আরবীয় নেতারা সিরিয়ার বিতর্কে বিদেশী হস্তক্ষেপের কোনোরকম সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছেন. গতকাল ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত আরব রাষ্ট্রলীগের শীর্ষ সম্মেলনের পরে ঘোষণাপত্রে সিরিয়ায় অবিলম্বে হিংসাত্মক কার্যকলাপ থামানোর আহ্বাণ জানানো হয়েছে এবং সিরিয়াবাসীদের নিজেদেরই তাদের দেশের ভবিষ্যত নির্ধারন করা উচিত বলে মন্তব্য করা হয়েছে.

   যদিও বাগদাদে ছিল যুদ্ধের ফ্রন্টের মতো পরিবেশ – সম্মেলন চলাকালে শহরে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে – আরবীয় নেতাদের মেজাজ ছিল যথেষ্ট শান্তিকামী. আরব রাষ্ট্রলীগের প্রধান নাবিল আল-আরাবির মুখ থেকে মুখ্য দাবী উচ্চারিত হয়েছে- অবিলম্বে হিংসা থামানো. লীগ রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের পদত্যাগ অথবা সিরিয়ার বিরোধীপক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করার কোনো প্রস্তাব দেয়নি.

   শুধুমাত্র টিউনিশিয়ার সাময়িক রাষ্ট্রপতি মোনসেফ আল-মারজুকি সিরিয়ার শাসন ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন. কাতার ও সৌদী আরবের প্রতিনিধিরা নীরবতা অবলম্বন করে. বাকিরা অনায়াসেই দামাস্কাসকে গণতান্ত্রিক সব উদ্যোগ বাস্তবায়িত করার জন্য সময় দিতে প্রস্তুত. এই প্রসঙ্গে বলছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ, প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ভ্লাদিমির সোতনিকভ. ---

      আরব রাষ্ট্রলীগের তুলনামুলকভাবে নরম হওয়া কোফি আন্ননের আপাত সাফল্যের কারণে. দুই সপ্তাহ আগেও মনে হচ্ছিল, যে ঐ দৌত্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে. কিন্তু আন্নন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী প্রতিনিধি রাশিয়ার সমর্থন লাভ করেছেন, এবং আমার মনে হয়, যে পরিস্থিতির নিষ্পত্তি হবে জাতিসংঘের সনদের আওতাতেই. কোফি আন্নন লক্ষ্যসাধন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ. হয়তো এটা চূড়ান্ত সাফল্য হবে না, কারণ আসাদের প্রশাসনের সাথে চরমপন্থী বিরোধীদের পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব নয়, তবে এই অভিমুখে খানিকটা অগ্রসর হওয়া সম্ভব. অবশ্যই আরব রাষ্ট্রগুলির সাম্প্রতিক পরিবর্তন বিবেচনা করা উচিত.

    লীগের শীর্ষবৈঠক আরও একবার জাতিসংঘে ও ইতিপূর্বে স্বয়ং লীগ অনুমোদিত সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কোফি আন্ননের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে. ঐ পরিকল্পনা ছয় দফার. সুপারিশ করা হচ্ছে সংঘর্ষরত সব পক্ষকে অবিলম্বে হিংসার পথ ত্যাগ করার, সব জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে সেনাবাহিনী অপসারন করার, সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষকে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাস্তা খুলে দেওয়া ও বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলির জন্য সিরিয়ায় যাতায়াতের অবাধ সুযোগ দেওয়া.

    তবে এই পরিকল্পনা বা আরব রাষ্ট্রলীগের ঐকান্তিক ইচ্ছার সাথে সব আরব রাষ্ট্র একমত নয়. বাগদাদে নীরবতা অবলম্বন করলেও কাতার ও সৌদী আরব ইতিপূর্বে একাধিকবার সিরিয়ার বিতর্কের ক্ষেত্রে বিদেশী অনুপ্রবেশের দাবী জানিয়েছে. নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইভগেনি সাতানোভস্কির মতে আরব রাষ্ট্রলীগের সদস্যদের মধ্যে ঐক্যমত নেই.---

       লীগের অনেক সদস্যদেশেরই আসাদের প্রতি মনোভাব মুয়াম্মার গদ্দাফির মতো নয়, যে তার ৪০ বছরের শাসনকালে সবার সাথে ঝগড়াঝা়টি করেছে. বাশার আসাদ সেরকম কারো সাথে বিবাদ করেনি. এবং বহু আরব রাষ্ট্রই সিরিয়ার বিতর্কে জড়াতে চায় না.

   বর্তমান পরিস্থিতিতে লীগ সিরিয়ার প্রশ্নের সমাধান করা যেন এড়িয়ে গেল. আরব রাষ্ট্রলীগের প্রধান নাবিল আল-আরাবি বলেছেন, যে অতঃপর সিরিয়া সংক্রান্ত ফাইল কোফি আন্ননের কাছে, আর সব দায়িত্বভার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঁধে. বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত মন্দ নয়.