২১শে এপ্রিল রাশিয়া ও বিদেশে এক ব্যাকরণ শুদ্ধ লেখা নিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে – নাম “সম্পূর্ণ শ্রুতিলিখন”. প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষ তাতে অংশ নেবেন.

    এই পরীক্ষার সরকারি সাইটে জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ শ্রুতিলিখন এই জন্যই আয়োজন করা হয়েছে যাতে মানুষের দৃষ্টি পড়ে শিক্ষিত হওয়ার দিকে ও ব্যাকরণ শুদ্ধ ভাবে লেখার দিকে. আয়োজকরা মনে করেছেন যে, যদি এর আগে শুদ্ধ ভাবে লেখার অভ্যাস ও পড়াশোনা জানার মানে হত সমাজে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান জনক অবস্থানের লক্ষণ, তবে বর্তমানে এই ক্রেতা সংস্কৃতি সমস্ত দিক নির্দেশই পাল্টে দিয়েছে. শুদ্ধ ভাষায় যারা লিখতে পারেন, তাঁদের মনে করা হয় অসফল ও বিরক্তিকর মানুষ বলে আর তা যুব সমাজের ধারণায় খুবই বোরিং ব্যাপার.

    “সম্পূর্ণ শ্রুতিলিখন” এই কারণেই করা হচ্ছে, যাতে এই ধরনের বাঁধা ধরা ধারণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ও শিক্ষিত হওয়াকে একটা ফ্যাশনে পরিণত করা যায়. তা যেন প্রমাণ করতে পারে যে, সঠিক ভাবে কমা দাঁড়ি ব্যবহার করতে পারা – এটা আসলে সত্যিকারের সফল ও আত্ম বিশ্বাসী মানুষের লক্ষণ.

    এই পরীক্ষার সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের সমস্ত ইচ্ছুক লোকই একই সময়ে শ্রুতিলিখনে অংশ নেবেন. এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ সম্পূর্ণ ভাবেই বিনামূল্যে করা যাবে.

    এই শ্রুতিলিখন এই ভাবে করা হবে: একটি ভিডিও তোলা হবে, যেখানে লেখক নিজের লেখা পাঠ করবেন. ভিডিও পাঠানো হবে সেই সমস্ত জায়গায়, যেখানে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে, তার অব্যবহিত আগে. এর পরে সেই সব জায়গার ভাষাবিদ পেশাদার লোকরা সমস্ত ইচ্ছুকদের এটি পাঠ করে শোনাবেন ও তাঁরা সেই সময়ে লিখবেন.

    যেহেতু এই বছরে এই শ্রুতিলিখন হবে এমন সমস্ত শহরে, যা সময়ের ব্যবধানে আলাদা, তাই এই পাঠের বিষয় তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে. প্রথম ভাগ লিখবে সুদুর প্রাচ্যে ও পূর্ব সাইবেরিয়ায়. দ্বিতীয় ভাগ – পশ্চিম সাইবেরিয়া ও উরাল পর্বতমালার কাছে, আর তৃতীয় অংশ – রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে.

    “সম্পূর্ণ শ্রুতিলিখন” এই নিয়ে দশম বার হতে চলেছে. তা শুরু হয়েছিল নভোসিবিরস্ক শহরের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে. এই ব্যাপার শুরু করেছিল কলা বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরা তাদের নিজেদের বন্ধু বান্ধবদের জন্য. তারা ঠিক করেছিল পদার্থবিদ্যা, অঙ্ক ও অন্যান্য বিজ্ঞান নিয়ে যারা পড়ে সেই সব ছাত্রদের ব্যাকরণ শুদ্ধতা পরীক্ষা করে দেখতে.

    ধীরে এই পরীক্ষা সারা রাশিয়া জুড়ে ও তার পরে এমনকি আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে. এই বছরে আয়োজকরা আশা করেছেন যে, তাতে অংশ নেবে রাশিয়ার ৬০টি শহর ও বিদেশের প্রায় ১০টি শহর থেকে. এটা নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, লন্ডন, প্যারিস ও অন্যান্য শহর.

    এই শ্রুতিলিখনের জন্য তৈরী পাঠ, পরীক্ষার আগে এক বিশেষজ্ঞ পরিষদ পরীক্ষা করে দেখবেন, যেখানে ভাষাবিদরা রয়েছেন. এই পরিষদ লেখকের সঙ্গে সমস্ত তর্ক হতে পারে এমন জায়গা ঠিক করে নেবেন ও পরীক্ষা করার জন্য বিশদ করে মন্তব্য লিখে দেবেন. এই শ্রুতিলিখনের পরীক্ষা করা হবে এই সব মন্তব্যের উপরে নির্ভর করে.

0    সারা বিশ্বের সমস্ত সময়ের গণ্ডি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া শেষ হলে, যে কোন ইচ্ছুক লোকই এই সাইটে ঢুকে নিজে সম্পূর্ণ ভাবে এই পাঠ পড়ে নিয়ে নিজের পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন.