গুপ্তচর আরশোলা – আজব গল্প নাকি সত্যি?  ইতালির সংবাদপত্র Corriere Della Sera যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে ইজরায়েল ও আমেরিকার বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কীট পতঙ্গ ও শামুক নিয়ে গবেষণা করছে, যাতে পরবর্তী কালে তাদের গুপ্তচর বৃত্তির কাজে লাগানো যায়.

আপনি ধরুন এই আধ ঘন্টা ধরে বিরক্তিকর মাছিটাকে তাড়ানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন আর ভাবছেন, আশ্চর্য, কেন যে এই ব্যাটা এখানেই ঘুরঘুর করছে? আর এই মাছি হতে পারে, এই কারণে মোটেও আপনার চারপাশে উড়ছে না যে, আপনার সর্ব্বাঙ্গে মধু মাখানো রয়েছে, বরং সেটা আসলে একটা কাজে ব্যস্ত: টেবিলের উপরে রাখা দলিল গুলির ছবি তুলছে. হাস্যকর মনে হচ্ছে? আর যদি আপনি – একজন গোপন ব্যুরোর ডিজাইন বিশেষজ্ঞ হন? তাহলে খুব কম করে হলেও আপনি এই মাছিটাকে চেষ্টা করবেন ধরে ফেলতে, চেপ্টে মারতে আর পরে যাতে এই রকম না হয় তার জন্য সব জায়গাতেই ফেনাইল ছড়াবেন. গুপ্তচর বায়োরোবট বানানো হচ্ছে বলে একটা গোপন খবর ফাঁস হওয়ার ভান করে প্রতিযোগীদের অনেক খারাপ মিনিট কাটানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা রাজনীতি পরিষদের সদস্য আলেকজান্ডার মিখাইলভ বলেছেন

অন্য দেশের বিশেষ পরিষেবার নজর কাড়তে, যাতে তারা আরশোলা ধরা ছাড়া আর অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে যায়, যথেষ্ট হতে পারে শুধু এই টুকু বললেই যে, যেমন, আমরা তৈরী করে ফেলেছি আর মাসাদ গুপ্তচর সংস্থার সদর দপ্তরের গোপন অলি গলিতে এর মধ্যেই রাশিয়ার আরশোলা ঘুরছে, যারা খবর যোগাড় করছে, ছবি তুলে. তারা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে.

প্রসঙ্গতঃ, আলেকজান্ডার মিখাইলভ এটা স্রেফ শোনা কথা হিসাবেই জানেন না. প্রায় বছর কুড়ি আগে তিনি, রাশিয়ার কে জি বি বা রাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মেয়র থাকা কালীণ, এপ্রিল ফুলের দিনে, এই রকমের একটা মিথ্যা খবর প্রচার করেছিলেন, যে এই ধরনের আরশোলা আছে, যাদের মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো আর অ্যান্টেনা লাগানো শুঁড় আছে, তারা দেয়াল বেয়ে উঠে খবর যোগাড় করছে. এই কথা অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সি আই এ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ লোকরা ও রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থার সদর দপ্তর লুবিয়ানকা চত্বরে কেউ বিশ্বাস করে নি, কিন্তু তাও দুই মহা সমুদ্রের এপার ও ওপারে, খুবই গোপনীয় সব দপ্তরে কীট নাশক দ্রব্য ছড়িয়ে সাফাইয়ের কাজ করা হয়েছিল. অবশ্য বলা হয়েছিল এই সব করা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিধি মানতে হয় বলে.

প্রসঙ্গতঃ কল্প সাহিত্য লেখকদের ক্ষেত্রে যেমন প্রায়ই হয়ে থাকে, এই কল্প কাহিনী কিন্তু বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে. আমাদের সময়ে রাশিয়াতে গুপ্তচর বৃত্তির জন্য তৈরী করা হচ্ছে খুবই ক্ষুদ্র সমস্ত জীবন্ত প্রাণীকে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়বিক শারীরবিদ্যার উচ্চ বৈজ্ঞানিক কাজ কর্ম সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের কর্মী জীববিদ্যায় ডক্টরেট কারিনা সার্কিসোভা বলেছেন:

“কোন জীবকে একটা বিশেষ রাস্তা ধরে চলার বিষয়ে বাধ্য করা, যা আমরা করাতে চাই, অর্থাত্ একটা বস্তুর কাছ থেকে অন্য একটা বস্তুর কাছে যাওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, নামা, ডান দিকে যাওয়া অথবা বাম দিকে যাওয়া, - আমি আর আমার দলের লোকরা এটা ইতিমধ্যেই করাতে পেরেছি. সমস্ত প্রাণীরই মগজে আলাদা এলাকা রয়েছে, যেখানে বৈদ্যুতিক ভাবে উত্তেজিত করা হলে এক ধরনের ঘোর হয়. আমরা ছুঁচোর মগজের মধ্যে এই সব জায়গায় ইলেকট্রোড বসাতে পারেছি, তার পিঠে পরিয়েছি একটা ব্যাগ, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুত উত্পাদনের জেনারেটর. এই জেনারেটর থেকে উত্পন্ন বিদ্যুত দিয়ে মগজের সেই সমস্ত এলাকাকে উত্তেজিত করা হয়েছে, আর আমি আমার নোটবুক দিয়ে তাকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছি. নোটবুকের মনিটরে স্রেফ দেখেছি, আর ঠিক কাজ করলে, ঠিক দিকে গেলে এই ছুঁচো আমার কাছ থেকে পুরস্কার পেয়েছে. এই ক্ষেত্রে আমি নিয়ন্ত্রণ করেছি, বিভিন্ন কি টিপে আর তাকে উত্তেজিত করে, আর শেষ লক্ষ্য ছিল আরও কঠিন – এই সব কাজই চিন্তা দিয়ে করানো. এটাও বিনা সমস্যায় করানো হয়েছে”.

বিজ্ঞানে এই লক্ষ্যকে বর্তমানে খুবই সম্ভাবনাময় মনে করা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ভিয়াচেস্লাভ দুবীনিন বলেছেন:

“জৈব এথিক্সের দিক থেকে এই ধরনের পরীক্ষা অনেক প্রশ্নের উত্পত্তি করে. কিন্তু, অন্য দিক থেকে, মনে করুন যে, এর কোন সামরিক ব্যবহার করা হবে না, আর যেমন ধরুন, সেই একই ছুঁচো ভিডিও ক্যামেরা মাথায় করে ভূমিকম্পের পরে ভেঙে পড়া বাড়ীর ধ্বংস স্তুপে ঘুরে ফিরছে, আর এটা সুবিধা করে দিচ্ছে, সেই সব তখনও বেঁচে থাকা লোকদের খুঁজে পেতে, যারা কোন জায়গায় চাপা পড়ে আটকে রয়েছেন. তাই এই সবই আগ্রহোদ্দীপক ও সম্ভাবনাময়. কীট পতঙ্গের ক্ষেত্রে এটা খুবই অলীক মনে হতে পারে. কারণ খুবই ক্ষুদ্র সব যন্ত্রের প্রয়োজন – আরশোলা বড় কোন ভার নিজের পিঠে নিয়ে ঘুরতে পারবে না. কিন্তু যদি এই ধরনের যন্ত্র তৈরী সম্ভব হয়, তবে তা কেন হবে না”.

বোঝাই যাচ্ছে আমাদের যুগে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে আকারের সব জিনিস পাওয়া যেতে পারে, তাতে – এটা কোন সমস্যাই নয়. একটু মনে করলেই হয় যে, কয়েক বছর আগেই একটা কম্পিউটার সারা ঘর জুড়ে থাকত, আর এখন - তার হাতের তালুতেই জায়গা হয়ে যায়. ব্যাটারি সম্বন্ধেও একই কথা বলা যেতে পারে. এর মধ্যেই এমন সব পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে শামুক ও আরশোলা নিজেরাই এই শক্তি উত্পাদন করতে পেরেছে, যা তাদের শরীরের অংশ করে ফেলা সেন্সর চালু রাখতে যথেষ্ট. বাস্তবে, শুধু বাকী রয়েছে ভেবে বার করা, কি করে এই সব অসাধারণ গুপ্তচরদের খুবই স্পর্শকাতর সাফাই কর্মীদের হাত থেকে বাঁচানো যায়, আর তা হলেই দুই ধরনের কাজ একই সঙ্গে করতে সক্ষম এমন সব বায়োরোবট বানানো বিষয়কে একেবারে প্রভূত পরিমানে করা যেতে পারবে.