রাষ্ট্রীয় হারমিটেজ সংগ্রহশালার ডিরেক্টর মিখাইল পিয়ত্রোভস্কি তাঁর সদ্য প্রকাশিত এক সংবাদপত্রের প্রবন্ধের নাম দিয়েছেন “আরবি ভাষার শিক্ষা”.

প্রফেসর মিখাইল পিয়ত্রোভস্কি একজন আরব প্রাচ্যের গুণগ্রাহী ও নিবেদিত প্রাণ মানুষ হিসাবে সেখানে বর্তমানে যা হচ্ছে, তার প্রতি উদাসীন থাকতে পারেন নি. আরব ইতিহাস সম্বন্ধে প্রায় ২০০ টি প্রবন্ধের লেখক, যার মধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিরল মৌলিক প্রবন্ধও রয়েছে, তিনি বৈজ্ঞানিক থেকে সংবাদ পত্রের লেখক হলেন কেন.

মিখাইল পিয়ত্রোভস্কি কি রকমের “আরবি ভাষার শিক্ষা” দিয়েছেন? কিছু লোকেদের জন্য এখন এই অঞ্চলে যা হচ্ছে তার নাম - আরব বসন্ত. মিখাইল পিয়ত্রোভস্কি মনে করেন এখানে কথা হচ্ছে – সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের. আর, সম্ভবতঃ ঐতিহ্যময় নিকট প্রাচ্যের সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিলোপের আশঙ্কা – সেই রূপে, যা গত দেড় হাজার বছর ধরে এখানে রয়েছে. “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধিকে তিনি বলেছেন:

“এই দেশ গুলি এখন বর্বরদের উপযুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে. এখানে সবচেয়ে যেটা মূল্যবান সেই আরব প্রজাতি ও আরব ঐক্যকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে. সমস্ত আরব দেশই জেনে বুঝে টুকরো হয়ে যাচ্ছে. চলছে মুসলমান ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে জোটকে ধ্বংস করা, যার উপরে ভিত্তি করে এতকাল নিকট প্রাচ্য দাঁড়িয়েছিল. খ্রীষ্টান সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বর্তমানের নিকটপ্রাচ্যের সংস্কৃতি সব মিলিয়ে ধ্বসে পড়বে. একটা বিপর্যয়ের আশু সম্ভাবনা বর্তমানে এই সমগ্র এলাকার সংস্কৃতির জন্যই তৈরী হয়েছে. এটা রাশিয়ার জন্যও বিপজ্জনক, তা শুধু সাংস্কৃতিক ভাবে নয়, রাজনৈতিক ভাবেও. কারণ প্রথমতঃ, আরব জাতীয়তাবাদ রাশিয়াতে সব সময়েই ছিল খুবই কাছের ব্যাপার. আর দ্বিতীয় কারণ, নিকট প্রাচ্যের খ্রীষ্ট ধর্ম বিশ্বাস – এটা সব সময়েই নিকট প্রাচ্যে রাশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে. পরিস্থিতি খুবই জটিল. এখন শুধু আশা রয়েছে আমাদের নিকট প্রাচ্যের সঙ্গে সহযোগিতার বহু দিনের ঐতিহ্যের উপরে”.

রাষ্ট্রীয় হারমিটেজ মিউজিয়ামে বিশ্বের একটি সবচেয়ে বড় নিকট প্রাচ্যের প্রজাতিদের শিল্প নিদর্শনের সংগ্রহ রয়েছে. আর এখন জাদুঘর তৈরী হয়েছে নিজেদের এই অংশের প্রদর্শনীকে আরও বেশী সমৃদ্ধ করার জন্য. মিখাইল পিয়ত্রোভস্কি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমাদের প্রদর্শনী তৈরীর নীতি – বিশ্বের সবচেয়ে চেনা উপায় – ভৌগলিক ভাবে. আমাদের কোনও আলাদা মুসলিম শিল্পের প্রদর্শনী নেই, তা রয়েছে আলাদা করে নির্দিষ্ট দেশের শিল্পের অংশ হিসাবে. আমাদের রয়েছে ভারতের ঐস্লামিক শিল্প, মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির শিল্পে ঐস্লামিক বিভাগ, ককেশাসের শিল্পের ঐস্লামিক বিভাগ. আলাদা করে একটি হল রয়েছে আল্তীন উর্দা বা গোল্ডেন হোর্ড (মঙ্গোল সাম্রাজ্যের) শিল্পের নিদর্শন, যার সমকক্ষ কোন প্রদর্শনী বিম্বের অন্য কোথাও নেই. কাজ চলছে এখন নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের হল গুলি তৈরী করার. এটা নতুন ধরনের প্রদর্শনী হবে. একটি অংশ বাইজেন্টাইন সভ্যতার শিল্পের নিদর্শন দিয়ে শুরু করা হবে, তারপরে থাকবে আরব খিলাফত ও তা শেষ হবে তুরস্কের শিল্প দিয়ে. দ্বিতীয় অংশ – এটা সসনিয়ন ইরানী সাম্রাজ্যের অংশ, তার পরে ইসলামের প্রসারের সময়ে ইরান ও এই প্রদর্শনী শেষ হবে ইরানে কাজার বংশের শাসনের যুগ দিয়ে”.

 বর্তমানের পরিস্থিতিতে যখন মুসলমান বিশ্বের বিভাজন দেখা দিয়েছে, সুন্নী ও শিয়া মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় হারমিটেজ এখানে “রাশিয়াতে ইসলাম, সভ্যতা গুলির গভীরে আলোচনা” নামের এক সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে. ২০১১ সালের জুন মাসে মিখাইল পিয়ত্রোভস্কি প্রথম সেটি পরিচালনা করেছেন আর, তাঁর কথামতো, এটি নিয়মিতই করা হবে, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“এটা একেবারেই মৌলিক সম্মেলন. এই ধরনের কখনও আগে হয় নি. তার বিষয় হল “রাশিয়াতে ইসলাম”, যা ঐস্লামিক বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা, ইসলাম ধর্মের আচার অভ্যাস, ঐস্লামিক শিল্প এই সব কিছুকে সংযুক্ত করে আলোচনা. এটা হয়েছে খুবই উচ্চ পর্যায়ে, আর আমরা ঠিক করেছি প্রত্যেক দুই বছরে একবার করে এই সম্মেলনের আয়োজন করার, যেখানে ইসলাম নিয়ে গবেষক বিজ্ঞানী, ধর্মীয় নেতা ও জাদুঘর গুলির কর্মীরা অংশ নেবেন. আমার মতে, মুসলিম সংস্কৃতিকে বোঝা রাশিয়াতে হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরে. ইসলাম – এটা রাশিয়ার সংস্কৃতির অংশ. তা সব সময়েই ছিল, বহু যুগ ধরে অর্থোডক্স খ্রীষ্টান ধর্মের পাশাপাশিই তা বেড়ে উঠেছে. যে রকম হয়েছিল সেই লেবানন ও সিরিয়াতেও. যাতে নিকট প্রাচ্যের ঘটনা আমাদের সকলের ভবিষ্যত হয়ে না পড়ে, তাই খুবই ভাল হবে বহু ধর্মের দেশ রাশিয়ার জীবনের থেকে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে মনে করলে”.