রাশিয়া ও ব্রিক্সের আওতায় তার শরিকরা – ব্রাজিল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের, বিশ্ব ব্যাঙ্কের এবং গোটা বিশ্ব বাণিজ্য পরিচালন নীতির পরিবর্তন ঘটাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ. নয়াদিল্লীতে শীর্ষবৈঠকের শেষে গৃহীত ঘোষণাপত্রে এই কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে.

     পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঢিমেতালের কাজে অসন্তুষ্ট. তারা দাবী করেছেন, যে চলতি বছরেই যেন ঐ তহবিলে তাদের আরও বেশি ভোটাধিকার দেওয়া হয়. ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, যে তহবিলের ঋণদানের সামর্থ্য নির্ভর করে, সব সদস্যকে সমানাধিকার দেওয়া হবে কিনা তার উপর. বিশেষজ্ঞ মাক্সিম ব্রারেরস্কির মতে ব্রিক্সের দেশগুলি পাশ্চাত্য যে ভোটাধিকারের অনুপাতের রদবদলের ব্যাপারে যৌথসম্মতি অগ্রাহ্য করে চলেছে, সেটা আর বরদাস্ত করতে রাজি নয়. একইসাথে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের আর্থিক শেয়ার দ্রুত ও নিয়মিত বাড়ছে.

      এই প্রশ্নের জন্ম হয়নি আজ বা গতকাল. ২-৩ বছর আগে ব্রিক্সের দেশগুলি শীর্ষ-২০র বৈঠকে এই প্রশ্ন তুলেছিল, যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরিচালন ব্যবস্থায় তাদের প্রতিনিধিত্ব তাদের ওজনের আনুপাতিক নয়. কোটা ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছিল. চীন ও ভারত বাড়তি কিছু শেয়ার পেয়েছিল, রাশিয়ার কপালে তেমন কিছু জোটেনি. কিন্তু এই প্রক্রিয়া বাস্তবিকই বড্ড ঢিমেতালে চলছে. সুতরাং এটা ন্যায্য, যে ব্রিক্সের দেশগুলি কোটার আরও কড়া ভাগাভাগির দাবী করছে.

   ব্রিক্সের নেতৃবৃন্দ বিশ্বব্যাঙ্কের সংস্কার প্রক্রিয়ার মন্থর গতিতেও চিন্তিত. তারা ঐ সংস্থার বিবর্তনের দাবী জানাচ্ছেন, যাতে ধনী উত্তর ও দরিদ্র দক্ষিণের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা থেকে বিরত হয়ে ব্যাঙ্ক সমানাধিকার ভিত্তিক শরিকানায় মদত যোগায়. এর সুবাদে বিশ্বের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করতে সুবিধা হবে, আর তাছাড়া বহু দশক ধরে চলে আসতে থাকা বিশ্বব্যাঙ্কে দানকারী ও গ্রহণকারীদের মধ্যে ভাগও তুলে নেওয়া হবে.

    এই প্রসঙ্গে ব্রিক্সের দেশগুলির মতে, বিশ্বব্যাঙ্ককে বহুমুখী সংস্থায় বিবর্তিত করার প্রক্রিয়া এপ্রিলে নতুন অধ্যক্ষের নির্বাচনের সময় থেকেই শুরু করা যেতে পারে. ব্রিক্সের নেতৃবৃন্দের মতে, বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধানদের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ হওয়া দরকার, পেশাগত দক্ষতা অনুযায়ী. দিল্লী শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা মোটামুটি প্রায় ঠিকই করেছেন নিজেদের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার, যাতে আমেরিকার প্রথাগত একচেটিয়া অধিকার খর্ব করা যায়.

   নয়াদিল্লীর শীর্ষ সম্মেলন ধনী দেশগুলিকে এই বলে দোষারোপ করেছে, তাদের নীতির দরুনই বিশ্ব অর্থনীতি নড়বড়ে হয়েছে ও বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের উদ্রেক হয়েছে. ব্রিক্সের নেতারা উল্লেখ করেছেন, যে আমেরিকার মুদ্রানীতি ধনী পাশ্চাত্যকে একচেটিয়া সুবিধা এনে দেয়, আর বাকি দুনিয়ার উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে. এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি দেশ মুদ্রার বিষয়ে বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে. ঐ পাঁচ দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কগুলি পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. এটা পারস্পরিক আর্থিক আবর্তনের ক্ষেত্রে ডলারের অংশভাগ কমাবে, মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি কমাবে. আর তাছাড়াও ডলারের সাথে অসম্পর্কিত কনট্র্যাকটের মৌলিক দামও কমাবে.