ভারত সেই সমস্ত দেশের ক্লাবে যোগদান করেছে, যাদের নৌবাহিনীতে পারমানবিক ডুবোজাহাজ রয়েছে. বিশাখাপত্তনম শহরে ভারতীয় সামরিক নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে ভারতের হাতে ১০ বছরের জন্য রুশ পারমানবিক ডুবোজাহাজ "নেরপা" যার ভারতীয় নাম হল "চক্র", তা আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে.

    এটা – তৃতীয় প্রজন্মের পারমানবিক ডুবোজাহাজ. এটি সবচেয়ে বেশী সমুদ্রের জলের ৬০০ মিটার গভীর অবধি নামতে পারে, স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবে জলে থাকতে পারে ১০০ দিন, জাহাজে সমস্ত নাবিক কর্মীর মোট সংখ্যা ৭৩ জন. এর অস্ত্র সজ্জা – চারটি ৫৩৩ মিলিমিটার ক্যালিবারের ও চারটি ৬৫০ মিলিমিটার ক্যালিবারের টর্পেডো নিক্ষেপের যন্ত্র.

    রাশিয়ার ভারতীয় দের সহায়তা করছে এই ডুবোজাহাজের নাবিকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে. আগামী বছরে ভারতীয়রা আশা করেন যে, নিজেদের নৌবাহিনীতে “আরিহান্ত” পারমানবিক ডুবোজাহাজ তারা যোগ করতে পারবেন, আর সম্পূর্ণ পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজের দল ভারতে আশা করা হয়েছে ২০২০ সালের মধ্যেই তৈরী হয়ে যাওয়ার.

    এই ঘটনা নিয়ে ভারতের সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলেই বিশদ করে দেখানো হয়েছে, এই প্রসঙ্গে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ভিনয় শুক্লা জানিয়ে বলেছেন:

    “ভারতে খুবই ভাল করে বোঝা হয়েছে যে, রাশিয়া বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা ভারতের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ভাগ করতে তৈরী আছে ও তাকে সেই ধরনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে তৈরী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পারমানবিক ডুবোজাহাজ ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান. এটা আরও একটি প্রমাণ যে, এই দুই দেশের মধ্যে চলছে খুবই বিশেষ ধরনের সুবিধাজনক সহযোগিতা”.

    এই পারমানবিক ডুবোজাহাজ অর্পণ অনুষ্ঠানের পরে ভারতস্থিত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন “রেডিও রাশিয়াকে” এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন. তিনি তাতে আজকের দিনকে – ক্যালেন্ডারের লাল অক্ষরে লেখা দিন বলে উল্লেখ করেছেন, যা ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিহাসে ও ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে উল্লিখিত হবে. তিনি বলেছেন:

    “আমি সেই বাস্তব বিষয়কেই বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাই যে, এই ডুবোজাহাজ অর্পণের ঘটনা এক স্মরণীয় ঘটনার তারিখের আগেই ঘটল, তা হল দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পয়ষট্টি বছর (যা তেরই এপ্রিল পালন করা হবে), আর তারই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি দিবসেরও আগে, যা পালিত হবে গ্রীষ্ম কালে. আমি তারই সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই যে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী অ্যান্টনি নিজের বক্তৃতায় খুবই উষ্ণ ভাষায় আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিশেষ করে সুবিধা জনক সহযোগিতা নিয়ে বলেছেন আর তার মধ্যে সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রও রয়েছে, এরই উজ্জ্বল উদাহরণ হয়েছে এই পারমানবিক ডুবোজাহাজ অর্পণ. রাশিয়া বিশ্বের অন্য কোনও দেশই যে কাজ করবে না, তা করে থাকে: খুবই দাক্ষিণ্যের ও ঔদার্যের সাথে ভারতের সঙ্গে নিজেদের সর্ব শ্রেষ্ঠ জিনিস গুলি ভাগ করে নিয়ে থাকে. আমার এই অনুষ্ঠানের ভাষণে আমি একটি কৌতুক করেছি ও তা আপনাদের কাছে আবার করে বলে নিতে চাই”.

রেডিও রাশিয়ার শ্রোতাদের প্রতি ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেন

“এই পারমানবিক ডুবোজাহাজ “চক্র” আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ফল- আমাদের সন্তান. তার মজবুত রুশ হৃদয় – রিয়্যাক্টর ও ভারতীয় মন কাড়া হাসি”.

শ্রদ্ধেয় ভারতীয় শ্রোতারা, সম্ভবতঃ আপনাদের মধ্যে অনেকেই বিশাখাপত্তনম বন্দরের এই অনুষ্ঠান টেলিভিশনে দেখেছেন, অথবা ভারতীয় টেলিভিশনে পরে দেখবেন, তাই আসুন সকলে মিলে আমরা “চক্রকে” অভিনন্দন জানিয়ে বলি – সমুদ্র যাত্রা শুভ হোক!