রাশিয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন যা দিন দিন গঠনমূলক ধারায় পরিণত হচ্ছে. সড়ক পথে বিক্ষোভ প্রদর্শন যা সাধারণ নাগরিকের মতামত তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র তৈরী করেছে এবং এখন বিরোধী দল রাষ্ট্রের কার্যক্রমে নিজের সংযুক্ত করার উপায় খুঁজছে. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক পেক্ষাপট নিয়ে ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞরা ওই বিক্ষোভ কর্মসূচির পর্যালোচনা শুরু করেছেন.

গত বছরের শেষের দিকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই রাশিয়ার বিভিন্ন শহর ও উদ্যানগুলোতে ‘স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে’ স্লোগান শুরু হয়. চূড়ান্ত নির্বাচনে বর্তমান সরকার কারচুপি করেছে জানিয়ে সেই সময় থেকে বিরোধী দল আন্দোলন করে আসছে যা চলতে থাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত. মূলত ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহরের মত বড় বড় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়. গতবছরের ডিসেম্বর মাসে মস্কোতে বিরোধীদলের ১ লাখ সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন এবং গত ১০ মার্চ রাজধানীর প্রানকেন্দ্রে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন. বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজকরা উপস্থিতির এ সংখ্যা জানালেও সরকারি তথ্যে অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যা আরও কম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়. তবে যাই হোক, পরিসংখ্যান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাবে.

রেডিও রাশিয়াকে দেয়া সাক্ষাত্কারে এমনটি বলছিলেন এলিট রিসার্স সেন্টারের পরিচালক অলগা ক্রিসতানোভস্কায়া. তিনি বলেন, ‘সড়ক পথে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের মূল বিষয় ছিল নির্বাচন এবং তা হল ‘যান্ত্রিক বিপ্লব’. যাই হোক, নির্বাচন শেষ হল এবং অখুশী ও সমস্যা থেকেই গেল. তাই আমি মনে করছি, জনসাধারণ স্বাভাবিকভাবে পূর্বের মানসিকতায় ফিরে আসবেন. জনগন চায় গণতন্ত্র আরো বিকশিত হোক, তারা চায় রাষ্ট্র আরও স্বচ্ছ হোক’.

একদম শুরু থেকেই জানা ছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি একটি সামাজিক দলের উদ্দ্যোগ শুরু হয়. এই মন্তব্যের সাথে সম্মতি জানান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একজন সাংবাদিক আর্তোম সাবিলিন. তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহনকারীদের শতকরা ৬০ ভাগেরও অধিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং শতকরা ৮ ভাগ আছেন যাদের ২টি উচ্চশিক্ষার ডিগ্রী রয়েছে. এটি থেকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে. বড় বড় শহরগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে মধ্যম শ্রেনী যারা ইতিমধ্যে শুধুমাত্র পয়সা উপার্জন করাই শিখছেন তা নয় বরং নিজের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও চিন্তা করা শুরু করেছেন. মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এবং নিজের পশ্চাতে কোন এক শক্তি রয়েছে বলে অনুভব করছেন’.

যদিও আজকের দিনে অনেক মানুষ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা পাবার স্লোগানের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন. চিন্তামগ্ন মধ্যম শ্রেনী বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার সময় বিরোধী দলের যে সুনির্দিষ্ট কোন প্রস্তাব নেই তা খুঁজে পেয়েছেন. তাদের ভিতরে ঐক্যবদ্ধতা নেই.

যদিও, হয়ত বা বিরোধীদের একত্রীকরণ করা ঠিক না. বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেছিলেন যে, একই মুখ ও পার্টির ক্ষমতায় আসার রেওয়াজে তাদের অস্থিরতা চলে এসেছে. সমাবেশ আয়োজকরা রাজনীতিতে বহুমাত্রিক পরিবর্তনের দাবীর জন্যই ওই কর্মসূচি পালন করেন. রাশিয়ায় অনেক আগে থেকেই রাজনীতিতে সংস্কারের কাজ চলছে. হয়ত বিরোধী পক্ষ বিক্ষোভ না করলেও তা চলমান থাকত. যাই হোক, একসারি আইন তৈরির নির্দেশ দিয়ে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন এবং এ নিয়ে দুমায় বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে.

অন্যদিকে রাশিয়ার আইন মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছ. আগামী ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী  থেকে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ জন সদস্য হলেই চলবে.বর্তমানে এ সংখ্যা হচ্ছে ৪০ হাজার. যদিও ৬৮টি সংস্থার পক্ষ থেকে আবেদনপত্র জমা পরেছে. এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝাই যাচ্ছে, সরকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমাজের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে.