মস্কো শহরে “সোচী – ২০১৪” উপলক্ষে পোষাকের সংগ্রহ প্রদর্শনী হয়েছে. এটা রুশ দলের দ্বাদশ শীত অলিম্পিকের জন্য তৈরী পোষাকের একটি অংশ. এই উপস্থাপনা পর্বে যেমন বিশ্বখ্যাত রুশ খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই খেলা ছেড়ে দিয়েছেন, তেমনই তাঁরাও ছিলেন, যাঁরা এই পোষাক পরে আসন্ন অলিম্পিকে মেডেল পাওয়ার লড়াইতে নামবেন.

নতুন সংগ্রহের মধ্যে পড়ে খেলার পোষাক, জার্সি ও টুপি, যা রুশ খেলোয়াড়দের কাছে থাকবে, যেমন যে পোষাক পরে তাঁরা পদক প্রাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন অথবা সোচী শহরে ঘোরাফেরা করবেন. এর ডিজাইনের ভিত্তি হয়েছে – টুকরো কাপড়ের কাঁথার মতো অংশ. প্রতীকী ভাগ ছোট্ট সব টুকরো কাপড় দিয়ে যেন তৈরী, যার প্রতিটিই কোন লোক কাহিনীর অলঙ্করণের মতো. এই ভাবেই নতুন পোষাকের মধ্যে একত্রিত হয়েছে সারা দুনিয়ার চেনা রুশ অলঙ্করণ, ভোলোগদা অঞ্চলের ক্রুশ কাঁটার কাজ, গ্ঝেল, খখলমা ও পাভলোদারের ওড়নার আল্পনা. এই কাজে ২৮টি জাতীয় অলঙ্কারের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে. প্রতিটি জিনিসই বসকো কোম্পানীর নতুন সংগ্রহ থেকে নেওয়া হয়েছে – এটা খেলাধূলা ও সংস্কৃতির এক রঙীণ সমন্বয়, এই কাথা মনে করে অলিম্পিকের স্কেটিং চ্যাম্পিয়ন স্ভেতনালা ঝুরোভা বলেছেন:

“আমাকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, কি করে অলিম্পিকের খেলায় রাশিয়ার প্রত্যেক অঞ্চলই অংশ নিয়ে থাকে? আর এই পোষাকে তা অংশ নিযেছে. এই অলঙ্করণের প্রত্যেক ছোট নকশাই – আমাদের অঞ্চল গুলির লোক শিল্পের অংশ. এই ভাবেই সেগুলি অলিম্পিকে অংশ নেবে. আমি এর জন্য খুবই খুশী. রাশিয়া – এক বিশাল দেশ, আর তা ঐক্যবদ্ধ, এই পোষাকে তা দেখাই যাচ্ছে, অলঙ্করণেও. আমরা সুন্দর, বড় আর শক্তিশালী দেশ – এর সব কিছুই এখানে দেখা যাচ্ছে. আর তা আবার উষ্ণ এবং অতিথি বত্সল দেশও বটে. আর এই পোষাকও বলে দিচ্ছে এই সম্বন্ধে, সেখানে সংস্কৃতি ও খেলাধূলা একসাথে যুক্ত”.

এর আগের নিজস্ব সংগ্রহ ২০০২ সালে বসকো কোম্পানী প্রকাশ করেছিল. তাতে রুশ খেলোয়াড়রা তিনটি শীতের আর দুটি গ্রীষ্ম অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিল. লন্ডন অলিম্পিকেও এই পোষাকেই যাবে. এবারে সময়ে এসেছে পরিবর্তনের. অবশ্যই  খেলোয়াড়রা কিছুটা সংস্কারাচ্ছন্ন বলে ভয় পাচ্ছেন পোষাক বদলানো কে. অন্য দিকে তাঁরাও বাকীদের মতই, ভালবাসেন নতুন কিছু হলে, বিশেষ করে যদি তা দিয়ে ভাল করে সেজে ওঠা যায়, এই কথা উল্লেখ করে রুশ ববস্লে খেলোয়াড় ও সোচী অলিম্পিক যাঁর খেলোয়াড় জীবনে পঞ্চম অলিম্পিক অংশগ্রহণ হতে চলেছে, সেই আলেকজান্ডার জুবকভ বলেছেন:

“আমরা খুশী হই, যখন পোষাক বদল হয়, রঙ পাল্টায়, কারণ লোকে তখন একই রকম রঙে অভ্যস্ত হয়ে যান না. তাঁদের দেখতে পাওয়া দরকার যে, কাজ করা হচ্ছে. আর এটা সাহায্য করে আমাদের খেলোয়াড়দের উঁচু পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে, বিশেষ করে অলিম্পিকের সময়ে. সমর্থকরা এটা খুবই মূল্য দিয়ে থাকেন”.

আর্টিস্টিক জিমন্যাসটিক্সের অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়ন স্ভেতলানা খোরকিনা বলেছেন যে, অলিম্পিক দলের পোষাক – এটা শুধু পোষাকই নয়. এটা সেই রকমের ব্যাপার – যা খেলোয়াড়দের মানসিকতা তৈরী করে আর সমর্থকদেরও. সুন্দর পোষাকে নিজেদের অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী মনে হয় বেশী করে জয়ী হতেই ইচ্ছা করে.