ফ্রান্স ফুটবল পত্রিকা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড়মাপের মাইনে পাওয়া ফুটবলার ও প্রশিক্ষকদের তালিকায় রুশী ক্লাবগুলিতে খেলারত ফুটবলারদের ও জাতীয় টিমের প্রশিক্ষক ডিক অ্যাডভোকাটের নামও উঠেছে. বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলারদের বাজারে রাশিয়ার সক্রিয় কার্যকলাপের দৌলতেই এটা সম্ভবপর হয়েছে.

  আগের মতোই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মাইনে পাওয়া ফুটবলার হল বার্সিলোনা ক্লাবের তারকা ফুটবলার লিওনেল মেস্সি, যার বার্ষিক মাইনে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ ইউরো. ৩ কোটি ১৫ লক্ষ পায় লস-এ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির খেলোয়াড় ডেভিড বেকহ্যাম এবং রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো পায় বছরে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ইউরো. এই তালিকায় বিশেষ করে সাড়া ফেলেছে রুশী ক্লাব আনঝির ফুটবলার স্যামুয়েল এটা-ওর আবির্ভাব, তার বার্ষিক ২ কোটি ৩০ লক্ষ ইউরোর মাইনে নিয়ে. রুশী ক্লাবগুলি অনেক দিন ধরেই সক্রিয়ভাবে ফুটবলারদের কেনাবেচা করছে. তবে মুলতঃ সেসব ছিল উঠতি তারকাদের স্কুল. প্রতিভাবান বিদেশী ফুটবলাররা, যারা রাশিয়ায় সফল হয়েছে, তাদের মোটা অর্থের বিনিময়ে কিনে পরে কখনো কখনো দেড়গুন, এমনকি দ্বিগুন দামে ইউরোপে বিক্রি করা হতো. মাহাচকালার আনঝি ক্লাব এক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যারা বিশাল দামে সুপ্রতিষ্ঠিত তারকাদের কিনছে. আনঝির টপ-ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষক গুস হিড্ডিংয়েরও উচ্চ মূল্যায়ণ করেছে, যিনি ৪ বছর আগে ইউরো ফুটবল টুর্ণামেন্টে রাশিয়াকে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করতে সাহায্য করেছিলেন, তারা তাকে প্রায় ৯০ লক্ষ ইউরো বাত্সরিক মাইনে দিয়ে প্রধান প্রশিক্ষকের পদে নিয়োগ করেছে. ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে অর্থ লগ্নী করা রুশী ব্যবসায়ীদের কথাও ভুলে গেলে চলবে না. লন্ডনের চেলসি ক্লাবের মালিক রোমান আব্রামোভিচ মাঝেমধ্যেই ইউরোপকে বিস্মিত করেন বিশাল অর্থের ফুটবলার কেনাকাটা করে. আরও এক ক্রোড়পতি আলিশের উসমানভের দখলে আছে লন্ডনের আর্সেনাল ক্লাবের ২৩% শেয়ার. স্পোর্ট-এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের ফুটবল বিভাগের প্রধান বরিস বগদানোভের মতে এটা মন্দ অর্থনৈতিক সঙ্কেত নয়.

       এটা আমাদের দেশের গোটা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আভাস দেয়, খনিজ তেলের বিক্রয়মুল্য, যার ওপরে নির্ভর করে আমাদের দেশ চলছে. যারা এখন ফুটবলের পেছনে অর্থ লগ্নী করছে, তাদের আসল কাজ কারবার যদি ভালো চলে, তবে তারা লগ্নী করা চালিয়ে যাবে. 

      ফুটবল ক্রমশঃই বড়লোকের ক্রীড়ায় পরিণত হচ্ছে. বর্তমানে ইউরোপে খুব কম ক্লাবই ফুটবলের সূত্রে রোজগার করে. টপ ক্লাবগুলির মধ্যে শুধু আর্সেনালের কথা উল্লেখ করা যায়, যারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ট্র্যান্সফারের নীতি পরিচালনা করে. আর এটা তাদের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে. ২০০৫ সাল থেকে আর্সেনাল একটাও ট্রফি জিততে পারেনি. ফুটবল বিশেষজ্ঞ আন্তন লিসিন বলছেন – ফুটবল এটা এমন স্পোর্টস যার পেছনে পয়সা ঢালা দরকার.