রাশিয়া, পাকিস্তান ও চিন আফগানিস্তান থেকে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে এক ত্রি মুখী জোট তৈরী করা নিয়ে আলোচনা করছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান ভিক্টর ইভানভ, যিনি বর্তমানে বেজিং সফরে রয়েছেন. এক মাস আগে রাশিয়া মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে আফগান মাদক পাচারের সঙ্গে লড়াই করার জন্য সামরিক ঘাঁটি তৈরী করা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে বন্ধ করে দিয়েছিল.

    বিকল্প প্রকল্পের মুখ্য বিষয় সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভিক্টর ইভানভ বলেছেন যে, আফগানিস্তানের উত্তরে বাদাখশান এলাকায় বহু মাদক তৈরীর ল্যাবরেটরী রয়েছে. এই সমস্ত খুবই দুর্গম এলাকা থেকেই কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থান হয়ে রাশিয়াতে মাদক পাচার করা হয়ে থাকে, মোট আফগানিস্তানে উত্পন্ন মাদকের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ. বাকী অংশ পাঠানো হচ্ছে চিনের সিনঝিয়ান প্রদেশে.

    ভিক্টর ইভানভ উল্লেখ করেছেন যে, আফগানিস্তানের মাদকের ট্রানজিট থেকেই অর্থ আসছে, যা দিয়ে সিনঝিয়ান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতা বাদী মানসিকতাকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে. একই ঘটনা ঘটছে উত্তর ককেশাস এলাকায়. তিনি বুঝতে দিয়েছেন যে, রাশিয়া ও চিন পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনীর কাছ থেকে নিয়মিত খবর পেতে চাইছে, যা স্থানীয় প্রজাতিদের কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে, যারা পাকিস্তানের উত্তর থেকে আফগানিস্তানে যাওয়া আসা করে থাকে. বিশেষ বাহিনী গুলির মধ্যে কাজের বিষয়ে শক্তি জড়ো করা ছাড়াও, দেশের সামরিক বাহিনীকেও তৈরী থাকতে বলা দরকার, এই রকমই বিশ্বাস করেন ভিক্টর ইভানভ.

    শেষ মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ. মস্কো বিশ্বাস করে আফগানিস্তানের মাদক পাচার নিয়ে পাকিস্তান ও চিনের সাথে খুবই ফলপ্রসূ কাজ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আর নেতিবাচক ভাবে ওয়াশিংটনের থেকে আসা পরিষেবার প্রস্তাবকে. আর সেটা হল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গুচ্ছ ঘাঁটি তৈরী করা কাজাখস্থানে, কিরগিজিয়ায়, তাজিকিস্তানে, উজবেকিস্তানে ও তুর্কমেনিয়াতে, যেখান থেকে এই সব দেশের সামরিক ও পুলিশ বাহিনী সম্বন্ধে সমস্ত রকমের নিয়মিত ও গোপনীয় খবর পাওয়া সম্ভব হতে পারে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাদক পাচারের সঙ্গে লড়াই – এটা স্রেফ অজুহাত. এখানে কথা হচ্ছে এই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক রাজনৈতিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা, এটাই মনে করে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

    “আমেরিকার লোকরা ভান করছে যে, তাদের খুব দরকার মাদক পাচারের সমাধান করা. এর আগে তাদের কাছে যখন এই প্রশ্ন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারা একেবারেই খোলাখুলি ও খুবই ন্যক্কার জনক ভাবে উত্তর দিয়েছিল যে, এটা আমাদের কাজ নয়, আমরা তালিবদের সাথে লড়াই করছি, হেরোইন নিয়ে নিজেরা যা পারেন করুন. এখন সময় এসেছে আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার, আর তাই এখন তারা অন্য উপায় খুঁজছে, কি করে এখানে থেকে যাওয়া যায়. এই অঞ্চল তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাশিয়া ও চিনের উপরে চাপ সৃষ্টি করা যায়, আর খনিজ সম্পদের উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়. বাস্তবে তারা স্রেফ মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির ভিতরে ঢুকে পড়তে চায়, সেখানে নিজেদের পাকাপাকি সামরিক উপস্থিতি আরোপ করতে চায়, একই ভাবে চিনকে নতুন সব ঘাঁটি দিয়ে ঘিরে ফেলে এই এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সমস্ত রকমের তথ্যই দখল করতে চায়”.

ভিয়েনাতে ফেব্রুয়ারী মাসের শেষে প্রাগ চুক্তি নিয়ে বৈঠকের সময়ে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে রুখে দিয়েছে. এটা আফগানিস্তানের মাদক পাচার নিয়ে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন. তখন রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, তুর্কমেনিয়া ও উজবেকিস্তানকে প্রমাণ করে দেওয়া, যাতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনও ধরনের চাপ দিয়ে করা আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ফেলে. একই সময়ে ওয়াশিংটন শুধু মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির উপরে চাপই বাড়িয়েছে. তাই এই প্রসঙ্গ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মাদক প্রতিরোধ দপ্তর গুলির প্রধানদের তৃতীয় সম্মেলনে নজরে না এসে পারে নি. সোমবারে তা বেজিং শহরে হয়েছে. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, চিন মধ্য এশিয়ার সহকর্মী দেশ গুলিকে রাজী করানোর জন্য উপযুক্ত যুক্তি বার করতে পেরেছে, যাতে তারা বোঝেন যে, এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করবে.