মস্কো শহরের উপকণ্ঠে স্বল্প দূরত্বে যে স্কোলকভা উদ্ভাবনী কেন্দ্র এখন তৈরী করা হচ্ছে, তা ২০১৪ সালে জি এইট শীর্ষ সম্মেলনের জায়গা হতে পারে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রশাসনকে দায়িত্ব দিয়েছেন সমস্ত আয়োজন সংক্রান্ত প্রশ্ন বিচার করে দেখার.

    রাশিয়া দুই বছর পরে জি এইট গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করবে. এই বেসরকারি ফোরাম সারা বিশ্বের সবচেয়ে শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব কারী ও গণতান্ত্রিক দেশ গুলির জোট. এখানে ঐতিহ্য মেনেই যে দেশ সভাপতিত্ব করে, তারাই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে, যা হওয়ার সময়ে দেশ গুলির নেতারা মানব সমাজের বাস্তব সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করে থাকেন.

    রাশিয়া বিগত সময়ে অর্থনীতির আধুনিকীকরণ নিয়ে প্রচুর মনোযোগ দিয়েছে. তাই রাশিয়ার প্রশাসনে হিসাব করে দেখা হয়েছে যে, খুবই ঠিক হবে স্কোলকভা উদ্ভাবনী নগরীতেই শীর্ষ সম্মেলন করা. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, যিনি নিজে এক সময়ে এই কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন, তিনি এই ধারণাকে সমর্থন করেছেন. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “আমাদের উচিত্ হবে সেই সব কাজের সেরা নিদর্শন গুলি তুলে ধরার, যা নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি. আশা করব যে, সেই সময়ের মধ্যে আমাদের পরিশ্রমের ফলে স্কোলকভা সেই রকমেরই একটি উদাহরণ হতে পারবে. সেখানে এখনই প্রক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুত হচ্ছে. আমি মনে করি যে, এই ধারণা খুব খারাপ নয়. আর যদি প্রশাসন সব মিলিয়ে এই ধারণা কার্যকরী করা নিয়ে হিসাব করে থাকে আর তা বাস্তবায়ন করতে তৈরী থাকে, তবে আমি মনে করি এই দিকে এগনো যেতে পারে. সব খুবই আগ্রহোদ্দীপক হওয়া উচিত্”.

    রাশিয়াতে ২০১০ সালের বসন্ত কালে স্কোলকভা উদ্ভাবনী কেন্দ্র গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল. মস্কোর কাছেই এক বড় শহর তৈরী করা হচ্ছে রাস্তা, থাকার ঘর বাড়ী, স্কুল ইত্যাদি সমেত, কিন্তু সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করা হচ্ছে ল্যাবরেটরী, বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র ও ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টারের জন্য, যেখানে পাঁচটি প্রধান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিকে গবেষণা করা হবে. এখানে কথা হচ্ছে জৈব ওষধি নির্মাণ, তথ্য প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, জ্বালানী সাশ্রয়কারী ও পারমানবিক প্রযুক্তি নিয়ে.

    স্কোলকভা প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে প্রায় ৪০০ কোম্পানী আবেদন করেছে. তার মধ্যে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ নিয়ে চুক্তি হয়েছে সেই ধরনের আমেরিকার দৈত্য সম কোম্পানী ইনটেল, বোয়িং, সিসকো, আর তাদের সঙ্গে ফিনল্যান্ডের নোকিয়া কর্পোরেশন ও হল্যান্ডের ফিলিপস কোম্পানীর সঙ্গে. ভারতের টাটা গ্রুপও এখানে রয়েছে. এখানে কথা হচ্ছে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে. তাছাড়া এই উদ্ভাবনী কেন্দ্রের ভিত্তিতে তৈরী করা হচ্ছে স্কোলকভা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যাতে প্রায় ২০০০ ছাত্র পড়াশোনা করবে, বিশ্বের বহু নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা এখানে পড়াবেন.

    স্কোলকভা কেন্দ্রে সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক ফোরামের ব্যবস্থা করা – এটা রাশিয়ার জন্য একটা বড় সুযোগ নিজেদের আধুনিকীকরণ ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে সাফল্যকে প্রদর্শন করার, এই কথা উল্লেখ করে স্কোলকভা তহবিলের জন সংযোগ বিভাগের উপ সভাপতি সেদা পুম্পিয়ানস্কায়া বলেছেন:

    “স্কোলকভা – বাস্তবেই এক আন্তর্জাতিক প্রকল্প, রাশিয়া একটি সবচেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন প্রকল্প. জি এইট শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন স্কোলকভা শহরে করা হলে তা রাশিয়াকে এক বিশাল সুযোগ করে দেবে, আমাদের আধুনিকীকরণ ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে কি হচ্ছে, তা দেখানোর, আর তারই সঙ্গে নতুন উদ্ভাবনী শহর স্কোলকভা দেখানো যাবে, যা মস্কোর অংশ, আর যার প্রথম অংশ ২০১৪ সালের মধ্যেই তৈরী হয়ে যাবে. আমরা সবই করব, যাতে সম্মেলন সফল হয়, আর রাশিয়ার সাফল্য এবং স্কোলকভা সারা বিশ্বের কাছেই পরিচিত হয়”.

    ২০০৬ সালে রাশিয়া এর আগে জি এইট শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল. তখন তা সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকণ্ঠে ফিন উপসাগরের তীরে “স্ত্রেলনা” নামের জায়গায় হয়েছিল. এই প্রাসাদ ও উদ্যানের এলাকা রাশিয়ার মহান সম্রাট পিওতর দি গ্রেট অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে তৈরী করতে শুরু করেছিলেন. এই শীর্ষ সম্মেলনের উদ্দেশ্যে সম্রাটের প্রাসাদে বিশেষ করে প্রকাণ্ড মেরামত করার কাজ করা হয়েছিল: পুরনো ড্রয়িং দেখে প্রাসাদের বাইরের দেওয়াল ও ভিতরের অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল, উদ্যান ও সমস্ত খাল আবার করে খনন করা হয়েছিল. বিদেশের অতিথি বর্গ রাশিয়ার ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিলেন, তার সংস্কৃতির সঙ্গেও আর খুবই হতবাক হয়েছিলেন সম্রাটের প্রাসাদের সৌন্দর্যে. আজ সময় এসেছে রাশিয়ার ভবিষ্যত উপস্থিত করার. কারণ স্কোলকভা কেন্দ্রের সামনে খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমস্ত কাজ রয়েছে – ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে রাশিয়াকে এক গুচ্ছ উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্বের সারিতে উপস্থিত করা.