখনই পাঠাবো, যদি তাদের কাছে রাশিয়ার মুফতি পরিষদের কাছ থেকে অথবা প্রজাতন্ত্রের মুসলিম ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সুপারিশপত্র থাকে – বলেছেন রেনাত আব্বিয়ানভ. ---

    মস্কো ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত হয়েছেন ইতিহাসের উপর পি.এইচ.ডি করা নৃতত্ত্ববিদ দামির হাইরেতদিনভ. ৪০-বছর বয়সী অধ্যক্ষ উচ্চ শিক্ষালাভ করেছেন রুশী রাষ্ট্রীয় কলা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি থিসিস লেখেন বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে তাতার জনসাধারনের মধ্যে ইসলামের প্রচার বিষয়ে. ১৯৯৬-৯৭ সালে হাইরেতদিনভ পবিত্র মক্কায় উম আল-কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ভাষা শিক্ষা করেন. তারপরে তিনি মস্কোস্থিত সৌদী আরবের দূতাবাসে ঐস্লামিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন. গত এক বছর তিনি রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন. দামির হাইরেতদিনভ ইসলামের ইতিহাস নিয়ে বই লিখেছেন. ---

   রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচালন দপ্তরের আওতায় আইনগত সাহায্যদানের কেন্দ্র খোলা হয়েছে. ঐ কেন্দ্র মুসলমানদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষা করবে, বিতর্কমুলক বিষয়গুলির নিষ্পত্তি করতে সহায়তা করবে, শরণার্থীদের প্রয়োজনীয় আইনগত বিষয়ে সাহায্য করবে. প্রত্যেক শুক্রবারে মস্কোর জুম্মা মসজিদে নামাজ পাঠের পরে কর্মের সন্ধানে রাশিয়ায় আগত মুসলমানদের আইনের ব্যাপারে শলা-পরামর্শ দেওয়া হবে. উক্ত কেন্দ্রের প্রধানের পদে নিযুক্ত হয়েছেন দাগেস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ফ্যাকাল্টির স্নাতক মাগোমেদশামিল শাবানভ. ---

     বিবেক স্বাধীনতা বিষয়ক রাষ্ট্রীয় আইন মেনে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী সোচি শহরে ইয়াসিন নামক মুসলিম সম্প্রদায়কে বিনামুল্যে জমি দান করা হযেছে, সেখানে মুসলমান জাতিগুলির সংস্কৃতি কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে. ---

   রুশী ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১ সালের কর্মকান্ডের ওপর সম্মেলন হয়ে গেল আইন ফ্যাকালটিতে. আলোচ্য বিষয় ছিল – ঐস্লামিক আইনের ক্ষেত্রে বাস্তবিক সব প্রশ্ন, প্রেম ও যৌনতা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখা, ঐস্লামিক আইনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের মতভেদ নিয়ে আলোচনা প্রভৃতি. এখন থেকে প্রত্যেক বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ডিপার্টমেন্ট তাদের বার্ষিক কাজকর্ম বিশ্লেষণ করার উদ্দেশ্যে সম্মেলনের আয়োজন করবে. ---

     ইসলাম ও মুসলমান নামক অনুষ্ঠান আপনারা শুনছেন রেডিও রাশিয়া থেকে.

  দাগেস্তানের দেরবেন্ত শহরের জুম্মা মসজিদের পূর্বপ্রান্তের প্রাচীরের কাছে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে. সম্প্রতি সেখানে আবিস্কৃত হয়েছে প্রায় ১০ বর্গমিটার মাপের গম্বুজের ছাদ. ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের আগ্রহের কারণ আছে - দেরবেন্তের জুম্মা মসজিদ রাশিয়ায় সবচেয়ে প্রাচীন. প্রত্নতত্ত্ববিদেরা তার বয়স নির্ণয় করেছেন ৭৪৩-৭৪৪ বছর বলে.

   ঐ তারিখ নির্ণয় করা হয়েছে মসজিদের ফটকে আরবী ভাষায় খোদিত লেখা দেখে. ১২৬ হিজরি সন মসজিদ স্থাপনের তারিখ বলে ধার্য করা হয়েছে. দাগেস্তানে সেইসময় আরব খালিফতের দূত ছিল সেনাপতি মাসলামা বেন-মালিক, উম্ভি খালিফ প্রথম ওয়ালিদের ভাই.

    স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে দেরবেন্তের জুম্মা মসজিদ দেখতে খ্রীশ্চান বাজেলিকের মতো. সিরিয়াতেও তখন ওরকম বাজেলিকের অস্তিত্ব ছিল. তবে আরবী খালিফতের রমরমার আমলে বাজেলিকগুলির আদল বদলে মসজিদে পরিণত করা হয়েছিল.

    মধ্যযুগে মসজিদটি অগ্নিকান্ডে, ভূমিকম্পে ও শত্রুদের আক্রমণে বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল. কিন্তু শাসকরা প্রত্যেকবারই তার মেরামত করিয়েছে. ---

      জুম্মা মসজিদ তার আধুনিক আদল পেয়েছে চতুর্দশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে. তখন মসজিদটিকে পুণর্নিমান করেন স্থপতি মুসা আল-বাকুভি, যিনি জন্মসূত্রে ছিলেন আজারবাইজানের বাকু শহর থেকে. পরের শতাব্দীতে মসজিদের পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিক পর্যন্ত মাদ্রাসা নির্মান করা হয়. সেখানে ছিল বড় একটা হল এবং ছাত্রদের জন্য ১৩টি ঘর. এটা দাগেস্তানে এখনো চালু থাকা সবচেয়ে প্রাচীন মাদ্রাসা.

  বর্তমানে দেরবেন্তে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষের বাস. ঐ শহরটি দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিজ্ঞান ও শিল্পকেন্দ্র. শহরের বাসিন্দাদের ৩০ শতাংশ আজারবাইজানি. মহরমের মাসে দেরবেন্ত সম্ভবতঃ রাশিয়ায় একমাত্র জায়গা, যেখানে লোকজন লোহার চেইন দিয়ে নিজেদের শরীরে আঘাত করে. ---

  বহু লোক ঐ মসজিদে নমাজ পড়তে আসে. মসজিদটি জনাকীর্ণ. প্রথমে নমাজ পড়ে শিয়ারা, মানে আজারবাইজানিরা, তারপরে সুন্নীরা – মোটামুটি দুই পর্যায়ে. আর দাগেস্তানের মুসলমানদের পরিচালন দপ্তরের উপ-সভাপতি শুগাবুদ্দিন আবাকারভ বলছেন, যে শুক্রবারে জুম্মা নমাজ সবাই একসাথে পড়ে. মসজিদটি দিবারাত্র খোলা, দিনে সেখানে ৫ বার নমাজ পড়া হয়. এবং মানুষ অন্যান্য অঞ্চল থেকেও ঐ মসজিদে নমাজ পড়তে আসে. দেরবেন্ত ধর্মসহিষ্ণু শহর, সেখানে গীর্জা ও ইহুদীদের সিনাগগও আছে. আমাদের রাব্বিন ও গীর্জার পাদ্রী ফাদার নিকোলায়ের সাথে দেখাসাক্ষাত হয়, উত্সবে একে অপরকে অভিনন্দন জানাই. তবে মসজিদটি অধিকাংশ লোকজনের জন্য মাধ্যাকর্ষনের কেন্দ্র. রাশিয়ার জন্য, আমাদের সবার জন্য এটা আনন্দের বিষয় ও এমন মসজিদের উপস্থিতি মর্যাদাজনক. ---

   প্রিয় বন্ধুগণ! ইসলাম ও মুসলমানেরা নামক অনুষ্ঠাণ এখানেই শেষ করছি. অনুষ্ঠাণটির সংকলক ছিলেন ওলগা সিওমিনা, ভাষ্যরার ছিলাম আমি, কৌশিক দাস.