নক্সালবাদী জঙ্গী মাওবাদীরা ভারতে দুজন ইতালির পর্যটককে ধরে আটকে রেখেছে ও ঘোষণা করেছে যে, তারা শুধু মাত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারি ফৌজ যে সাফাই অভিযান চালাচ্ছে, তা বন্ধ হলেই ছাড়া পাবে. ভারতে এর মধ্যেই সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের পূর্ব দিকের ওড়িশাতে, যেখানে বিশেষ করে সক্রিয় হয়েছে এই মাওবাদীরা ও নক্সালপন্থীরা. গত কয়েক দশক ধরেই মাওবাদীরা ভারতে প্রশাসনের পতনের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করে চলেছে. ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের খবর অনুযায়ী মাওবাদীরা গত বছরে দেশে দেড় হাজারের বেশী সশস্ত্র হানা দিয়েছে সামরিক বাহিনী ও নাগরিকদের উপরে. তারা ৫০০ জনেরও বেশী লোককে মেরে ফেলেছে. সবচেয়ে বেশী আক্রমণ করা হয়েছে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড রাজ্য গুলিতে. অর্থাত্ তথাকথিত লাল বেল্ট এলাকায়, যা নেপালের সীমান্ত থেকে দেশের দক্ষিণে অন্ধ্র প্রদেশ অবধি জায়গায় রয়েছে. ভারতের এক সারি প্রত্যন্ত এলাকা বাস্তবে মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ মাওবাদীদের কাজ কারবারকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশী বিপজ্জনক কাজ বলে উল্লেখ করেছেন.

    বিদেশী লোককে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া – এটা নতুন ব্যাপার, যা তারা প্রতিবেশী পাকিস্তানের ঐস্লামিক চরমপন্থী অথবা তালিবদের কাজের নকল হিসাবে করেছে. এখনও সরকারি ভাবে এই ধরনের বিষয় আগে কখনও প্রকাশিত হয় নি. কিন্তু এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    “ভারতীয় মাওবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে বিদেশী লোককে অপহরণের ঘটনা সম্ভবতঃ প্রথম, কিন্তু এই দেশে মোটেও প্রথমবার বিদেশী লোকরা নানা ধরনের সন্ত্রাসবাদী সংস্থা ও চরমপন্থী লোকদের হাতে ধরা পড়ছেন না. এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে কাশ্মীরে ও আসাম রাজ্যে. যেমন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আসামে অপহরণ করা হয়েছিল রুশ নাগরিকদের. তাদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা শেষ হয়েছিল খুবই ট্র্যাজিক ভাবে. এই ধরনের কাজ কারবার হচ্ছে. তার ওপরে এখন, যখন বিশ্বে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী ও চরমপন্থী সংস্থার মধ্যে খুবই সক্রিয় ভাবে অভিজ্ঞতা বিনিময় চলছে. তাই অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই যে, মাওবাদীরা খুবই হাল্কা ভাবে মানুষ অপহরণ করা শুরু করেছে”.

    ভারত সরকার বিগত সময়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক কাজ আরও সক্রিয় করেছে. গত বছরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রায় দু হাজার জঙ্গীকে, ৫৪০টি বন্দুক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে. ভারতের মন্ত্রী পি. চিদাম্বরম জানিয়েছেন যে, জঙ্গী অধ্যুষিত এলাকায় ৫টি নতুন ব্যাটালিয়ন পাঠানো হয়েছে, সেখানে সি আর পি পুলিশের সংখ্যা বর্তমানে ৭৬ হাজার অবধি বাড়ানো হয়েছে. মাওবাদীদের খপ্পরে পড়া রাজ্য গুলিতে ২ কোটি ডলারের সমান অবধি অর্থ দেওয়া হয়েছে পুলিশের থানা নির্মাণ ও তা সংরক্ষিত করার জন্য. গত বছরের শেষে ভারতের নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর পক্ষে ভারতের মাওবাদীদের এক প্রভাবশালী নেতা কোটেশ্বর রাও বা কিষেনজিকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল. তাকে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলে এক বিশেষ অপারেশনের সময়ে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল. ভারতীয় মাওবাদী জঙ্গীদের নেতৃত্বে কিষেনজি ছিল “তৃতীয় স্থানে”.

    মাওবাদীরা আজ যে ক্ষয় স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে, তা তাদের কৌশল পাল্টাতে বাধ্য করছে – এটা মাওবাদীদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ বাঁচিয়ে রাখার জন্য এক প্রাণপণ প্রচেষ্টা মাত্র.