রাশিয়া সিরিয়া নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে সহমতে আসতে রাজী, এই কথা ঘোষণা করেছেন সোমবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, এটা সম্ভব শুধু মাত্র সেই পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে, যা আরব দেশ গুলির লীগের সঙ্গে সমঝোতা পত্রে বলা হয়েছে.

নিজের ভাষণের শুরুতে লাভরভ বলেছেন, আজ তাদের খোঁজার অর্থ হয় না, যারা প্রথমে এই সব শুরু করেছিল, আর উচিত্ হবে সেই পথের সন্ধান করা, যা বাস্তবে অগ্নি সম্বরণ করতে সুযোগ করে দেবে. বোঝাই যাচ্ছে যে, প্রশাসন পরিবর্তনের দাবী  ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা, সশস্ত্র যুদ্ধে সহায়তা করা এই পথ হতে পারে না. এই গুলিকে লাভরভ নাম দিয়েছেন “ভূ- রাজনৈতিক প্রকৌশলের ঝুঁকি পূর্ণ ওষধি”. তিনি আরও বলেছেন:

“কোন সন্দেহই নেই যে, সিরিয়ার সরকার দেশে যা ঘটছে, তা নিয়ে অনেকখানি দায়িত্বের ভাগীদার. কিন্তু এটাও না লক্ষ্য করলে চলবে না যে, তারা অনেক দিন ধরেই আর নিরস্ত্র লোকদের সঙ্গে লড়াই করছে না, বরং সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে, যাদের মধ্যে তথাকথিত স্বাধীন সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ও “আল- কায়দা” সমেত অন্যান্য চরমপন্থী দলের লোকরা রয়েছে, যারা বিগত সময়ে বহু রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসবাদী কাজ কর্ম করেছে”.

এর আগে রাশিয়া আরব দেশ গুলির লীগের সদস্যরা সিরিয়ার সঙ্কট মোচনের জন্য পাঁচ দফা নীতি গ্রহণ করেছে. সের্গেই লাভরভ এই গুলিকে নিউইয়র্ক শহরে পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন: “এই পথে রয়েছে পরবর্তী পাঁচটি নীতি, যা আমরা আরব লীগের দেশ গুলির সাথে এই বছরের ১০ই মার্চে একত্রে সমঝোতা হিসাবে গ্রহণ করতে পেরেছি ও যা বর্তমানের পরিস্থিতিতে ব্যবহার যোগ্য”. এখানে কথা হচ্ছে সমস্ত পক্ষের থেকেই অস্ত্র সম্বরণের, কোন রকমের পক্ষপাতিত্ব বিহীণ পর্যবেক্ষণের, যে কোন রকমের বাইরের থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধ করার, সমস্ত সিরিয়ার লোকদের জন্যই মানবিক সাহায্যের বিষয়ে কোন রকমের বাধা হীন চলাচল. পঞ্চম নীতি হল, “রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহা সচিব ও আরব লীগের পক্ষ থেকে সমর্থন করা কোফি আন্নানের মিশনকে সর্বতঃ ভাবে সমর্থন, যার লক্ষ্য প্রশাসন ও সমস্ত বিরোধী পক্ষের মধ্যে নির্দেশিত তালিকা অনুযায়ী আলোচনার ব্যবস্থা, যা এই মিশনের কাজের মধ্যে পড়ে”. এই ভিত্তিতেই রাশিয়া তৈরী রয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে.

গ্রেট ব্রিটেনের প্রস্তাব অনুযায়ী বর্তমানের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের বিষয় গুলি এই রকম শোনায়: “নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি: বর্তমানের সমস্যা ও সম্ভাবনা”. এর প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া দরকার সঙ্কট জর্জরিত সিরিয়া ও লিবিয়া.  রাশিয়ার কূটনীতিবিদেরা এই বিষয়কে আরও প্রসারিত ভাবে আলোচনা করতে চেয়েছেন. স্থিতিশীলতার সম্বন্ধে এখনও কথা বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে, কিন্তু এখনই প্রকৃষ্ট সময় হয়েছে “আরব বসন্ত” সম্বন্ধে কিছু আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত করার, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“প্রথমতঃ, কোন এক বা অন্য আর এক পরিস্থিতিতে যে ধরনের লক্ষ্যই সামনে রাখা হোক না কেন, সেই গুলি আন্তর্জাতিক সমাজকে ভুল বুঝিয়ে বা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করে করা যেতে পারে না. এর উল্টো হলেই পরিষদের মর্যাদা হানি হয়, সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাস ভঙ্গ ঘটে, আর তার অর্থ হল- নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কালে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ক্ষমতা কমে যায়. দ্বিতীয়তঃ, সেই সমস্ত সংস্থা ও দেশ, যারা রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে দেওয়া এই দায়িত্ব পালনের জন্য তৈরী হয়, তাদের উচিত্ সম্পূর্ণ ভাবেই পরিষদের সামনে নিজেদের এই বিষয়ে কাজ সম্বন্ধে বর্ণনা দেওয়ার. এটা ন্যাটো জোটের সম্পর্কেও বলা হচ্ছে, যারা লিবিয়ার আকাশ উড়ান মুক্ত করার জন্য দায়িত্ব নিয়েছিল, অথচ কার্যত প্রবল ভাবে বোমা বর্ষণের কাজই করেছিল”.

সের্গেই লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই বোমা বর্ষণের ফলে নিহত সাধারন মানুষের মৃত্যু নিয়ে আজও কোনও তদন্ত করা হয় নি. মন্ত্রীর মতে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহা সচিবের উচিত্ হবে এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেওয়া.