পারমানবিক ডুবো জাহাজ “নেরপা” ভারতের সমুদ্র তীরের কাছে আসছে. চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ওই জাহাজকে ভারতবর্ষের কাছে দশ বছরের জন্য ভাড়ায় দিয়েছে. ভারতের নৌবাহিনীতে এই ডুবো জাহাজের নাম হবে “চক্র”. জাহাজে সমস্ত নাবিকই ভারতীয়, যাঁরা রাশিয়ার ডুবোজাহাজ কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিক্ষা পেয়েছেন, আর রাশিয়ার একটি ছোট দলকেও প্রয়োজনে লাগতে পারে ভেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে.

    বহুমুখী পারমানবিক ডুবোজাহাজ রাশিয়ার প্রিমোরস্ক অঞ্চলের কারখানায় তৈরী করা হয়েছে. এই বছরের শুরুতেই তা সমস্ত ধরনের পরীক্ষা পর্ব শেষ করেছে. যান্ত্রিক চরিত্রে “নেরপা” আমেরিকার ডুবোজাহাজ “লস- অ্যাঞ্জেলেস” ধরনের, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়া ভূ রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর উপ সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

    “বিশ্বে এই ধরনের কর্মে উপযুক্ত ডুবোজাহাজ স্রেফ নেই. ইংরেজ যে সমস্ত ডুবোজাহাজ রয়েছে, সেই গুলি দ্বিতীয় প্রজন্মের মাত্র. ফ্রান্সের ডুবোজাহাজ “রুবিস” তৈরী করা হয়েছিল সত্তরের দশকে. আমাদের জাহাজ – তৃতীয় প্রজন্মের. সঠিক করে বলতে হলে, “তৃতীয় প্রজন্মের চেয়েও অধিক গুণাবলী” সম্বলিত, আমেরিকার গুলিরই মত. আর ভাড়া হিসাবে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা হলে, তা যে কোন রকমেরই প্রতিযোগিতার উর্দ্ধে”.

    রাশিয়ার ও ভারতের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী মজবুত সম্পর্ক রয়েছে. সোভিয়েত দেশের প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই দেশের ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা লাভের স্বপক্ষে অনেকটাই সহায়তা করেছিল. ভারতের প্রথম সামরিক অস্ত্র ব্যবস্থাই ছিল সোভিয়েত দেশে তৈরী. আজ ভারতের নৌবাহিনীর শুধু ডুবোজাহাজই নয়, বিমান বাহী জাহাজ, মাইন ছোঁড়ার উপযুক্ত ফ্রিগেট, রকেট ছোঁড়ার উপযুক্ত লঞ্চ, সব কিছুই রাশিয়ার জাহাজঘাটা থেকে জলে নেমেছে. ভারতের কারখানা গুলিতে রাশিয়ার লাইসেন্স ব্যবহার করে তৈরী করা হচ্ছে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ী, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর আলেকজান্ডার খ্রামচিখিন বলেছেন:

    “ভারত আজ বিশ্বে সামরিক প্রযুক্তি আমদানীর শীর্ষ স্থানে রয়েছে. আর শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশী এই আমদানী করা হচ্ছে রাশিয়া থেকেই”.

    এখানে প্রশ্ন জাগে, কেন আমরা ভারতকে ভাড়ায় ডুবোজাহাজ দিচ্ছি? কেন তা বিক্রী করছি না? বিষয়টা হল এই যে, বিশ্বে স্ট্র্যাটেজিক সামরিক অস্ত্র বিক্রী করার কোনও আগে ঘটনা ঘটে নি, এই কথা ব্যাখ্যা করে ভূ রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর উপ সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

    “এই কারণেই রাশিয়া যুদ্ধের ফ্রন্টে ব্যবহার করার উপযুক্ত বিমান অবধি শ্রেনীর যুদ্ধ বিমান বিক্রী করে, দূরে উড়ে গিয়ে বোমা ফেলে আসতে পারে এমন স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান বিক্রী করে না. আমরা যেমন, ভারতকে টি ইউ – ২২ এম শ্রেনীর বিমান ভাড়ায় দিয়েছে”.

    ১৯৮৮ সাল থেকেই ভারত নিজেদের নৌবাহিনীতে সোভিয়েত পারমানবিক ডুবোজাহাজ কে – ৪৩ ভাড়ায় নিয়েছে. এটা দ্বিতীয় প্রজন্মের ডুবোজাহাজ. ভারতীয় নাবিকদের কথা অনুযায়ী এটা তাঁদের জন্য সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছিল. এই ডুবোজাহাজে যাঁরা কাজ করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রধান নেতৃস্থানীয় জায়গায় পৌঁছেছেন. আর বাস্তব অভিজ্ঞতা যা কে – ৪৩ ব্যবহার করার সময়ে পাওয়া হয়েছে, তা ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের ও নির্মাণ কর্মীদের নিজেদের পারমানবিক ডুবোজাহাজ তৈরী করার দিকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে. ভারতের “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” সংবাদপত্রে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে এই বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের “আরিহান্ত” নামের রকেট ছোঁড়ায় সক্ষম পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজের চালু অবস্থায় পরীক্ষা করা হবে. আর ২০১৩ সালের শুরুতেই তা বাহিনীতে সামিল করা. ভারত, এই ভাবেই, বিশ্ব ষষ্ঠ রাষ্ট্র হতে চলেছে, যাদের নৌবাহিনীতে পারমানবিক ডুবোজাহাজ রয়েছে.