রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়াতে নথিভুক্ত নয় এমন সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতৃ বৃন্দের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারের সময়ে দেশে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করা নিয়ে এক নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন. এটি রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবিত আইনের প্রকল্প গুলির মধ্যে আরও একটি, যা দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে উদার করার বিষয়ে নেওয়া হল.

    নতুন আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করার জন্য দেশে চল্লিশ হাজারের জায়গায় ৫০০ জন সদস্য থাকলেই চলবে. অনেক সহজ করা হয়েছে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া ও তার সম্বন্ধে তথ্য পঞ্জীকরণের প্রক্রিয়া. রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে প্রমাণ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে তিনি এই নতুন দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, কারণ ভয় পাওয়া হয়েছিল যে, এর ফলে প্রত্যন্তের রাজনৈতিক মতামত ও বামন আকৃতি দল গুলি আত্মপ্রকাশ করবে. কিন্তু এই সমস্ত মন্তব্য আইনটি তৈরী হওয়ার সময়ে হিসাবের মধ্যে আনা হয় নি. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “আমি মনে করি যে, আমাদের দরকার স্বাভাবিক আধুনিক পথে চলার – সেই পথে, যা দিয়ে আজ সারা পৃথিবী চলছে. আর সারা বিশ্বেই, বেশীর ভাগ দেশেই রাজনৈতিক দলের সর্ব নিম্ন সদস্য সংখ্যার বিষয়টি একেবারেই কম করে রাখা হয়েছে. তাই আমি জোর দিয়েছি, যাতে এই সংখ্যা বজায় রাখা হয়. আমি খুশী যে, জাতীয় সভা আমাকে সমর্থন করেছে”.

    রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, ক্রেমলিনে জমা হওয়া সকলেরই নিজস্ব দৃষ্টিকোণ রয়েছে, কিন্তু কিছু মূল্যবোধ আছে, যা সকলকেই এক জোট করতে পারে: দেশের নিরাপত্তা, ন্যায় সঙ্গত হওয়া, অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা, তাঁদের সমৃদ্ধি ও উচিত্ জীবনের মান.

    “রাশিয়ার সর্বজনীন জোটের” নেতা সের্গেই বাবুরিন মন্তব্য করে বলেছেন যে, যে সব দল এখনও নথিভুক্ত নয়, তারা সকলেই নথিভুক্ত হয়ে থাকা দল গুলির সঙ্গে খুবই কঠোর সংগ্রামের জন্য তৈরী, তিনি বলেছেন:

    “আমাদের আজ চল্লিশটিরও বেশী আঞ্চলিক সংস্থা তৈরী রয়েছে, আর আমি আশা করব যে, আমরা এই সদ্য স্বাক্ষরিত আইন অনুযায়ী খুবই শীঘ্র নথিভুক্ত হব. বসন্ত কালে নির্বাচনের সময়ে আমাদের প্রার্থীরা ব্যক্তিগত ভাবেই অংশ নিতে চেয়েছিলেন, আর হেমন্তে সেই সমস্ত আঞ্চলিক নির্বাচন, যা ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে রাশিয়ার সর্বজনীন জোটের প্রার্থী হিসাবে অংশ নিতে পারবেন. আমি আশা করব যে, সংবিধান সম্মত সভা আয়োজিত হবে ও আমরা তাতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নিতে পারব”.

    এই সাক্ষাত্কারের অব্যবহিত পরেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর নেতাদের খুবই বিতর্ক হয়েছে, যেখানে তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রমাণ করতে চেয়েছেন ও খুবই সক্রিয়ভাবে বিরোধী দের সমালোচনা করেছেন. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, রাশিয়াতে আগামী সময়ে রাজনৈতিক ঋতু খুবই কৌতূহলোদ্দীপক হতে চলেছে.