সুমেরু সম্পর্কে সম্মেলন, সেখানে নতুন বৈজ্ঞানিক সামুদ্রিক আবিস্কারক অভিযান – এই সব সম্পর্কে রুশী ভৌগলিক সমাজ তথ্যচিত্র ও রাশিয়ার অপ্রত্যাশিত ও দর্শনীয় জায়গাগুলি ২০১২ সালে রুশী ভৌগলিক সমাজের অধ্যক্ষ্য সের্গেই শাইগু যুব সম্প্রদায়কে আকৃষ্ট করতে চান, যাতে আগ্রহশীলতার মাত্রা আরও বাড়ে.

     দেড়শো বছর আগে রুশী ভৌগলিক সংস্থা পত্তন হওয়ার পরে তারা দেশের সব ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক, নৃতত্ত্ববিদদের সাহায্য করবে. এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে, লেনিনগ্রাদে শহরের ৮৭২ দিনের অবরোধকালেও ঐ সমাজ কার্যকল্প চালিয়ে গেছে. এমনকি রুশী ভৌগলিক সমাজের মানচিত্র রচয়িতারা লাদোঝস্কায়া হ্রদের মধ্য দিয়ে তথাকথিত ‘বাঁচবার পথের’ও আয়োজন করেছিল. জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই শাইগু বলছেন, যে যতবছর এই ভৌগলিক সমাজ বেঁচে আছে, সেই সময়ে বহু প্রাকৃতিক অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে, বহু নতুন চিন্তা-ভাবনার জন্ম হয়েছে. সের্গেই শাইগু বলছেন. ---

  রুশী ভূতত্ত্ব সমাজের সারা দুনিয়ায় প্রখ্যাতি সুমেরুতে তিয়ান-শান পর্ব্বতশৃঙ্গ আবিস্কার করে, কুমেরুতে বহু সফল অভিযান করেছে. এর জন্য ভৌগলিক সমাজের দরকার বিজ্ঞানীদের সাহায্যের, সামাজিক কর্মীদের অবদান, বাণিজ্যিক সম্প্রদায়োরও আর্থিক লগ্নি করা প্রয়োজন. আর সবচেযে বেশি দরকার,যাতে যুবসম্প্রদায় উন্নাসিক না থাকে.

   বর্তমানে ভৌগলিক সমাজের দৌলতে অমন সব অকল্পনীয় প্রকল্পের রূপায়ণ করা হচ্ছে – যেমন নজীরবিহীন তিন বছরব্যাপী তথাকথিত পৃথিবীর সব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্বলয় প্রত্যক্ষ করা, তথাকথিত রুশী আমেরিকার ভূখন্ডকে অধ্যয়ন করা, যেমনঃ আলাস্কা, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্যালিফোর্ণিয়ার খানিকটা এলাকা.

   তাছাড়াও আছে সাইবেরিয়ায় বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্বের আবিস্কার আর মিশরে তথাকথিত ফারাওনদের অধিত্যকার আবিস্কার অবিনশ্বর. সারা দুনিয়া মিশরের ঐ উপত্যকার সম্পর্কে জানে. তবে খুব কম লোকই জানে, যে রাশিয়ারও বিভিন্ন জায়গায় এমন সব স্তুপ আছে, যেখানে যেখানে প্রাচীন বেদুইনরা সমাধিস্থ আছে. এরকম একটা সমাধিক্ষেত্রে প্রায় ২০ল কেজি সোনার অলঙ্কার,  বহুরত্নসমৃদ্ধ বহু  সামরিক পদক. এই বছরে বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ জন প্রত্নতত্ত্ববিদ্যার ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিয়েছিল, যাদের মধ্যে আমেরিকার, বৃটেনের, পোর্তুগালের, পেরুর, বেলোরুশের, ইউক্রেনের ছাত্রছাত্রীরাও ছিল বলছেন সের্গেই শাইগু.---

 আধুনিক রাশিয়ার জন্য এরকম প্রকল্প অপরিহার্য. যুব সম্রদায়ের হোতা তারা হতে পারে না, যারা কাল্পনিক বাস্তবতার জগতে বাঁচে, বরং তারা,  বাস্তব জীবনে যারা অ্যাডভেঞ্চার খোঁজে, খোলা আকাশের নীচে যারা সত্যিকারের রোমাঞ্চকর উদ্দীপনা পেতে চায়, পারিপারির্শ্বকতা সম্পর্কে নতুন কিছু শিখতে চায়. এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ভৌগলিক অভিযান রুশী ভৌগলিক সমাজের জন্য খুবই উপকারক হয়েছে, এবং তাকে বিশ্বখ্যাত করেছে.

   রুশী ভৌগলিক সমাজের প্রধান সের্গেই শাইগুর ভাষায়, ২০১২ সালের পরিকল্পিত প্রকল্পগুলির মধ্যে মুখ্য হচ্ছে – ‘ভাসন্ত বিশ্ববিদ্যালয়’. ঐ প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য হল – সুমেরুতে সার্থক বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ চালানোর জন্যে যুব সম্প্রদায়কে তৈরি করা. তাদের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণাকারী অধ্যাপক মালচানোভের নামাঙ্কিত সামুদ্রিক জাহাজে লেকচার ও সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে. গ্রীস্মের সূচনায় প্রথম অভিযাত্রীদল পাড়ি দেবে. এক মাসের সামান্য কিছু বেশি সময় ধরে উচ্চশিক্ষারতরা শ্বেত ও বেরিং সাগর এলাকায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে.

   আর এপ্রিলের শুরুতে স্কুলপড়ুয়ারা সুমেরু যাবে. প্রখ্যাত রুশী পর্যটক দমিত্রি শ্পারোর নেতৃত্বে তথাকথিত ‘রুশী স্কিংইয়ের পথ – সুমেরু’ নামক বরফে ঢাকা দ্বীপ তৈরি আছে. আগামী গ্রীস্মকালে রুশী ভৌগলিক সমাজ স্কুলপড়ুয়াদের জন্যে কমপক্ষে ২০টা ভৌগলিক অভিযানের আয়োজন করবে. ছেলেমেয়েরা রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে পারে, যাতে তাদের ভৌগলিক জ্ঞান বাড়ে ও পরিবেশশূচিতা সম্পর্কে তারা বেশি সচেতন হয়. যুব সম্প্রদায়ের উপর ভরসা ও বাজি রাখা – রুশী ভৌগলিক সমাজের অগ্রসারিত কর্তব্য. এই প্রকল্পের ফল ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে. ২০১১ সালের জুলাই মাসে রাশিয়ার স্কুলপড়ুয়ারা সান-ফ্র্যানসিস্কোয় আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ১৭টি দেশের পড়ুয়াদের অতিক্রম করে দলগত বিভাগেএই প্রসঙ্গে প্রথম স্থান অধিকার করে.