রাশিয়ার ইন্টারনেট গ্রাহকদের সংখ্যা ইউরোপের চেয়ে ব্যতিক্রমী ভাবে অঞ্চল গুলির কারণেই বেড়ে যেতে পারে. গত বছরে ইন্টারনেটে গ্রাহকদের সংখ্যা বেড়েছে শতকরা কুড়ি ভাগ, এই খবর দিয়েছে “ইয়ানডেক্স” কোম্পানী আর “সামাজিক মতামত” তহবিল থেকে হিসেব করে. প্রসঙ্গতঃ এই বিষয়ে উন্নতির ক্ষেত্রে রেকর্ড করেছে – গ্রামাঞ্চল: এখানে উন্নতি হয়েছে মোটের একের তৃতীয়াংশ. আর তা স্বত্ত্বেও আঞ্চলিক ভাবে ইন্টারনেটের প্রসার আরও বেশী দর্শনীয় হতে পারত, প্রাথমিক ভাবে তা এই নেটওয়ার্কের গুণগত মান আরও ভাল হলে, এই কথাই বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন.

ইন্টারনেট সবচেয়ে দ্রুত ও ভাল কাজ করছে আগের মতই মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে. এখানে নেটওয়ার্কের আর বাড়ার মতো কোন জায়গা নেই – প্রায় সকলেই, যাঁরা ইন্টারনেট চালু করতে চেয়েছেন, তাঁরা এর মধ্যেই তা করে ফেলেছেন.

রাশিয়ার দুটি বড় শহরে ইন্টারনেটের প্রসার হয়েছে ইউরোপীয় মানের মতই, একই সময়ে আঞ্চলিক বাজার এখনও সংপৃক্ত হওয়ার চেয়ে অনেক দূরে ও তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, এই কথাই উল্লেখ করে মিডিয়া বিশেষজ্ঞ এবং যুব সামাজিক সভার সদস্য ইগর দিদেঙ্কো বলেছেন. “ইয়ানডেক্স” উল্লিখিত নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৯৩ ভাগই যে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের বাইরে থাকেন, তা ব্যাখ্যা করা সহজ, তাই দিদেঙ্কো যোগ করেছেন:

“দেশের অঞ্চল গুলি দুই রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহর গুলির চেয়ে ঐতিহ্য মেনেই পিছিয়ে রয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও. কিন্তু এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতিই তৈরী হয়েছে, যখন দেশের এলাকা গুলিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দ্রুত ভাবেই ক্রমবর্ধমান. প্রথমতঃ, তাদের এমনিতেই শুরু হয়েছিল কম সংখ্যায়, আর দ্বিতীয়তঃ, দেশের এলাকা গুলিতে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বর্তমানে দাম সস্তা হয়ে লোকের আরও সহজলভ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে”.

 রাশিয়াতে প্রতি মাসে গড়ে পাঁচ কোটি পঁয়তাল্লিশ লক্ষ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন বলে “সামাজিক মতামত” তহবিল খবর দিয়েছে. ২০১০ সালের থেকে তা শতকরা ১৭ ভাগ বেড়েছে. আর ইন্টারনেটের সাধারন গড় গ্রাহক বিশেষজ্ঞদের মতে দুই তিন বছর আগের চেয়ে এখন কিছুটা আলাদা ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন.

এটা আগের মতই যুবক, যার অন্তত মাঝারি মানের আয় রয়েছে, বিশেষ মাঝারি অথবা উচ্চ শিক্ষা তিনি পেয়েছেন, শুধু তিনি আগের চেয়ে রাজনৈতিক ভাবে বেশী সক্রিয়. এখানে ডিসেম্বর মাসের দেশে পার্লামেন্ট নির্বাচন ও মার্চ মাসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটা বড় প্রভাব ফেলেছে. অনেক সক্রিয় গ্রাহকদের জন্যই বর্তমানে ইন্টারনেট প্রধান সংবাদ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ও সেই খানেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন. নতুন ইন্টারনেট গ্রাহকরা আজকাল খবরের সাইটে প্রায়ই নিজেদের মন্তব্য করে রাখেন ও সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে খুবই সক্রিয়ভাবে বিতর্ক তৈরী করে থাকেন.

ইন্টারনেটে শুধু যুবক সম্প্রদায়ই নয়, বর্তমানে চল্লিশোর্ধ বয়েসের লোকেরাও বেশ সক্রিয়, এই কথা যোগ করে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মিখাইল জোনেনাশভিলি বলেছেন:

“ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রবীণ প্রজন্মের লোকদের নিয়ে আসার জন্য খুবই সক্রিয়ভাবে কাজ করা হচ্ছে – অবশ্যই, সেই সমস্ত লোকদের, যাঁরা খুব একটা পারঙ্গম নন. এখানে মুখ্য হল যে, এই ধরনের গ্রাহকরা সাধারণতঃ স্কাইপে ব্যবহার করে অন্যান্য শহর এমনকি বিদেশের সঙ্গেও ফোনে কথা বলে থাকেন”.

অল্প বয়সী লোকেরা যাঁদের স্মার্ট ফোন বা প্ল্যানশেট রয়েছে, তারাই বেশী করে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন. কিন্তু এমনকি বড় শহর গুলিতেও মোবাইল ইন্টারনেটের গুণমান প্রায়ই আরও ভাল হোক বলে আশা করতে হয়.

ইন্টারনেটে রাশিয়ার উচিত্ দ্রুত উন্নতি করা, আর তা শুধু প্রসারেই নয়, গ্রাহকদের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সময় এসেছে এবারে ইন্টারনেটে ঢোকা ও তার পরিষেবার মানকেও উন্নত করার, এটাই বিশেষজ্ঞরা বলতে চেয়েছেন.