মস্কো শহরে নতুন এক জাদুঘর আধুনিক চিত্র কলার জন্য খোলা হয়েছে. এটা রুশ বিশেষজ্ঞদের আরও বেশী করে বলা সেই জাদুঘর তৈরী হওয়ার হিড়িকের অঙ্গ. নতুন সব প্রদর্শনী খোলা হচ্ছে, পুরনো ভাণ্ডার গুলির জায়গা বাড়ানো হচ্ছে. বাস্তবে ও সাইটের মাধ্যমে জাদুঘরে যাওয়া লোকদের সংখ্যাও বাড়ছে. শিল্প সংগ্রহশালা দেখতে নিয়মিত যাওয়া লোকদের সঙ্গে অনেক নতুন আগ্রহীরাও যোগ হয়েছে – এঁরা অল্পবয়সী লোক, আর তাদের সঙ্গে জাদুঘরগুলি চেষ্টা করছে তাদেরই ভাষায় কথা বলতে.

রাশিয়ার সংস্কৃতির সবচেয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হল জাদুঘর, এই কথাই বিশেষজ্ঞরা বলেন. থিয়েটার, জলসার টিকিট প্রায়ই খুব দামী আনন্দের উপকরণ, তাই সমস্ত পরিবারের পক্ষে তা কেনার উপযুক্ত হয়ে ওঠে না. জাদুঘর এই অর্থে অনেক বেশী অতিথি বত্সল. তাও যাতে সেই গুলি সকলের জন্যই ধরা ছোঁয়ার মধ্যে থাকে, তাই সেই গুলির সংখ্যায় অনেক বেশী বাড়া উচিত্, বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করেন. কারণ রাশিয়াতে মাত্র তিন হাজার জাদুঘর – জার্মানীর তুলনায় তা অর্ধেক.

নতুন প্রদর্শনী কেন্দ্র আধুনিক শিল্পের রাষ্ট্রীয় সংগ্রহশালার ভিত্তিতে তৈরী করা হয়েছে – এই প্রকল্প সারা দেশের জন্যই করা হচ্ছে, এই কথা বলেছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা. এর জন্য হবে আলাদা প্রদর্শনী শালা ও তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে, মস্কোর আধুনিক শিল্প সংগ্রহশালার এই মর্যাদা নেই. এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রুশ সংস্কৃতি মন্ত্রী আলেকজান্ডার আভদেয়েভের মতে ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে.

এই জাদুঘর তৈরীর হিড়িক এই ভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, এখন যুব সমাজ আরও বেশী স্বেচ্ছায় সাংস্কৃতিক মূল্যমান সমেত জিনিসের সঙ্গে পরিচিত হতে চাইছে, এই কথা উল্লেখ করে কলা বিশারদ ইওসিফ বাকশ্তেইন বলেছেন:

“শহরের লোকরা, যুব সমাজ, মধ্যবিত্ত শ্রেনী খুবই সক্রিয় ভাবে আধুনিক শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হতে চাইছেন. জাদুঘরের প্রদর্শনীতে যাওয়ার লোকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া – খুবই সঙ্গত কারণেই এই আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে জড়িত”.

মনে করা যেতে পারে যে, এখন কি বিষয়েই না জাদুঘর নেই! সুবিশাল বিশ্বকোষ ভাণ্ডারের মতই – ক্রেমলিনের জাদুঘর, ত্রেতিয়াকভস্কি গ্যালারি, মস্কো শহরে পুশকিনের নামাঙ্কিত চিত্র কলা স্থাপত্যের জাদুঘর, সেন্ট পিটার্সবার্গে হারমিটেজ ও রুশ জাদুঘর তো আছেই – তাছাড়া রয়েছে বিভিন্ন কর্পোরেশন ও নানা রকমের বিশেষ বিষয় নিয়ে জাদুঘর – যেমন চায়ের জাদুঘর, মধুর অথবা চকোলেটের. যদি একশ বছর আগে সংগ্রহ করে রাখা হত সাধারণতঃ ছবি ও শিল্প সামগ্রী, আর ১৯৫০ সালের শেষে নানা রকমের সংরক্ষণ সংক্রান্ত জাদুঘর তৈরী করা শুরু হয়েছিল, যেখানে গির্জা, প্রাসাদ ও বাগান বাড়ী রাখা হয়েছিল, তবে একবিংশ শতকের শুরুতে জাদুঘর তৈরী হওয়া শুরু হয়েছে, যেখানে রাখা হচ্ছে বস্তু নয় এমন সমস্ত উত্তরাধিকার, - যেমন ঐতিহ্য আছে এমন লোকাচার, প্রযুক্তি ইত্যাদি.

তবুও এই বিশাল দেশের আয়তনের তুলনায় আগের মতই জাদুঘরের সংখ্যা যথেষ্ট নয়, বহু বিশেষজ্ঞই এই ধারণা পোষণ করেন. রাশিয়াতে তার বহু দিনের শিল্প ঐতিহ্য অনুযায়ী ও দেশের মানুষের শিল্পের চিরন্তন মূল্যবোধের প্রতি আকর্ষণের জন্যই অনেক বেশী জাদুঘর থাকা দরকার, বিশেষ করে আধুনিক শিল্পকলার. রাশিয়া – “জাদুঘরের দেশ”, রুশ জনগন জাদুঘরে যেতে ভালবাসেন ও এই বিষয়ে শিক্ষিত.

আজ রাশিয়ার জাদুঘর গুলির গণতান্ত্রিক হওয়া সেই দিকেই করা হচ্ছে, যা বিশ্বের অন্য বহু দেশে হয়েছে, - ভার্চুয়াল ক্ষেত্রে প্রসার করা হচ্ছে. রুশ জাদুঘরের প্রধান ভ্লাদিমির গুসেভ মনে করেন যে, নবীন দর্শককে তথ্য জনপ্রিয় অনুভূতির চ্যানেল দিয়েই করতে হবে. রুশ জাদুঘর ও হারমিটেজ ভার্চুয়াল বিশ্বে প্রথমে আত্ম প্রকাশ করেছিল.

এখন অনেকেই মাল্টিমীডিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করছে. যেমন, মস্কোর ডারউইন জাদুঘর, যা বিবর্তনের ইতিহাসের উদ্দেশ্যে নিবেদিত, সেখানে ঐতিহ্য বাহী বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে জীববিদ্যায় ভিডিও ও অডিও এক্সকারশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, রাখা হয়েছে ইন্টার অ্যাক্টিভ খেলার ব্যবস্থা. অনেকেই বর্তমানে ভার্চুয়াল এক্সকারশনের ব্যবস্থা করেছে.

নতুন জাদুঘরের প্রযুক্তি আরও দিনে দিনে উন্নত হবে, এটাই বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস. কিন্তু তাও “জাদুঘর গুলির কোন ভার্চুয়াল এক্সকারশনই ঐতিহ্য বাহী জাদুঘরের বিকল্প হতে পারে না, যেখানে শিল্পের আসল উদাহরণ গুলির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়”, - এটাই বিশেষ করে উল্লেখ করে ভাসিলি বীচকভ. ভার্চুয়াল এক্সকারশন হল শুধু একটা “শিল্পের প্রস্তুতি”, সত্যিকারের জাদুঘরে যাওয়ার আগে, যা করা যেতে পারে, যার শিক্ষা প্রসারের ভূমিকা কখনোই কম হবে না, বলে আস্থা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা. এই অর্থে নতুন রাষ্ট্রীয় আধুনিক শিল্পকলার জাদুঘর অনেক ধরনের দর্শকদের জন্যই একটা শিক্ষা প্রচারের কেন্দ্র হতে চলেছে, এই রকমই মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা.