বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এই বছরে মে মাসে “বড় আট” অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির দেশের শীর্ষ সম্মেলনের স্থান চিকাগো শহর থেকে ক্যাম্প ডেভিডে স্থানান্তর করে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি রুশ – মার্কিন সম্পর্ক নতুন করে পরিস্কার কাগজে শুরু করতে চাইছেন. আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ঠিক করেছেন দুটি মর্যাদাময় অনুষ্ঠান “জি এইট” শীর্ষ সম্মেলন ও ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলন – বিভিন্ন জায়গায় করার. এই ক্ষেত্রে তাঁর সদ্য নির্বাচিত সহকর্মী রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে জি এইট সম্মেলনের অব্যবহিত পরেই চলে যাওয়া সম্ভব হবে, চিকাগো শহরে হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের নেতাদের সঙ্গে দেখা না করেই, আর তা রাজনৈতিক ভাবে জোর করে দেখানো হয়ে যাবে না.

    “জি এইট” ও ন্যাটো জোটের বৈঠকের জায়গা ও সময় – চিকাগো ও ২০১২ সালের মে মাস ঠিক করা হয়েছিল গত বছরে. তা স্বত্ত্বেও ১৮- ১৯ শে মে হতে যাওয়া “জি এইট” সম্মেলনের ক্ষেত্র বিষয়ে বারাক ওবামা নিজে পরিবর্তন করেছেন – চিকাগো থেকে এই সম্মেলনকে ক্যাম্প ডেভিডে মার্কিন রাষ্ট্রপতিদের শহরের বাইরের প্রাসাদে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে. এই কাজ করেই তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের দিকে এক কূটনৈতিক সম্মুখ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন. “জি এইট” শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক পরেই চিকাগো শহরে ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনের কথা, যেখানে রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মত বিরোধ থাকার কারণে রাশিয়ার নেতা যেতে চান নি. সাক্ষাতের জায়গা বদল করে বারাক ওবামা একই সঙ্গে বুঝতে দিয়েছেন যে, তিনি গঠন মূলক ভাবেই মনোভাব পোষণ করেন ও “জি এইট” সম্মেলনের অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে চান, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ আলেক্সেই আরবাতভ বলেছেন:

    “সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে যে, রকেট প্রতিরোধ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছনো আসন্ন ভবিষ্যতে সম্ভব হবে না, তাই ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে এখন ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কোন মানে হয় না আর তিনি সেখানে আপাততঃ মনে হয় যাবেনও না. এই বাস্তব কারণেই ওবামা “জি এইট” সম্মেলনের জায়গা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে পুতিন যেতেই পারেন ও রুশ মার্কিন সম্পর্ক আর একবার নতুন পাতা থেকে শুরু হতেই পারে”.

    আলেক্সেই আরবাতভের মতে, আমেরিকার নেতা রাশিয়াকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে “পুরনো অভিমান ও বোঝার ভুল ভুলে যেতে আর সহযোগিতার পথ লক্ষ্য করতে”. বিশেষ করে খেয়াল করা দরকার যে, এই সাক্ষাত্কার হবে ক্যাম্প ডেভিডে, যেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকে, আর এটাও যে, বাস্তবে এটাই হবে “নতুন করে বারাক ওবামা ও রাষ্ট্রপতি হিসাবে ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাক্ষাত্কার”. কারণ এই সময়ের আগেই পুতিন আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত হবেন.

    খুবই সম্ভবতঃ, এই সাক্ষাত্কার হবে শুধু “নীতিগত ভাবে প্রচলিত ভাষণ” বিনিময়ে নয়, বরং রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য অবস্থানকে কাছে নিয়ে আসার জন্য, এই রকম মনে করে রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য দিমিত্রি ভিয়াতকিন বলেছেন:

    “ওবামার এই ধরনের মনোভাব খুবই বাস্তব বাদীর মতো মনে হয়. রাশিয়ার অবস্থান খেয়াল না করা দূর দৃষ্টির পরিচয় হবে না. কোন সন্দেহ নেই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা নেই সিরিয়া ও ইরানের সমস্যা নিয়ে একাই সামলানোর. যাতে এই সব আলোচনার কোন অর্থ হয়, তাই প্রয়োজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবস্থান খুঁটিয়ে দেখার, প্রাথমিক ভাবে, নিকট প্রাচ্য নিয়ে, সিরিয়া ও ইরানের প্রশ্ন নিয়ে, আর এটা করা দরকার সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবেশে, যা স্বাভাবিক কথাবার্তা ও স্বাভাবিক আলোচনার উপযুক্ত হতে পারে”.

    এই সাক্ষাত্কারের একেবারে স্পষ্ট এমন প্রাক্ নির্বাচনী সাবটেক্সট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বলে বহু মার্কিন বিশেষজ্ঞ একমত হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচার জোরালো হচ্ছে, সেখানে এই দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে শুরু হওয়া বারাক ওবামার নামের সঙ্গেই জড়িত এবং তাঁর জন্য প্রমাণ করা প্রয়োজন যে, এই প্রক্রিয়া কোন কানাগলিতে আটকে নেই, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ আলেক্সেই আরবাতভ বলেছেন:

    “ওবামার নির্বাচন প্রচারের পরিস্থিতিতে খুবই জরুরী হবে দেখানো যে, কিছু অসাফল্য লক্ষ্য না করলে, আলোচনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে যতি পড়লেও, যা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে হয়েছে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তাও উন্নত হচ্ছে, আর সমাধান না হওয়া প্রসঙ্গ গুলিতে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের "পুনর্সূচনা" বিফল হয় নি”.

    ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ক্যাম্প ডেভিডের সাক্ষাত্কার গুরুত্বপূর্ণ বটেই, এই কথা বলেছেন আলেক্সেই আরবাতভ. যদি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি বেশী কাজ করেছেন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে, তবে রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁকে স্পষ্ট পররাষ্ট্র নীতি নিতে হবে. শীর্ষ সম্মেলনের জায়গা পরিবর্তন রাশিয়ার নেতার সুবিধাই করে দিয়েছে – নতুন রাষ্ট্রপতির শাসন কাল পশ্চিমের সঙ্গে বিবাদ দিয়ে শুরু করতে ইচ্ছা হয় না.