সব সময়ের মতই “রাশিয়া- হিন্দুস্থান: ঘটনা, মানুষ, তারিখ” নামের অনুষ্ঠানে আমরা সেই সমস্ত তারিখ ও মানুষদের কথা মনে করব, যাঁরা রাশিয়া ও বৃহত্তর অর্থে হিন্দুস্থান এলাকার দেশ গুলির জন্য মৈত্রী বন্ধনকে আরও মজবুত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন.

৩ থেকে ১১ই এপ্রিল ১৯৮৪ সালে মহাকাশযান “সইউজ টি – ১১” ভারতীয় মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা ও দুই রুশ মহাকাশচারী ইউরি মালীশেভ ও গেন্নাদি স্ত্রেকালভের উপস্থিতিতে পৃথিবীর কক্ষ পথে পরিক্রমা করেছিলেন. দুই দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানে সহযোগিতা এখনও চালু রয়েছে. ২০১৩ সালে কক্ষপথে দুটি রুশ মহাকাশযান পাঠানো হবে, তার প্রতিটিতেই ভারতীয় মহাকাশচারীরা থাকবেন. তাছাড়া, সম্পূর্ণ গতিতেই তৈরী করা হচ্ছে রুশ – ভারত উচ্চাকাঙ্ক্ষী চন্দ্র অভিযানের প্রকল্প.

বিখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী ও সঙ্গীতকার পণ্ডিত রবিশঙ্কর রাশিয়ার মহান কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের মতই দেখতে ছিলেন এক সময়ে, তাই তাঁর ১৯৫৪ সালের মস্কো সফরের সময়ে একজন রুশ চিত্র পরিচালক তাঁকে নিজের সেই সময়ে তৈরী করা সিনেমায় পুশকিনের ভূমিকায় অভিনয় করতে বলেছিলেন. এই বিষয়ে রবিশঙ্কর তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  “আমার সঙ্গীত – আমার জীবন” বইতে লিখেছেন, যা রুশ ভাষাতেও অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল. ৭ই এপ্রিল ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতকারের ৯২ বছর পূর্ণ হবে.

১২ই এপ্রিল ১৯৬১ সালে মানব সমাজ তার উন্নতির এক বিশাল তাত্পর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল – মহাকাশের পথ খুলে দিয়েছিল. এই দিনে রুশ মহাকাশচারী ইউরি গাগারীন বিশ্বের প্রথম মানুষ, যিনি মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেছিলেন. গাগারীনের সফল মহাকাশ ভ্রমণের পরে তিনি বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রাষ্ট্রেরই অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকে বহু দেশই চেয়েছিল প্রথম মহাকাশচারী হিসাবে সম্বর্ধনা জানাতে. ভারতে তিনি পাঁচটি শহরে গিয়েছিলেন, যেখানে তাঁকে বহু লক্ষ ভারতীয় মানুষ স্বাগত জানিয়েছিল. তাঁকে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নিজে আপ্যায়ন করেছিলেন. মুম্বাই শহরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে, তিনি বিখ্যাত “তাজমহল” হোটেলে ইউরি গাগারীন আমাদের পৃথিবীকে এক মহাকাশ যানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যা মহা বিশ্বের অনন্ত প্রসারে চলছে. তখন ইউরি গাগারীন বলেছিলেন যে, “এই মহাকাশযান সমস্ত জাতির মানুষেরই আর সেই যানের দলের উচিত্ শান্তিপূর্ণ ভাবে মৈত্রীর পরিবেশে বেঁচে থাকা”.

ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণার চার মাস আগেই ১৩ই এপ্রিল ১৯৪৭ সালে আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল. রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা ভারতের বেঁচে থাকার স্বার্থেই করা দরকার বলে বিশ্বাস করতেন, তাই এই দেশে জওহরলাল নেহরু নিজের ভগ্নী বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতকে প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করে পাঠিয়ে ছিলেন. প্রথম ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মস্কো পাঠানোর সময়ে ভাষণে নেহরু বিশেষ করে উল্লেখ করেছিলেন, “আমরা প্রতিবেশী, আর আমাদের অনেক কিছুই একই রকমের. আমাদের মধ্যে যেমন এখনও নেই, তেমনই কখনোই কোন রকমের স্বার্থের সংঘাত হবে না”. এই মন্তব্যের যথার্থতা ৬৫ বছরের ভারত – রুশ সম্পর্কই প্রমাণিত করেছে.

১৯৮৩ সালের ২১শে এপ্রিল হিন্দুস্থানের বিখ্যাত কবি, চিন্তাবিদ ও সমাজ কর্মী মুহম্মদ ইকবাল বিগত হয়েছিলেন. তিনি এক আদর্শ সমাজের স্বপ্ন দেখতেন, যা ন্যায়ের ভিত্তিতে, সাম্যে, ভ্রাতৃত্বে ও দাক্ষিণ্যের নীতিতে সম্বলিত. ঠিক একশ বছর আগে ১৯১২ সালে রাশিয়া ছিল প্রথম ইউরোপীয় দেশ, যেখানে মহম্মদ ইকবালের সৃষ্টি নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছিল. তারপর থেকেই আমাদের দেশে তাঁর কাব্য ও দার্শনিক চিন্তাধারা নিয়ে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছিল. রাশিয়ার পাঠকেরা রুশ অনুবাদে তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, হিন্দী ও উর্দু ভাষা যারা শিখছেন, সেই সমস্ত ছাত্ররা খুশী হয়েই তাঁর কবিতা মুখস্ত করে থাকেন.