সাম্বো – রাশিয়াতে সৃষ্টি করা এক কুস্তি ধরনের খেলা, - সম্ভবতঃ, তা শীঘ্রই অলিম্পিকে একটি খেলার বিষয় হতে চলেছে. এই মল্ল যুদ্ধ গ্রেট ব্রিটেনের পক্ষ থেকে খুবই অর্থবহ সহায়তা পেয়েছে – লন্ডনে কমনওয়েলথ সাম্বো সংগঠন নথিভুক্ত করা হয়েছে. তার কাজ হবে বিশ্বে সাম্বো খেলাকে জনপ্রিয় করা ও একই সঙ্গে তা অলিম্পিকের একটি বিষয় বলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা, এটাই বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন.

    সাম্বো খেলার ধারণা হল কোন রকমের অস্ত্র ছাড়াই আত্মরক্ষা করা – শুরু হয়েছিল সোভিয়েত দেশে. জাপানের জুডো ও বেশ কয়েক ধরনের বিভিন্ন জাতীয় এই ধরনের আত্মরক্ষার লড়াইয়ের সংমিশ্রণে এই খেলার সৃষ্টির বছর ছিল ১৯৩৮ সাল. সাম্বো লড়াইয়ের একজন স্রষ্টা আনাতোলি খারলামপিয়েভ – বিখ্যাত জিমন্যাস্ট ও মুষ্টি যোদ্ধা. সাম্বো খেলা তার পরে সারা দুনিয়াতেই ছড়িয়ে পড়েছিল – এখন এই খেলা হয়ে থাকে প্রায় ৮০টি দেশে, আর সাম্বো সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এই নিয়ে ৪০ বছর ধরেই আয়োজন করা হচ্ছে. কিন্তু এখানে প্যারাডক্স হচ্ছে যে এই খেলার সমস্ত রকমের জনপ্রিয়তা থাকা স্বত্ত্বেও এখনও তা অলিম্পিকে ঢুকতে পারে নি, যদিও আজ থেকে তিরিশ বছর আগেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সাম্বো খেলাকে অলিম্পিকের উপযুক্ত খেলার তালিকায় নথিভুক্ত করেছিল. খুবই সম্ভবতঃ যে, এই ধরনের পরিস্থিতির দ্বিমুখী অবস্থানের কারণ ছিল রাজনৈতিক, অন্তত তাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা.

    এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, সাম্বো খেলার এই অদ্ভুত আধা অলিম্পিক মর্যাদা খুব শীঘ্রই পাল্টে যেতে পারে. ব্রিটিশ কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ গুলির আন্তর্মহাদেশীয় সাম্বো সংগঠন এই খেলাকে অলিম্পিকে নেওয়ার জন্য সহায়তা করতে পারে, এই রকমই মনে করে আন্তর্জাতিক সাম্বো ফেডারেশনের সভাপতির উপদেষ্টা আন্দ্রেই মশানভ বলেছেন:

    “এই সংগঠনের কাজ সাম্বো খেলার আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কাজে সাহায্য করবে. সম্ভবতঃ এটা ছিল শেষ রসদ, যা এই খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সাম্বো ফেডারেশন কখনও আগে কাজে লাগায় নি. এখন আমরা আমাদের খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য সমস্ত রকমের অস্ত্রই প্রয়োগ করতে পারব. প্রায় সমস্ত রকমের খেলারই এই ধরনের সংগঠন রয়েছে, যা মহা দেশীয় কারণে করা হয় না, বরং করা হয়ে থাকে প্রাক্তন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির মধ্যের সংগঠন হিসাবে”.

    সাম্বো খেলাকে অলিম্পিকের অংশ করার জন্য এই নতুন সংগঠনকে খুবই শক্তিশালী রসদ বলে আরও একজন মনে করেছেন, তিনি হলেন আন্তর্জাতিক অ্যামেচার সাম্বো ফেডারেশনের সভাপতি ভাসিলি শেস্তাকভ. এই ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সাম্বো খেলাকে কমনওয়েলথ গেমসের অংশ করা নিয়ে প্রস্তাব সমর্থন করেছেন কেন্টের প্রিন্স মাইকল, আর এই কমনওয়েলথ দেশ গুলির সাম্বো খেলা সংক্রান্ত সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন খুবই প্রভাবশালী ও বহু সামাজিক সংস্থার অভিভাবক লর্ড সাইমন রেডিং, এই কথা উল্লেখ করে ভাসিলি শেস্তাকভ বলেছেন:

    “আমরা এই প্রথমবার সাম্বো খেলার ব্যাপারে এই ধরনের উচ্চ কোটির লোকদের আকর্ষণ করতে পেরেছি. এই সব মানুষরা, যাঁরা কমনওয়েলথ দেশ গুলির সাম্বো সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট রকমের প্রশাসনিক ও আর্থিক রসদের অধিকারী. তার ওপরে কমনওয়েলথ অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা ৫৪ টি, আর এখানে গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা খুবই বড়. ব্রিটেনের কমনওয়েলথ সাম্বো সংগঠন এবারে বিশ্বে আরও দ্রুত ও সাফল্যের সঙ্গে এই খেলাকে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করবে”.

    প্রসঙ্গতঃ, গ্রেট ব্রিটেন নিজেও খুবই আগ্রহী এই কারণে যে, এই দেশে এক সময়ে সাম্বো খুবই জনপ্রিয় খেলা ছিল, এখানে আন্তর্জাতিক সাম্বো প্রতিযোগিতাও করা হয়েছিল, তাই ভাসিলি শেস্তাকভ বলেছেন:

    “সাম্বো গ্রেট ব্রিটেনে খুবই উন্নতি করেছিল. আশা করব, এখন সাম্বো নিয়ে কাজ কর্ম সক্রিয় হওয়ার পর গ্রেট ব্রিটেনে আবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তৈরী হবে এই খেলায়”.

    আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পক্ষ থেকে কোনও খেলাকে অলিম্পিকের যোগ্য করতে হলে “কম পক্ষে ৫০টি দেশে এই খেলা জনপ্রিয় হতে হয় ও অন্তত তিনটি মহাদেশে তা চালু থাকতে হয়”. সাম্বো বহু দিন আগেই এই বাধা পার হয়ে এসেছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক সাম্বো ফেডারেশনের সভাপতির উপদেষ্টা আন্দ্রেই মশানভ. এখন অল্প কাজই বাকি রয়েছে – এই খেলাকে বিশ্বে আরও বেশী জনপ্রিয় করতে হবে.