মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোটের লোকরা বর্তমানে সিরিয়ার সঙ্কটে সামরিক অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে. এই বিষয়ে খবর দেওয়া হয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে এক নাম দিতে অনিচ্ছুক উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে. তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ধরনের অপারেশনের লক্ষ্য বলা হবে শান্তিপ্রিয় জনগনের রক্ষার উদ্দেশ্য, তার মধ্যে উদ্বাস্তুরাও রয়েছে. কার্য ক্ষেত্রে তারা সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের সরাসরি সহযোগিতা করবে ও বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন ঘটাবে.

    কাদের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করা হচ্ছে, তা বলা হয় নি. একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, জোটের সম্ভাব্য অংশীদারদের মধ্যে এখনও কোন মতের মিল হয় নি. আপাততঃ সম্ভাব্য যুদ্ধের কাজ কারবার তাদের কাছে গুরুতর সন্দেহের কারণ হয়েই রয়েছে.

    তার মধ্যে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা শক্তির উপরে আঘাত হানার বিষয়টিও. পশ্চিমে আশঙ্কা করা হয়েছে যে, সিরিয়ার আকাশের উপরে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করা হলে তাদের বিমান বহর রুশ উত্পাদিত নতুন রকেটের সামনে পড়বে. তা দিয়ে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে. একই সময়ে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বিশ্বাস করেন যে, সিরিয়ার সঙ্কটের যারা শক্তি দিয়ে সমাধানের পক্ষপাতী, তারা শুধু  সিরিয়ার রকেটই ভয় পাচ্ছে না, তাই তিনি বলেছেন:

    “এখন সিরিয়াতে কোনও সামরিক আক্রমণ করা হবে না. তার কারণ হল যে, খুবই বেশী দাম দিতে হবে এই ধরনের বিরোধে যারা অংশ নেবে, তাদের. আমি মনে করি না যে, ন্যাটো জোটের শক্তির কাছে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তি আশঙ্কার বিষয় বা সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর শক্তি. মনে করি যে, এই অনুপ্রবেশের ভূ- রাজনৈতিক পরিনাম হবে খুবই ভারী. নিকট প্রাচ্য এলাকায় গুরুতর পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট হলে, খনিজ তেলের দাম বাড়বে নিশ্চয়ই, আর আঘাতের সামনে প্রাথমিক ভাবে পড়বে সেই ইজরায়েল. কারণ একমাত্র শক্তি, যারা সিরিয়াতে ক্ষমতায় আসতে পারে অথবা আদতে ক্ষমতার জন্য লড়াই করতে পারে, যদি পশ্চিম সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটায়, তবে এটা হবে শুধু ঐস্লামিক শক্তি. তাদের সমর্থন করছে সৌদি আরব ও কাতার দেশ. আর বিশ্বে আজ একজনও ঐস্লামিক নেই, যারা ইজরায়েলের প্রতি ইতিবাচক কোন সম্পর্ক রাখে”.

    এই কথা সত্যি যে, বর্তমানে সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমের সরাসরি অংশ গ্রহণ ভাবা যায় না. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির আখমেদভ বলেছেন:

    “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিমের অন্য কোন নেতৃ-স্থানীয় দেশও বর্তমানে সিরিয়াতে নিজেদের সেনা বাহিনী পাঠাতে আগ্রহী নয়, সরকারি জায়গা গুলিতে বোমা নিক্ষেপ করতেও রাজী নয়, যেগুলি ঘন জন বসতি পূর্ণ নিরীহ লোকদের এলাকাতে রয়েছে. খুব সম্ভবতঃ, এখন শুধু অশান্ত বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ করেই ক্ষান্তি দেওয়া হবে ও দামাস্কাসের উপরে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে”.

    তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়াতে সামরিক শক্তি সম্ভাব্য প্রয়োগের খবরের অর্থ কি? প্রথমতঃ, এই ধরনের কানাঘুষা এই লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে, যাতে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল বজায় রাখার জন্য. এই ধরনের বাহিনী বর্তমানে হারছে, যদিও তাদের দলের মধ্যে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও লিবিয়ার জঙ্গীরা রয়েছে. দ্বিতীয়তঃ, এই ধরনের কানাঘুষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই এলাকার সহযোগীদের জন্য এক ধরনের শান্ত করার জন্য সঙ্কেত, বিশেষত তাদের জন্য, যারা বাশার আসাদের সবচেয়ে বেশী বিরোধী. ওয়াশিংটনের একেবারেই ইচ্ছা নয় স্বীকার করা যে, তারা নিজেদের জোটের লোকদের একটা হার হবেই এমন হঠকারিতা করতে আহ্বান করেছে. আর আপাততঃ আমেরিকার লোকরা সময় টানছে, এই আশাতে যে, পরিস্থিতি সম্ভবতঃ সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের স্বপক্ষেই যাবে. কিন্তু এই বিষয়ে সম্ভাবনা ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে আসছে.