বিরোধী পক্ষের থেকে মায়ানমার বা বর্মার পার্লামেন্টে উপ নির্বাচনের পরে বিজয় ঘোষণা করা হয়েছে বলে এই বারে চিন, ভারত ও পশ্চিম এই দেশে নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে নতুন করে লড়াই শুরু করবে. এই রকমই মনে করেছেন স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি. বিরোধী পক্ষের নেত্রী নোবেল বিজয়িনী আউন সু চ্ঝি এই প্রথম লোকসভার সদস্য পদ পাচ্ছেন. এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই নাম দেওয়া হয়েছে “বর্মী বসন্ত” বলে.

    ২০১০ সালের ভোট গ্রহণের দিনের পরে চরমপন্থী বিরোধী আউন সু চ্ঝি তাঁর পনেরো বছর ধরে গৃহ বন্দী থাকার মেয়াদ শেষ করেছিলেন, তাই তিনি সেই বারে ভোটে অংশ নেন নি. এই বারে মানবাধিকার রক্ষা কর্মীকে ভোটে অংশ নিতে দেওয়া হয়েছিল. এটাকে মায়ানমারের প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশ্চিমের সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসার জন্য প্রতীকী বিষয় ছাড়া আর কিছু বলা যায় না. এক বছর আগে তারা অনেকটাই ছাড় দিয়েছিলেন, যখন তাঁরা সামরিক জুন্টা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন. ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রশাসনের নেতৃত্বে জেনারেল দের দেখতে চাওয়া হয় নি আর সেটাই ছিল বহু বছর ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণ.

    চিন, অন্য দিকে মায়ানমারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করেছিল, ফলে শেষ অবধি তাদের এলাকা দিয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছনোর পথও তৈরী করতে পেরেছে. পশ্চিম খোলাখুলি ভাবেই চিনের এই ভারত মহাসাগরে বেরিয়ে পড়ার সময়ে ঘুমিয়ে কাটিয়েছে, তাই এখন প্রধান বাজী ধরে বসেছে বিরোধী পক্ষের উপরে, এই কথাই মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    “এই তাস, সন্দেহ নেই যে, এবারে ফেলা হবে. আউন সান সু চ্ঝি বর্তমানে বিরোধী পক্ষের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, পশ্চিমের থেকে তাঁকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সব রকমের প্রচেষ্টাই করা হবে. এখনই বলা যাচ্ছে না যে, বিরোধী পক্ষ ক্ষমতাসীন হয়েছে, কিন্তু সম্ভাবনা রয়েছে আর তাই তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুরুপের তাসই হতে চলেছে. তারা চেষ্টা করছে এই মহিলাকে নেতৃত্বে নিয়ে আসার. এই ভাবেই পাওয়া যেতে পারে চিনের “নরম তলপেটে” আরও একটা আক্রমণের পাদভূমি”.

    একই সময়ে – বিরোধী পক্ষ কে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া – খুবই প্রতীকী পদক্ষেপ. দেশের ৪৩৫ সদস্য পদ বিশিষ্ট লোকসভায় ৪৫টি পদ খালি হয়েছিল. বর্তমানের ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীসভার মন্ত্রীরা ২০১০ সালে নির্বাচনে জিতে পাওয়া নিজেদের লোকসভার সদস্য পদ ছেড়ে দিয়ে মন্ত্রী সভায় চলে এসেছেন. বিরোধী পক্ষের বিজয় হওয়া স্বত্ত্বেও উপ নির্বাচন লোকসভার বর্তমান শক্তি সমীকরণে কোনও পরিবর্তন করতে পারবে না. সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা সকলেই সেই সমস্ত দল থেকে, যা দেশের সামরিক বাহিনীর লোকরা নিয়ন্ত্রণ করছে. অবশ্য এরাও এক বছর হল, সামরিক পোষাক ছেড়ে স্বাভাবিক পোষাকেই চলাফেরা করছেন. এটা মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান ইভগেনি কানায়েভকে নিম্ন লিখিত পূর্বাভাস দিয়ে মন্তব্য করতে সাহায্য করেছে, তিনি বলেছেন:

    “মায়ানমার ও চিনের সম্পর্ককে ঘিরে অথবা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে কোন রকমের পতন বা ধ্বংস হওয়ার মতো প্রক্রিয়া আশা করার দরকার নেই. এমনকি খুব ভাল ধরনের কিছু হলেও আসন্ন ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই. একই সময়ে চিন ও মায়ানমারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা খুবই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে. এটা মায়ানমারের প্রশাসন নিশ্চয়ই হারাতে চাইবেন না”.

    বেজিং নিজেদের দিক থেকে সব কিছুই করবে, যাতে মায়ানমারের সরকার চিনের সাহায্যকে, যা বর্তমানে তাদের আয়ত্বের মধ্যেই রয়েছে, মুঠের মধ্যে ধরা চালের মত, তাকে বদল করে আকাশের পাখির আশায়, যে পশ্চিম থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, এই ভেবে কিছু করবে না. তার ওপরে পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞা তুলতে হলে, তাদেরও চোখ বুজে থাকতে হবে, সেই বিষয়ে, যে মায়ানমারে সত্যিকারের মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ে কোনও উন্নতি বাস্তবে হয় নি.

0    “বর্মী বসন্ত” বোঝাই যাচ্ছে যে, ভারত ব্যবহার করতে চাইবে, যারা উদ্বিগ্ন চিন তাদের এই দেশে প্রথম স্থান থেকে হঠিয়ে দেওয়ার জন্য. একই সময়ে পশ্চিম মোটেও সেই কারণে নিজেদের খেলা খেলছে না যে, ভারত আবার চিনের জায়গা দখল করুক.