রাশিয়াতে দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি করার জন্য রাজনৈতিক সংশোধনী ছাড়া চলতে পারে না. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের তৈরী প্রবন্ধের এটাই মূল সিদ্ধান্ত. এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনটি উপায়ের কথা প্রস্তাব করা হয়েছে. এই গুলির মধ্যে কোনটি বেছে নেওয়া উচিত্?

    “স্ট্র্যাটেজি – ২০২০” বাস্তবে – রাশিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিশোধনের পরিকল্পনা. এর প্রধান লক্ষ্য ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী হিসাবে এগিয়ে আসার জন্য, তাতেই প্রতিফলিত হয়েছিল. এটা প্রাথমিক ভাবে অর্থনীতির আধুনিকীকরণ, নতুন কাজের জায়গা তৈরী করা, আয় বৃদ্ধি ও রুশ জনগনের জীবনের মান উন্নত করা.

    বিশেষজ্ঞরা নিজেদের প্রবন্ধে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব, শুধু রাজনৈতিক সংশোধনকে শেষ অবধি করা হলে. যা প্রশাসন নিজে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে, সেই সমস্ত পরিবর্তনে শুধু বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের সংখ্যাই বেশী হবে না. এটা আবার করে সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ফিরে আসা সমস্ত স্তরেই, পৌর সভা থেকে আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও. অংশতঃ, এটা রাজ্যপাল নির্বাচনকেও স্পর্শ করে, যাদের আবার করে নির্বাচন করা হবে, নিযুক্ত করা আর হবে না.

    বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন তিন ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন. প্রথমটি – জাড্য সংক্রান্ত: সেখানে দেশের প্রশাসনকে পরবর্তী কালে আরও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রিত করা. কিন্তু আজ সকলের কাছেই বোধগম্য হয়েছে যে, এটা একটা চলে যাওয়া অধ্যায়, সুতরাং এই প্রবন্ধের গ্রন্থকারেরা এটাকে আলাদা করে খুঁটিয়ে দেখেন নি. এখন বেছে নিতে হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধরনের মধ্য থেকেই: ভারসাম্য বজায় রেখে অথবা অতি দ্রুত ভাবে. পরম্পরা বজায় রেখে শান্ত পরিবর্তনের স্বপক্ষে বলা হয়েছে যে, তা শুরু করা দরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ দিয়ে ও ধাপে ধাপে সমস্ত স্তরেই নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে, তা একেবারে স্থানীয় স্বয়ং শাসন থেকে শুরু করতে. দ্রুত ধরনে মনে করা হয়েছে সব কিছুই “তক্ষুণি ও একসাথে” করতে হবে, একেবারে প্রশাসনের সমস্ত স্তরেই অবিলম্বে স্বশাসনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, দায়িত্ব ও অর্থ যোগানের বিষয়কে প্রসারিত ভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে.

    এখন সবচেয়ে জটিল কাজ হল – কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়িত্বের বিষয়ে ভারসাম্য নির্ণয় করা, এই কথা মনে করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজভ বলেছেন:

    “ঝুঁকি বেড়েই চলেছে এক ধরনের এক নায়ক তন্ত্র শুরু হওয়ার, যখন রাজ্যের নেতা নিজের ইচ্ছানুযায়ী আঞ্চলিক নেতাদের তৈরী করে নিতে চাইবেন. এই প্রসঙ্গে মধ্য পন্থী জনপ্রিয় কথা বার্তা তাকে আবারও নির্বাচিত হতে সাহায্য করবে. তাই কোন সন্দেহই নেই যে, আমাদের খুবই সক্রিয় ভাবে ভারসাম্য খুঁজতে হবে একদিকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দায়িত্ব ও দেশের ঐক্যবদ্ধ নীতি ও কার্যকরী ক্ষমতার মধ্যে ও অন্য দিকে সন্তোষ জনক পরিমানে স্বশাসনের ব্যবস্থা ও স্থানীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতির মধ্যে”.

    এই প্রবন্ধের লেখকরা, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এই ধরনের জলে ডোবা শিলা লক্ষ্য করতে পেরেছেন এবং তাঁরা মধ্য পন্থী পরিশোধনের পথেই মত দিয়েছেন. তাঁদের মতে, পরিশোধন করা উচিত হবে দুটি ধাপে: স্থানীয় স্বশাসনের ক্ষেত্রে “গণতান্ত্রিক” পদ্ধতিকে শক্তিশালী করা এবং – তার সাথেই – তার আর্থিক স্বাধীনতাও বৃদ্ধি করা. আর প্রধান রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ হবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সেখানে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও অংশ গ্রহণ অতি দ্রুত কমিয়ে ফেলতে হবে. দেশের বৃহত্তম কোম্পানী গুলির ব্যক্তি মালিকানায় করে দেওয়া দরকার অথবা অন্তত সেখানে সরকারের অংশীদারিত্ব কমিয়ে শুধু আটকে দেওয়ার মতো শেয়ার অবধি রাখা উচিত্ হবে. সরকারি কর্পোরেশন গুলি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল এর কিয়দংশ আর থাকবেই না, অন্য গুলিকেও বেসরকারি করে দিতে হবে. আর এটাই একেবারে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে রাশিয়ার উচ্চ শিক্ষায়তন অর্থনৈতিক স্কুলের রেক্টর সের্গেই গুরিয়েভ বলেছেন:

    “সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা খুবই খারাপ মালিক. কোন রকমের আশ্চর্য কিছু হতে পারে না: রাষ্ট্র ব্যবসা করতে পারে না, এই রকমই হয়ে থাকে সমস্ত দেশে. তাদের নিজেদের কাজ রয়েছে: সরকার স্রেফ ব্যবস্থা করতে বাধ্য নীতির প্রশ্নে ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে”.

    রাশিয়ার প্রয়োজন শুধু উন্নতিই নয়, বরং গুণগত ভাবে অর্থনীতির উন্নয়ন. দেশ শুধু কাঁচামাল সরবরাহ করেই বাঁচতে পারে না. কাঁচামাল নির্ভর অর্থনীতি রাশিয়াকে প্রযুক্তিগত ভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে. এটাই পেরিয়ে আসতে বাধ্য হবে “স্ট্র্যাটেজি – ২০২০”.