মস্কো লিবিয়াতে হিংসার অবসান করার জন্য আহ্বান করেছে ও এই বিষয়ে সমাধান করতে বলেছে আলোচনার মাধ্যমে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছে রুশ প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ার দক্ষিণে সেবহা শহরের কাছে সশস্ত্র প্রজাতিদের মধ্যে নিষ্ঠুর হিংসার তাণ্ডবের খবর পেয়ে. শুধু বিগত দিন গুলিতে সেখানে প্রায় ১৫০ জন নিহত ও ৪০০ জনের মত আহত হয়েছেন.

    এটা সরকারি তথ্য, বাস্তবে, সব দেখে শুনে বোঝা গিয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা অনেক বেশী. লিবিয়াতে মুহম্মর গাদ্দাফি পতনের পরে এত খানি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আগে হয় নি. সেবহা শহরে মার্চ মাসের শেষে কালো চামড়ার তুবু প্রজাতির নেতা ও তাঁর দুই কাছের লোককে হত্যা করার পরে এই সংঘর্ষের শুরু হয়েছিল. এর একটি ধারণা – এটা ছিল উলেদ- সুলেইমান প্রজাতির এক আরবের মৃত্যুর প্রতিশোধ, আবার অন্য এক ধারণায় তুবু প্রজাতির নেতা ও উলেদ- সুলেইমান দলের নেতা এক কোটি দিনার ভাগ করে নিতে পারেন নি – এটা প্রায় ৬০ লক্ষ ইউরোর সমান অর্থ, যা কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা মজবুত করার জন্য বরাদ্দ করেছিল.

    পরবর্তী কালের ঘটনাকে তুবু প্রজাতির লোকরা ব্যাখ্যা করেছেন প্রজাতি হত্যা বা গণহত্যা বলে, তারা জানিয়েছেন যে, আরব প্রজাতির লোকরা তাদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়েছে, নারী দের ধর্ষণ করেছে, শিশু ও বৃদ্ধদের নির্বিচারে হত্যা করেছে. এর উত্তরে তুবু প্রজাতির লোকরা ঘোষণা করেছে যে, তারা নিজেরাই দক্ষিণ লিবিয়ার সরকার গঠন করবে. এই ভাবেই দেশের আরও একটি ঐতিহাসিক এলাকা – ফেজ্জান – স্বয়ং শাসিত হতে চেয়েছে. এর আগে স্বশাসনের কথা ঘোষণা করেছিল কিরেনাইকা এলাকা বেনগাজী শহরকে রাজধানী করে, যা দেশের খুবই কম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে ক্ষিপ্ত করেছিল. স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো মনে করেন যে, এটা গৃহযুদ্ধের লক্ষণ, তাই তিনি বলেছেন:

    “লিবিয়া রাষ্ট্র পতনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে. ভবিষ্যত সম্ভাবনা – সম্পূর্ণ রকমের সোমালির মতো হয়ে যাওয়া, যার মানে আমি করতে চেয়েছি সবাই সবাইয়ের বিরুদ্ধে লড়ছে. আরবরা ইতিমধ্যেই তুবু প্রজাতির বিরুদ্ধে লড়ছে, তুবু প্রজাতি লড়ছে – তুয়ারেগ দের সাথে, তুয়ারেগ প্রজাতি আরবদের সাথে. পূর্বের আরব প্রজাতি লড়বে পশ্চিমের সঙ্গে. পূর্বে ঐস্লামিকদের সঙ্গে কম চরমপন্থী আরবরা লড়াই করবে. ঐস্লামিকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে উচ্চ কোটির প্রজাতিরা. প্রজাতি দ্বন্দ্ব লিবিয়াতে আসন্ন সময়ে শুধু বেড়েই যাবে আর খুব সম্ভবতঃ এমন অবস্থা করবে, যে এই দেশই আর থাকবে না. কোন রকমের সন্দেহ না করেই বলা যেতে পারে যে, লিবিয়া সমগ্র ভূমধ্য সাগরীয় এলাকাতেই স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার উত্স হতে চলেছে. সেখান থেকে চরমপন্থীদের উদ্ভব হবে, সন্ত্রাসবাদী আসবে সমগ্র পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই আর তার পরে ইউরোপেও”.

    এরই মধ্যে কালো চামড়ার লোক ও আরবদের বিরোধ লিবিয়ার দক্ষিণে আঞ্চলিক হয়ে দাঁড়াতে চলেছে. তুবু প্রজাতি হুমকি দিয়েছে যে, তারা সাহায্যের জন্য নিজেদের প্রজাতির লোকদের কাছে আবেদন করবে, যারা পাশের চাদ ও নিগের দেশে থাকে. তাছাড়া তারা খনিজ তেলের পাইপ লাইন বিস্ফোরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর এর অর্থ হল – আন্তর্জাতিক বিরোধের সম্ভাবনার মুখোমুখি হওয়া, কারণ পশ্চিম খুব বেশী করেই লিবিয়ার খনিজ তেলের উপরে ভরসা করে বসে আছে.

    এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে যখন খনিজ তেলের উত্স এক প্রজাতির হাতে ও অন্য স্বশাসিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে তা পাইপে যাচ্ছে, আর তা রপ্তানী করা হচ্ছে একেবারে অন্য প্রজাতির শাসিত অঞ্চলের বন্দর দিয়ে. এই বিষয়কে লক্ষ্য করে নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

    “লিবিয়াতে আজ একমাত্র বাস্তব শক্তি – প্রজাতি গুলি, অপরাধী দল, জঙ্গী, যারা গাদ্দাফি প্রশাসনের পতনের জন্য গোষ্ঠী গুলিকে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারাই. তারা এর এলাকাকে ভাগ করেছে, ঠিক একই রকম ভাবে, যেমন এটা হয়ে থাকে সুদান অথবা সোমালি দেশে. লিবিয়াতে বিপুল পরিমানে খনিজ তেলের সঞ্চয়ের কথা মনে করলে, আমরা দেখতে পাবো, পরিকল্পনা করে নানা প্রজাতির মধ্যে যুদ্ধ, ঠিক একই রকমের, যা আমরা আজ সোমালিতে দেখতে পেয়েছি, যেখানে ইউরেনিয়ামের প্রচুর সঞ্চয় রয়েছে, সুদানে ও দক্ষিণ সুদানে, যেখানে খনিজ তেলের উত্স ও পাইপ লাইনের ভাগাভাগি শেষ হয় নি, আর এখন কিছুতেই ঠক করতে পারছে না, কি করে এই গুলির জন্য এক হওয়া যেতে পারে”.

    লিবিয়ার আলজিরিয়া সীমান্তের কাছের অঞ্চলে আরব ও তুয়ারেগ প্রজাতির লোকদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে খনিজ তেলের থেকে পাওয়া “অর্থের” ভাগের জন্য. তুয়ারেগ ও তুবু প্রজাতির লোকরা ভীত যে, তাদের খনিজ তেলের থেকে প্রাপ্য বরাদ্দ দেওয়া হবে না, যা মুহম্মর গাদ্দাফির সময়ে দেশের খনিজ তেল সংক্রান্ত অঞ্চলের সব সংখ্যা লঘিষ্ট প্রজাতির লোকরাই পেয়ে এসেছে. অর্থাত্ আগামী বিবাদ গুলির পরিকল্পনা আগে থেকেই করা রয়েছে.