ভ্লাদিমির পুতিন ও বারাক ওবামা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরে দেখা করবেন. এই বিষয়ে রাশিয়ার একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে কূটনীতিবিদ পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত সমস্ত বাস্তব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্বন্ধে বলেছেন.

    টেলিফোনে কথা বলার সময়েই রাশিয়ার নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির মধ্যে দেখা করার সময় নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছিল. বর্তমানের রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি পদে শপথ গ্রহণের কয়েক মাস পরেই এই ঘটনা ঘটতে চলেছে, ঠিক করা হয়েছে মে মাসের সাত তারিখে তা হবে. পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন সেই বিষয়ে যে, বর্তমানে মহা সমুদ্র পারে রাশিয়া বিরোধী কথার সুর খুবই শক্তিশালী হয়েছে, তা সক্রিয় ভাবে ব্যবহার করছে রিপাব্লিকান দলের লোকরা. সুতরাং, তারা এই তাস ব্যবহার করবেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে, যা এই বছরের শেষে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে. কূটনীতিবিদ ঘোষণা করেছেন যে, কথা হল কথার মতই, কিন্তু আমেরিকার রাজনীতিবিদদের নির্দিষ্ট কাজ থেকেই তাঁদের বিচার করা ঠিক হবে, প্রসঙ্গতঃ তিনি বলেছেন:

    “রাশিয়া বিরোধী কথার সুর খুবই সক্রিয় ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে রিপাব্লিকান দলের প্রার্থীদের তরফ থেকে. কিন্তু আমরা বিচার করব সেই বিষয়ে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে রাশিয়ার দিকে রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে তা দেখেই, যাঁকে নভেম্বর মাসে নির্বাচন করা হতে চলেছে. নির্দিষ্ট কাজ দেখেই, আর সেই সব কথাবার্তা শুনে নয়, যা এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি”.

    এখন রুশ- মার্কিন সম্পর্ক কিছুটা কানাগলিতে রয়েছে, যা হয়েছে ইউরোপ্রো ও অন্যান্য অনেক গুলি প্রশ্ন বিষয়ে. তা স্বত্ত্বেও দুই পক্ষই এই রকমের মনোভাব নিয়েছে যে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানোর দরকার হবে, যেখানে স্বার্থ একই রকমের, আর বিতর্কের বিষয় গুলি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই দেখা দরকার, এই কথাই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন.

    অন্য একটি প্রশ্নের অংশ ছিল ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্বন্ধে ও এই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের চারপাশ ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি. লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়া এই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য ধাপে ধাপে কাজ করার পরিকল্পনা দিয়েছে, যেখানে উল্লেখ করেছে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র গুলির একতরফা নিষেধাজ্ঞা গঠন মূলক নয় ও তা শুধু এই দেশের অর্থনীতিকে খারাপ করতেই পারে. রাশিয়ার কূটনীতিবিদের কথায়, এই সমস্যা সমাধান যোগ্য, শুধু তার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন. তিনি আরও বলেছেন:

    “খুবই নিকটবর্তী সময়ে কাজের জন্য আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থাকে সাহায্য করা যেতে পারে ও ইরানকেও করা যেতে পারে, যাতে বাকী রয়ে যাওয়া প্রশ্ন গুলিকে সমাধান করা যায়. তার সত্যই সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা এই সন্দেহের উপরে ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনাতে রয়েছে সামরিক মাত্রার বিষয়, আর আমাদের রাশিয়ারও, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়. আমাদের পারমানবিক শক্তি সম্পন্ন ইরানের প্রয়োজন নেই”.

    নিকট প্রাচ্যের মানচিত্রে আরও একটি রক্ত খচিত বিন্দু সিরিয়া. তাও আবার – রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে লড়াইয়ের জন্য প্রধান কারণ হয়েছে. লাভরভ বাশার আসাদকে আদর্শ বানিয়ে দিতে চান নি, কিন্তু একই সঙ্গে আহ্বান করেছেন সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির উপরেই রক্তপাতের জন্য সমস্ত অভিযোগ ও দায়িত্ব না চাপিয়ে দিতে, যা আজ সিরিয়াতে ঘটছে বিগত কয়েক মাস ধরেই, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “আমরা একেবারেই সিরিয়ার প্রশাসনের হয়ে সাক্ষী দিচ্ছি না, তারা দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিবাদের প্রথম দিকে ঠিক মত প্রতিক্রিয়া করে নি ও অনেক ভুল করছে, আর সেই সব জিনিস, যা তাও ঠিক দিকেই হচ্ছে, তা করা হচ্ছে অনেক পরে. দুঃখের বিষয় হল, অনেক কিছুই এর চারপাশ ঘিরে হয়েছে, যা এই বিরোধকে এত তীক্ষ্ণ করে দূরে টেনে নিয়ে গিয়েছে. কিন্তু আমরা যদি নীতি মেনে চলি, যদি সত্যই সেই দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষদের জন্য যত্নবান হই, তবে আমরা তাদেরও সমালোচনা করব, যারা এই ধরনের প্ররোচনা দিচ্ছে, তাও আবার অনেক দিন ধরেই”.

    বাসার আসাদের পরবর্তী কালের ভাগ্য নিয়ে প্রশ্নেরও রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উত্তর দিয়েছেন. সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির জন্য কি ভাল হয় না দেশের ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে মস্কো চলে আসলে, যাতে গাদ্দাফির মতন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়? লাভরভ এর উত্তরে বলেছেন যে, এটা বাশার আসাদের নিজেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত্, আর রাশিয়াতে অভিবাসন নিয়ে চলে আসার জন্য তাঁকে নিজে থেকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কেউই বলতে যাচ্ছে না.