রাশিয়াতে রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংশোধন চলছে. কয়েক দিন আগে, আইন গৃহীত হয়েছে, যা অনেক সহজ করে দিয়েছে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া. আর বৃহস্পতিবারে নির্দল নাগরিক উদ্যোগ পরিষদ গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে. এর স্রষ্টা ও আদর্শ নির্দেশক – বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও রুশ প্রজাতন্ত্রের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন, যাঁকে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন, তাঁর রাষ্ট্রপতির নীতি বিরোধী বক্তব্য সর্ব সমক্ষে, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ে প্রকাশ করার জন্য. কুদরিনের কথামতো, বর্তমানে রাশিয়াতে অনেকেই পরিবর্তনের প্রয়োজন বোধ করেছেন, তাই তাঁর আশার কারণ হয়েছে, যে তাঁর সৃষ্ট পরিষদ প্রসারিত জন সমর্থন পেতে পারে বলে. এই নতুন কাঠামোর ভিতরে এসেছেন অনেক রুশ রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন মন্ত্রী, বিশেষজ্ঞ এবং সমাজ কর্মী.

    রাশিয়াতে গণতান্ত্রিক শক্তি গুলিকে একত্রিত করার ইচ্ছা ও কোন এক ধরনের সামাজিক – নাগরিক প্রকল্প সৃষ্টির ইচ্ছা কুদরিন সেই জানুয়ারী মাসেই ব্যক্ত করেছিলেন. সেই সময়ে সারা দেশে ডিসেম্বর মাসের বিগত লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগে জন বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছিল. জনতা দাবী করেছিল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের. প্রাক্তন অর্থ মন্ত্রী তখনই উল্লেখ করেছিলেন যে, এই জোট কোনও রাজনৈতিক দল হবে না, কিন্তু নিজেদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ও সেই সঙ্গে রাজনৈতিক কাজও লক্ষ্য হিসাবে রাখবে. এই গুলি নিয়েই কুদরিন বৃহস্পতিবারে তাঁর নাগরিক উদ্যোগ পরিষদের উপস্থাপনা উপলক্ষে বলেছেন:

    “আমরা চাই নাগরিক সমাজের ইনস্টিটিউট গুলিকে উন্নত করতে আর সামাজিক সংগঠন, পেশাদার সংঘের মানুষদের তাঁদের উদ্যোগের ব্যবহারের পথ খুলে দিতে. আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংশোধনের প্রশ্নাবলী নিয়ে নিজেদের মত ব্যক্ত করা, এই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বদল করা, যাতে তা হয় খোলামেলা ও স্বচ্ছ. খুবই নিকট ভবিষ্যতে আমরা সেই সমস্ত প্রকল্প নিয়ে কাজ করা শুরু করব, যা দেশের বিচার পদ্ধতি, পুলিশ বাহিনীর কাজকে উন্নত করবে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিষেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করবে”.

আলেক্সেই কুদরিন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আপাততঃ তিনি এই পরিষদকে কোনও রাজনৈতিক দলে পরিবর্তন করতে চান না. একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর জোট বাঁধাধরা ধারণায় কোনও বিরোধী পক্ষ নয়. এই পরিষদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য যোগাড় হবে সেই সমস্ত মানুষদের সহায়তায়, যাঁরা এর মতবাদে বিশ্বাসী. কিন্তু তা বিদেশ থেকে নয় – এই কথাই বিশেষ উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী.

এই পরিষদের সদস্য ও রাশিয়ার বিখ্যাত রাজনীতিবিদ দিমিত্রি অরেশকিন মনে করেন যে, কুদরিন এই প্রকল্প সৃষ্টি করেছেন, কারণ তিনি জানতেন যে, এর জন্য সমাজে একটা চাহিদা রয়েছে, আর তা শুধু সমাজের পক্ষ থেকেই নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকেও. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“লোকসভা নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে যে, এখনই গুণগত ভাবে পরিবর্তন আসছে. যেটা খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে চাওয়া হচ্ছে না, তা হল রাস্তার বিপ্লব. প্রশাসনের প্রয়োজন অনেক গুলি বিভিন্ন মত থাকার. কুদরিনকে মনে করা হয়েছে বিপরীত ধর্মী প্রভাবশালী দলের প্রতিনিধি হিসাবে, যারও প্রয়োজন রয়েছে, যাতে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা যেতে পারে. এই ধরনের কাঠামো আজ দরকার পড়েছে”.

নাগরিক উদ্যোগ পরিষদ সৃষ্টি করা, দেখাই যাচ্ছে যে, রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংশোধনের দিকে প্রাথমিক সব পদক্ষেপের শুধু একটি হিসাবে.