মস্কোয় ভারতের সংস্কৃতি কেন্দ্রে শোনানো হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত এবং কবিতা. তা শুনিয়েছিল ভারতীয়রা এবং রুশী, তরুণ-তরুনী আর বয়স্ক লোকেরা, যারা রবীন্দ্রনাথের রচনা জানেন, ভালবাসেন আর অধ্যয়ন করছেন.

এঁদেরই একজন হলেন – ডঃ তাতিয়ানা মরোজোভা – রাষ্ট্রীয় শিল্পকলা বিদ্যা ইন্সটিটিউটের সিনিয়ার বৈজ্ঞানিক কর্মী. তিনি গেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের “গীতাঞ্জালি”র একটি গান. এই “গীতাঞ্জালি” রচনার জন্য বিশিষ্ট কবি ও দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভুষিত  হয়েছিলেন.

রুশ ভাষায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস, বহু কবিতা আর নাটক অনুদিত হয়েছে. এ দেশে বিভিন্ন সময়ে সেগুলি প্রকাশিত হয়েছে চার খণ্ডে, আট খণ্ডে অবং বারো খণ্ডে আর তা ছাড়া, পৃথক পৃথক বই হিসেবে. তবে রাশিয়ায় আর সারা পৃথিবীতে  সঙ্গীত রচয়িতা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কম পরিচিত. কারণ তাঁর  সঙ্গীত রচিত আর সংরক্ষিত ছিল ভারতীয় স্বর লিপিতে, ইউরোপীয়  স্বর লিপির সাথে তার পার্থক্য রয়েছে. রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত রচনা বহু বছর ধরে অধ্যয়ন করছেন এবং প্রচার করছেন ডঃ তাতিয়ানা মরোজোভা. মস্কোয় “প্রাচ্য সাহিত্য” প্রকাশনা থেকে বেরিয়েছে তাঁর চতুর্থ বই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত সম্বন্ধে. বইটির নাম “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর. সঙ্গীত কাব্য”. এই বইটি  রবীন্দ্রনাথের ১৫০-তম জন্মদিনের প্রতি উত্সর্গিত, যা ভারত উপ মহাদেশে, রাশিয়ায় এবং পৃখিবীতে পালিত হচ্ছে. ডঃ তাতিয়ানা মরোজোভা বলেন, যে এই বইটিতে ইউরোপীয় স্বরলিপিতে এবং রুশ ভাষায় প্রতিটি ছত্র অনুযায়ী অনুবাদ করা “গীতাঞ্জালি” থেকে ৬০ সঙ্গীত কবিতা আর বিভিন্ন সময়ে রচনা করা ১৬টি গান আছে.

মস্কোয় এই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত আর গান গেয়েছিল রাশিয়ার রাজধানীতে গঠিত “বঙ্গ সমাজ”-এর সদস্যরা. 

    ইউরোপীয় স্বরলিপির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এই বই রাশিয়ার সঙ্গীতজ্ঞদের জন্য, উচ্চ-সঙ্গীত শিক্ষায়তনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুন্দর উপহার বলে মনে করেন রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী অজায় মালহোত্রা, যিনি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন. ভাল রুশ ভাষায় তিনি উল্লেখ করলেন যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর মূল্যবান বিষয় হল প্রতিতি সঙ্গীত রচনার মূল বাংলা থেকে অনুবাদ এখানে করা হয়েছে অত্যন্ত সুন্দর.

মূল বাংলা থেকে এগুলি অনুবাদ করেন মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইন্সটিটিউটের বাংলা ভাষার অধ্যাপিকা ডঃ ইরিনা প্রকোফিয়েভা.  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনার প্রতি গভীর আগ্রহ, ভালবাসা তিনি অনবরত দিয়ে যাচ্ছেন নিজের ছাত্রছাত্রীদের. ইরিনা প্রকোফিয়েভা মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের রচনা অন্তহীন. তাঁর রচনায় আপনি পাবেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সঙ্গীত, চিত্রাঙ্কণ. ইরিনা প্রকোফিয়েভা বলেন, “নিজের পাঠক, দর্শক ও শ্রোতাদের রবীন্দ্রনাথ আকর্ষণ করে রাখতে পারেন. তা আমি জানি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে, বন্ধু-বান্ধব ও ছাত্রছাত্রীদের থেকে. মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইন্সটিটিউটের যে সব ছাত্রছাত্রী বাংলা শিখছে, তারা ভারত উপমহাদেশের সংস্কৃতি আবিষ্কার করছে  রবিন্দ্রনাথের রচনার মাধ্যমেই. তাদের অনেকেই রবীন্দ্রনাথের কবিতা মূল বাংলা থেকে রুশ ভাষায় অনুবাদ করে বোঝে.”

    রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সঙ্গীত রচনার গবেষকরা এবং মস্কোর ছাত্রছাত্রীরা “বঙ্গ সমাজ”-এর সাথে নতুন –নতুন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চান, যেখানে শোনা যাবে রবীন্দ্র সঙ্গীত আর তাঁর কবিতা.