জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞেরা লোকজনদের জন্য জোর করে সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রস্তাব করছেন. যাতে জনসাধারনকে ফাস্টফুড ও বহু পরিমানে লবন, চিনি ও ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করার জন্য বিশেষ শুল্ক জারী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে.

---- ১০% মিঠেতরল ও হ্যামবার্গারের দামবৃদ্ধি তাদের চাহিদা ১০ শতাংশ কমীয়ে দেবে. জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞেরা এই বিষয়ে আত্মপ্রত্যয়ী. অলিভিয়ে দে শুত্তেরের নেতৃত্বে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদল এক রিপোর্ট তিরি করেছেন, যেখানে তারা অধিক ওজন, ডায়াবেটিকস, হার্টের ব্যারাম লক্ষ্য করেছেন শিল্পোন্নত দেশগুলির বড় বড় শহরে. তথাকথিত ফাস্টফুড জয়েন্টে কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ, প্রচুর চিনি ও নুন দেওয়া খাবার পরিবেশন করা হয়. জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের দৃঢ় বিশ্বাস, যে যদি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক দ্রব্যের উপর কর বসানো হয়, এবং ঐ অর্থ স্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রচারে খরচ করা হয়, তাহলে জনসাধারণের খাদ্যপ্রীতি বদল করা সম্ভব হবে. চিকিত্সকেরা এই ব্যাপারে আরো কড়া. ডায়েটোলগ ইলেয়েনা সলমাতিনা বলছেন---

 ---- যারা দলবল মিলে এই খাবার খায়, যাদের জন্য এরকম খাবার অনিবার্য নয়, তারা খায় কর্মস্থলের কাছেই, তাড়াতাড়ি, সহজেই – এই সব লোকের জন্য এটা ভালো পরিষেবা. কিন্তু, যে লোক নিয়মিত এই খাবার খায়, তাদের জন্য এই খাবার ড্রাগের মতো হয়ে যায়. কারণ ঐ সব খাবার যারা নিয়মিত খায়, তারা নেশাবদ্ধ হয়ে পড়ে. যত বেশি খাবে, তত বেশি নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়, যত বেশি ঐ সব খাবার খাবে, তত বেশি ঐসব খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হয়, অন্য কোনো খাবার খাওয়া মুশকিল হয়ে যায়. এবং দরদাম হিসাব না করেই লোকে ঐ সব ফাস্টফুড খায়.

 ---- এখানে উল্লেখ করা দরকার, যে ফাস্টফুডের ওপর কর জারী করার ধারনা নতুন নয়. আমেরিকায়, যেখানে ২০১৪ সাল নাগাদ অর্দ্ধেকের বেশি অধিবাসী বাড়তি ওজনের রোগে ভুগবে, সেখানে কয়েকটি স্টেটে হ্যামবার্গার ও পটেটো চিপসের উপর শুল্ক জারী করা হয়েছে.

 ---- তবে সর্বদাই ফাস্টফুড ও ক্ষতিকর খাদ্য সমার্থক নয়, জোর দিয়ে বলছেন সি.এন.এনের তালিকায় বিশ্বের আটটি সেরা ফাস্টফুড জয়েন্টের অন্যতম রুশী ‘তেরেমোকে’র মুখপাত্র আন্না দানচেনকো...

দ্রুত পরিষেবা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী খাদ্য পরিবেশন করা সম্ভব. যেমন ‘তেরেমোক’ তথাকথিত ফাস্টফুড জয়েন্ট নয়, আর স্বল্পসময়ে গৃহনির্মীত সুস্বাদু ও উপকারী খাদ্য পরিবেশনালয়.

 ---- অনেক বিশেষজ্ঞই দৃঢ় প্রত্যয়, যে মিষ্টি ও তেলাক্ত খাদ্য থেকে লোকেদের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা আরোপ করে সরানো যাবে না. যেমন সিগারেটের উপর কর বৃদ্ধি করা হচ্ছে, কিন্তু সেইজন্য ধুমপায়ীর সংখ্যা কমছে না. হ্যামবার্গার ও চিপসের বিকল্প হিসাবে সব রাস্তার মোড়ে তেমনই সুস্বাদু, কিন্তু উপকারী খাবার বিক্রী করা দরকার. আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটা কোনো সমস্যাই নয়.