ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের পারমানবিক কেন্দ্র কুদানকুলামে দুটি তৈরী হয়ে যাওয়া বিদ্যুত শক্তি উত্পাদক রিয়্যাক্টর চালু না করে স্রেফ বন্ধ রাখতেই ভারতের কোষাগার থেকে রোজ খরচ করতে হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা অথবা দশ লক্ষ ডলারের সমান অর্থ. এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন ভারতের পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রযুক্তিগত বিষয়ের প্রধান শ্রী ভরদ্বাজ. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

শ্রী ভরদ্বাজের কথামতো, বিগত ছয় মাসে বাধ্য হয়ে বন্ধ করে রাখা এই প্রকল্পের সর্বমোট দাম আরও এক হাজার কোটি টাকা বেড়েছে. আসলে এই প্রকল্পের থেমে থাকা থেকে ক্ষতি হয়েছে আরও অনেক বেশী. ভারতের সমস্ত দক্ষিণাঞ্চলে খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে বিদ্যুত শক্তির সমস্যা. সেখানে শিল্পের উন্নতি ব্যাহত হয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, প্রশাসন পারমানবিক কেন্দ্রের চালু হওয়াকে অনন্ত কাল ধরে বন্ধ রাখতে পারে না. জাতীয় পারমানবিক শক্তি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি মনে করেন যে, “যে কোন দিনই কুদানকুলাম চালু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে”. তাঁর কথামতো, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নাবলী, যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ কারীরা ও সক্রিয় লোকেরা তুলেছিলেন,  তা দেখা হয়েছে ও এর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী করা বিশেষজ্ঞ পরিষদের পক্ষ থেকে তা যোগ্য জবাব দিয়ে সমাধান করা হয়েছে. শ্রী ভরদ্বাজ মনে করেন যে, স্থানীয় সরকার যখন এই বিষয়ে তাদের “স্বীকৃতী” দেবে, তার পর থেকে এই কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ১০০০ মেগাওয়াট মাত্রায় বিদ্যুত সরবরাহ পেতে সময় লাগবে আরও ছয় মাস. দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর আরও ৮ – ৯ মাস পরে চালু হতে পারে. কুদানকুলাম পারমানবিক কেন্দ্র আগের মতই ভাল অবস্থায় রয়েছে, তা ঘিরে প্রতিবাদ ও আটক করা চালু থাকলেও, - মন্তব্য করেছেন কর্পোরেশনের প্রতিনিধি. তাছাড়া, এত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার কারণে, বেশীর ভাগ রুশ ও ভারতীয় চুক্তি বদ্ধ নির্মাতারা এই জায়গা থেকে চলে গিয়েছেন ও এখন কর্পোরেশন থেকে আবার ফেরত আসতে বলা হচ্ছে. এটাও কিছুটা সময় নেবে. ভারতের সরকারি কর্মচারী একই সঙ্গে যোগ করে বলেছেন যে, “কুদানকুলামে” ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে যাওয়া রিয়্যাক্টর গুলি ছাড়া, পরিকল্পনা রয়েছে আরও দুটি এক হাজার মেগাওয়াট শক্তি উত্পাদনে সক্ষম একই ধরনের রিয়্যাক্টর বসানোর.

ভারতের সরকার সব সময়েই পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত প্রকল্প গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার মধ্য রুশ ভারত সম্মিলিত প্রকল্প কুদানকুলাম রয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার শক্তি ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

“এখানে উল্লেখ করতে ইচ্ছা করে যে, আসন্ন ভবিষ্যতে ভারতে খনিজ তেল ও গ্যাস যথেষ্ট পরিমানে না থাকায় এই দেশের জন্য পারমানবিক শক্তির বিকল্প কিছু থাকতে পারে না. তার ওপরে ভারত এমন একটি দেশ, যারা স্থির করেছে পারমানবিক শক্তি বিষয়ে প্রসারিত ভাবে উন্নতি করার, যাদের কাছে অনেক প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক সম্পদ রয়েছে এই ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযুক্ত ভাবে. তাই, আমার মতে, কুদানকুলামের স্থানীয় জনতার মনে যে আশঙ্কা রয়েছে – তা হল প্রাথমিক ভাবে পারমানবিক শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় জনগনের যথেষ্ট মত বিনিময় না হওয়ার ফলে তৈরী, যার ফলে তাদের এত ভুল বোঝানো সম্ভব হয়েছে”.

0কিন্তু শুধু এইটাই কি কারণ? ভারতের পারমানবিক শক্তির বাজারের দাম পনেরো হাজার কোটি ডলারের সমান. তার জন্য লড়াই করতে বিশ্বের প্রায় সব দেশই উপস্থিত, যাদের কাছে এই প্রযুক্তি রয়েছে. তীক্ষ্ণ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে. কিন্তু আপাততঃ শুধু রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাস্তবায়িত হতে পেরেছে কুদানকুলামে দুটি রিয়্যাক্টর তৈরী করে তা চালু করার মতো অবস্থায় আনা হয়েছে. সুতরাং এটাই কি প্রধান কারণ নয়, যে কারণে পশ্চিম সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলার ভারতের বেসরকারি কোম্পানী গুলিকে দিয়েছে, যারা এই পারমানবিক শক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী জোরালো প্রতিবাদ করেছে? ভারতে তাদের মধ্যে চারটির কাজ ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে. আরও ষোলটির বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত. আমেরিকার সায়েন্স জার্নালকে দেওয়া কয়েকদিন আগের এক সাক্ষাত্কারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, বেসরকারি সংস্থা যারা পারমানবিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তারা ভারতের বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনের মূল্য দেয় না.