আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, অবশেষে, ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশ গুলির দাবী শুনেছে. তহবিল এপ্রিল মাসের অন্তে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনের তরফ থেকে কোটা বৃদ্ধির প্রশ্নের সমাধান করবে, এই ঘোষণা করেছেন প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্ড. মার্চ মাসের শেষে নয়াদিল্লীতে সম্মেলনে “পঞ্চ” দেশের নেতারা খুবই জোর দিয়ে তহবিলের কাছে সংশোধনের জন্য আহ্বান করেছেন, যা এই সব দেশ গুলির পক্ষ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নব জন্ম নেওয়া বাজার অর্থনীতির দ্রুত উন্নতিশীল ভারের সম্যক প্রতিফলন করতে পারবে.

    ক্রিস্টিন লাগার্ড ওয়াশিংটনে ভাষণ দিতে গিয়ে স্বীকার করেছেন যে, তহবিল বহু দিন ধরেই এই ব্রিকস দেশ গুলির কাছে ঋণী. ২০১০ সালেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সভা মন্ত্রী পর্যায়ে নতুন কোটা ও ভোট সংক্রান্ত ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিল. এই রেটিং তালিকায় চিন এখন তৃতীয় স্থানে, আমেরিকা ও জাপানের পরেই. আর তার ব্রিকস গোষ্ঠীর সহকর্মী দেশ রাশিয়া, ব্রাজিল ও ভারতও রয়েছে তহবিলের তালিকায় প্রথম দশকেই. তাদের আগে রয়েছে – জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালি. একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ এই সব দেশ গুলির পার্লামেন্ট এই ধরনের কাঠামো সংশোধনে সায় দিচ্ছে না.

    ক্রিস্টিন লাগার্ড তহবিলের সহকর্মী দেশ গুলিকে এই ধরনের ধরে নেওয়া নীতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নতি করতে আহ্বান করেছেন ও ব্রিকস দেশ গুলির কোটা বাড়ানোর জন্য তহবিলের এপ্রিল মাসের সম্মেলনে সায় দিতে বলেছেন. এই বারে পশ্চিমের তরফ থেকে তহবিলের কাঠামো সংশোধনের বিষয়ে বাধা দেওয়া হবে না, বলে বিশ্বাস নিয়ে শেয়ার বাজারের বিশ্লেষক ইগর কোস্তিকভ বলেছেন:

    “আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে যে সমস্ত পরিবর্তন হবে, তা বহু দিন ধরেই অপেক্ষা করা হয়েছে. এর গতি বহু ক্ষেত্রেই সেই কারণে ঘটেছে যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে স্পষ্ট করেই দেখা গিয়েছে যে, রাশিয়া, চিন, ভারত ও ব্রাজিলকে না আহ্বান করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আর গুরুত্বপূর্ণ আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থা থাকতে পারছে না. কারণ যখন বড় দেশ গুলিকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার কথা ওঠে, তখন বর্তমানের তহবিলের যা ক্ষমতা, তা যথেষ্ট হয় না. যদি এটা না হত, তবে ব্রিকস দেশ গুলিকে আরও বহু দিন এই তহবিলে প্রভাব বৃদ্ধি ও কাঠামো সংশোধনের অপেক্ষায় থাকতে হত”.

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে কোটা ঠিক করে দেয় তহবিলের সামনে দেশ গুলির সর্বোচ্চ আর্থিক দায়িত্বের পরিমান ও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে তাদের ভোটের ভার. বোঝাই যায় যে, এই সব কিছুর জন্যই দাম দিতে হবে- কোটা বাড়ানোর মানে হল বাড়তি চাঁদা. ইগর কোস্তিকভ মনে করেন যে, ব্রিকস দেশ গুলির জন্য এটা কোনও সমস্যা নয়, তিনি বলেছেন:

    “সেই সমস্ত দেশের জন্য, যারা কোটা বিষয়ে আবার করে পর্যালোচনা করে দেখার দাবী করেছে, এটা কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে না. তারা সকলেই নিজেদের চাঁদা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে. আজ তাদের ভাগ অবশ্যই যথেষ্ট নয়. নতুন করে ভারসাম্য তৈরী করার সময় অনেকদিন আগেই হয়েছে”.

    বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নতুন প্যাকেজ, যা নয়াদিল্লীতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তৈরী করা হয়েছে, তাতে নিজেদের উন্নয়ন ব্যাঙ্ক তৈরীর সিদ্ধান্ত রয়েছে. এই প্রকল্পকে সমর্থন করে ঘোষণা করেছেন বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধান রবার্ট জোয়েলিক. তিনি একই সঙ্গে বুঝতে দিয়েছেন যে, তিনি নতুন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরী হওয়ার বিরুদ্ধে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে বাস্তবে প্রতিযোগিতায় সক্ষম. বিশ্ব ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা থেকে ব্রাজিল, চিন ইত্যাদি দেশ বের হয়ে গেলে আর তাদের জায়গায় অন্যত্র থেকে অনুদান খুঁজতে গেলে তা হবে ঐতিহাসিক ভুল.

    ব্রিকস দেশ গুলি নিজেদের উন্নয়ন ব্যাঙ্ককে আপাততঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ভাবছে না. কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে যে, এই প্রতিবাদ অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত করেছে বর্তমানের কাঠামো ও ব্যবস্থা নিয়ে এই “পঞ্চ” দেশের অসন্তোষ. আর রবার্ট জোয়েলিক যে, এই পাঁচ দেশের ব্যাঙ্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের বিকল্প দেখতে পেয়েছেন – তার মানে হল এই পাঁচ দেশের বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ভার বাড়ছে, তারই স্বীকারোক্তি.