উত্তরের নৌবাহিনীর সৈন্যরা এক নতুন ধরনের বর্ম পেয়েছেন. এই পোষাকের কাজ বহুমুখী –তা শুধু গুলির আঘাত থেকেই রক্ষা করে না, বরং প্রয়োজনের ত্রাণের জ্যাকেটের কাজও করে.

উত্তরের নৌবাহিনী – এটি রাশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীর সক্রিয় স্ট্র্যাটেজিক অংশ. তার প্রধান ঘাঁটি রয়েছে রাশিয়ার উত্তরে সিইভেরোমোরস্ক শহরে কোলস্ক উপসাগরের পারে. সামরিক নৌবাহিনীর চারটি বিভাগের মধ্যে উত্তরের নৌবাহিনী সবচেয়ে নবীন ও সবচেয়ে শক্তিশালী.

উত্তরের নৌবাহিনীর জাহাজ গুলি নিয়মিত ভাবে বহু দূরের সমুদ্র যাত্রা করে থাকে. অংশতঃ তারা আডেন উপসাগরে ও আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে জলদস্যূদের হাত থেকে মালবাহী জাহাজ বাঁচানোর জন্য প্রহরার কাজ করে. রাশিয়ার সামুদ্রিক সেনা বাহিনীকে এর মধ্যেই বহুবার সন্দেহজনক নৌকা খানা তল্লাসী করতে হয়েছে, হেলিকপ্টার অথবা দ্রুত গামী বোট থেকে সেগুলির উপরে নেমে, আবার এমনও হয়েছে যে, যুদ্ধ করে জলদস্যূদের অধিকৃত জাহাজ উদ্ধার করতে হয়েছে.

    এই প্রসঙ্গে সামুদ্রিক সেনারা খুবই গুরুতর বিপদের সম্মুখীণ হয়ে থাকেন, কারণ বর্তমানে সোমালির জলদস্যূদের কাছে রয়েছে খুবই ভাল সব অস্ত্র. নতুন বর্ম পোষাক তৈরী করা হয়েছে সামুদ্রিক বাহিনীর সেনাদের দুটি বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য, গুলি আর খোলা সমুদ্র.

    নতুন প্রজন্মের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ ধরনের ত্রাণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে. যখন সেনা এই ধরনের বর্ম পরে জলে পড়ে যাবেন, এই ব্যবস্থা নিজের থেকেই বিশেষ প্রকোষ্ঠ এক গ্যাসে ভর্তি করে ফেলবে আর এই সময়ে মানুষ মুখ উপরের দিকে করে ভেসে উঠতে পারবে. ফুলে ওঠার মতো ব্যবস্থা এই বর্মে আরও ২৫ কিলো বেশী জিনিস ভাসিয়ে রাখতে পারে, যার ফলে সৈনিক জলে তাঁর অস্ত্র ও রসদ সমেত ভেসে থাকতে সক্ষম হবে.

    সেনা বাহিনীর কর্তারা যেমন বলেছেন যে, এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জলদস্যূ মোকাবিলার কাজে খুবই দরকারী. বর্তমানে উত্তরের নৌবাহিনীর আলাদা এক বাহিনী এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিমানে ভেসে থাকার উপযুক্ত বর্ম পেয়েছে নিজেদের বাহিনীর প্রয়োজনে, যারা যুদ্ধ জাহাজ গুলির সঙ্গে এই সমস্ত বিপজ্জনক এলাকায় প্রহরার কাজে যাচ্ছেন.

    একই সঙ্গে সামরিক নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাশিয়ার জাহাজ গুলি সোমালির উপকূলে জলদস্যূদের মোকাবিলায় বিশাল ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছে. সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত বছরে সোমালির জলদস্যূরা ২০১০ সালের চেয়ে প্রায় অর্ধেক জাহাজ দখল করতে সক্ষম হয়েছে.

0    রাশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীর জাহাজ গুলি, যারা আডেন উপসাগর এলাকায় ও আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা নিরাপদ করার জন্য রয়েছে, তারা ২০১১ সালে কনভয় করে বিপজ্জনক এলাকা প্রায় ২৭টি দেশের ১৭০টি জাহাজ পার করে দিয়েছে. কয়েকদিন আগে আফ্রিকা থেকে যুদ্ধ প্রস্তুতি নেওয়া প্রহরা শেষ করে উত্তরের নৌবাহিনীর এক দল জাহাজ ফিরেছে, তাদের জায়গা নিয়েছে বর্তমানে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর.