রাশিয়ায় বিগত ৪ঠা মার্চের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে. ভোটের ফলাফল গণনা করা হয়েছে, নির্বাচনকে বৈধ বলে স্বীকার করা হয়েছে. ৬৩,৬% ভোট পেয়ে ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপ্রধানের পদে নির্বাচিত হয়েছেন. বোধহয়, গত নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল প্রতিবাদী আন্দোলন, শাসক কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে ও স্বপক্ষে বহুল জনসভা. তবে নির্বাচনের পরে সারা দেশে প্রতিবাদী আন্দোলন কেমন যেন মিঁইয়ে গেছে. ১০ই মার্চ মস্কোর কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত বিরোধীদের জনসভায় প্রত্যাশিত যোগদানকারীদের অর্ধেকও হাজির হয়নি. রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকেরা বিরোধীদের মধ্যে জনমত সংগ্রহ করেছে, এবং রাশিয়ায় প্রতিবাদী আন্দোলন কোন দিকে যাবে, সেটা বোঝার চেষ্টা করেছে

 ---- ১০ই মার্চ রাশিয়ার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল. জনসভার সংগঠকেরা ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিল. তুলনা করতে গেলে বলতে হয়, যে এর মাত্র একমাস আগে তারা এক লাখ মানুষকে জনসভায় সমবেত করতে পেরেছিল.

 ---- বিরোধীরা শাসক কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে ভোটদান প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও মিথ্যাচারীতার অভিযোগ হানছে. পর্যবেক্ষকদের মতে, আবিস্কৃত আইনলঙ্ঘন তুচ্ছ এবং নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না. নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনও পৃথক পৃথক ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বীকার করেছেন.

 ---- তবে অসম্মতরা সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ. সম্ভবতঃ বাম ফ্রন্টের নেতা সের্গেই উদালত্সভ সবচেয়ে কড়া ভূমিকা নিয়েছেন. তিনি নতুন করে প্রতিবাদী জনসমাবেশের আয়োজন করতে চান. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এই কথা বলেছেন....

 ---- রাশিয়ায় শাসনক্ষমতার আইনানুগতার সংকট সৃস্টি হয়েছে. সেইজন্যেই আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে আন্দোলন থেমে যাবে না. সত্ নির্বাচনের পরিবর্তে নতুন শ্লোগান হবে – সত্ ও আইনানুগ শাসনক্ষমতা. আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত হওয়ার প্রাক্কালে দশ লক্ষ মানুষের মিছিল নামাবো, যা মস্কোয় ইদানীংকালের মধ্যে বৃহত্তম জনসভায় পর্য়বসিত হবে. আমরা লাগাতর আন্দোলনেরও আয়োজন করতে পারি, তবে সবকিছু করবো আইনের কাঠামোয়.

0 ---- বিরোধীদের অন্যতম মুখ্য শ্লোগান হল – রাশিয়ায় ব্যাপক হারে রাজনৈতিক সংস্কারসাধন. এই দাবী সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে ক্রমাগতঃ উঠছে. এই দাবীর চাপে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার সাধনের কাজও শুরু হয়েছে. রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ একাধিকবার সংসদ বহির্ভুত রাজনৈতিক পার্টিগুলির নেতৃবৃল্দের সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং সংসদের নিম্নকক্ষে নতুন নতুন সব গণতান্ত্রিক আইনের খসড়া আলোচনার জন্য পেশ করেছেন. শাসক কর্তৃপক্ষ বিরোধীদের সাথে সমঝোতায় আসতে প্রস্তুত, কারণ তারা উপলব্ধি করছে, যে গঠণমুলক সংলাপ ও হিসাবী আপোষ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়তা করতে পারে.