রাশিয়ার এক অন্যতম বিরল জায়গা বৈকাল হ্রদের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এই বারের গরম কালের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম নেওয়া শুরু হয়েছে. এক বিশেষ সাইটে ইচ্ছুক লোকরা ১৪টির মধ্যে যে কোন একটি বেছে নিতে পারবেন, যা তাঁদের নিজেদের আগ্রহ ও সময়ের সঙ্গে মেলে.

    স্বেচ্ছাসেবকদের ছুটির সময় – বিশ্বে খুবই পরিচিত এক পর্যটনের উপায় – বৈকাল হ্রদে তা উন্নতি করা শুরু হয়েছিল বছর দশেক আগে. তার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রত্যেক বছর গরম কালে সাইবেরিয়ার মুক্তার চারপাশে পরিবেশ বান্ধব পথ তৈরী করছেন, যা সাতটি জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্য দিয়ে গিয়েছে.

    বৈকাল – বিশ্বের একটি সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা, যেখানে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন করা যেতে পারে. এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিস্টি জলের ভাণ্ডার. ২০১১ সালে বৈকাল হ্রদের ধারে প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই – বিদেশী, এই খবর "রেডিও রাশিয়াকে" জানিয়ে "বড় বৈকালের পথ" নামের প্রকল্পের যোগাযোগ অধিকর্ত্রী স্ভেতলানা শখোনভা বলেছেন:

    “বিদেশী ও রুশ স্বেচ্ছাসেবকরা সংখ্যায় প্রায় সমান. তাঁরা বিশ্বের নানা রকমের দেশ থেকে এখানে আসেন, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, সমস্ত পশ্চিম ইউরোপের মানুষই আমাদের এখানে এসেছিলেন. গত বছরে আমরা চেখ দেশের সঙ্গে খুবই ভাল এক স্বেচ্ছাসেবক বিনিময় প্রকল্প করতে পেরেছি. ইংল্যান্ড, আমেরিকা, হল্যাণ্ড, মঙ্গোলিয়া, চিন থেকেও লোকরা আসেন. একবার এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও স্বেচ্ছাসেবক এসেছিলেন”.

    স্ভেতলানা শখোনভা বলেছেন যে, বেশীর ভাগ বিদেশী স্বেচ্ছাসেবকরা একবার বৈকালে আসার পরে আবার সেখানে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন. গরম কালে যেমন এই মহান হ্রদের তীরে আবার ফিরে আসবেন জার্মানীর টর্ডস্টেন রিংক, এই তিরিশ বছরের ব্যাঙ্ক কর্মী এই নিয়ে তৃতীয় বার এখানে নিজের ছুটি কাটাচ্ছেন, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেই.

কিছু স্বেচ্ছাসেবক প্রতি বছরেই একই প্রকল্পে কাজ করেন, যেমন হামার- দাবান জঙ্গলের কাজে. এই হামার- দাবান পাহাড় বৈকাল হ্রদের দক্ষিণে সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে. এখানে গাছপালা সত্যিই মনে করিয়ে দেয় জঙ্গলের কথা, সেখানে বিশাল সব গাছ, যা হিম শীতল যুগ থেকেই এখানে রয়ে গিয়েছে, সেখানের ফার্ন গাছের উচ্চতা মানুষের চেয়েও উঁচু.

বৈকাল হ্রদের স্বেচ্ছাসেবক হওয়া সোজা কাজ নয়, প্রথম কারণ এই হ্রদের অবস্থান. রাশিয়ার রাজধানী থেকে তার দূরত্ব ৫০০০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশী. "বড় বৈকালের পথ" নামের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেদের খরচায় এখানে আসেন. সব প্রকল্পের মেয়াদ ১৪ দিন ধরে. স্বেচ্ছাসেবকরা থাকেন বৈকাল হ্রদের কাছে তাঁবুতে, কাজ করেন সপ্তাহে পাঁচ দিন খাওয়ার সময় বাদ দিয়ে ছয় ঘন্টা করে. কাজের পরে সাঁতার কাটেন ও রোদ পোহান, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করেন, স্থানীয় লোকেদের জীবন যাত্রা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হন.