ভ্লাদিভস্তকে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের এক বিরাট শহরে এক অনন্য সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হতে চলেছে. এই সেতু শহর ও রুস্কি নামের দ্বীপকে পূর্ব বসফরাস উপসাগরের উপর দিয়ে ভ্লাদিভস্তক শহরের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগ করবে. ২০১২ সালের এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে আয়াস্ক উপসাগরের কাছে সম্মেলনের স্থানে. এই সেতুটি অনন্য. এর স্থপতিদের পরিকল্পনায়, এটা বিশ্বের একটি বৃহত্তম কাছি দিয়ে বাঁধা সেতু, যার মাঝখানের অংশটির দৈর্ঘ্য হতে চলেছে ১১০৪ মিটার, তাই বিশ্বের সেতু নির্মাণের এটি একটি রেকর্ড হতে চলেছে. তারই সঙ্গে এই সেতুর উপরে টাওয়ার বা মিনার ও হবে সবচেয়ে উঁচু ও কাছি গুলিও হবে সবচেয়ে লম্বা. এই গাড়ী চলাচলের উপযুক্ত সেতু সত্যিকারের জীবন দায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে, কারণ বর্তমানের স্টীমার যোগাযোগের ব্যবস্থা এখানের কড়া ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে প্রায়ই কাজে গাফিলতি করতে বাধ্য হয়.

    এই রুস্কি দ্বীপ সব সময়েই ভ্লাদিভস্তকের অংশ ছিল, তাই সেতু তৈরী হওয়ার পরে তা সম্পূর্ণ ভাবেই অংশে পরিণত হবে. সেখানের লোকরা সময় মতো এই এলাকা থেকে যো কোন জায়গায় যেতে পারবেন. সেতু নিজে থেকেই বিশ্বের একটি সবচেয়ে বড় সেতু হতে পারে. তার ৩২০ মিটার উচ্চতার মিনার গুলিও শুধু ফ্রান্সের মিলাউ শহরের দড়ি বাঁধা সেতুর মিনারের চেয়ে উচ্চতায় কম হবে.

     আর চার মাস বাদেই এই সেতু কাজ শেষ হবে, আর আপাততঃ কাজ চলছে শেষ কয়েক মিটার তৈরী আর নানা স্থাপত্যের প্রয়োজনীয় গঠন বসানোর. কাজ হচ্ছে ২৪ ঘন্টাই, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও প্রবল হাওয়াকে উপেক্ষা করেই. এখন নির্মাণ কর্মীরা কাজ করছেন ৩২০ মিটার উপরে. এই উচ্চতায় উঠতে সময় লাগে ২০ মিনিট. উপর থেকে দেখলে ভয়ে হৃত্কম্প হয়, অথচ সৌন্দর্য অবর্ণনীয়. এখান থেকে ভ্লাদিভস্তক, রুস্কি দ্বীপ ও অন্যান্য ছোট দ্বীপ গুলির এক অপরূপ শোভা দেখতে পাওয়া যায়. এমনকি যাঁরা অত উঁচুতে কাজ করতে অভ্যস্ত সেই নির্মাণ কর্মীরাও স্বীকার করেছেন যে, এত সুন্দর দৃশ্য আগে দেখেন নি.

    এই সেতুর মিনার গুলি বিশ্বের একটি সব চেয়ে উঁচু সেতুর মিনার হতে চলেছে. এছাড়াও আরও এক গুচ্ছ সূচক রয়েছে, যার কারণে এই রুস্কি দ্বীপে যাওয়ার গাড়ী চালানোর পথ হবে অনন্য. যেমন, উপসাগরের উপরে সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১৮০০ মিটার আর সমস্ত ওঠা নামার পথ সমেত দৈর্ঘ্য ৩১০০ মিটার. কাছি গুলি হবে দারুণ সুন্দর. সেই গুলিকে রঙ করা হবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পতাকার রঙে: লাল, নীল ও সাদা. এমন ভাবে সেই গুলিকে লাগানো হচ্ছে, যাতে দূর থেকে তা দেখে মনে হয় প্রকাণ্ড হাত পাখা, যা প্রতীকী ভাবে দেশের জাতীয় পতাকার রঙের প্রতিফলন করছে. সেতু হবে এই প্রশান্ত মহাসাগরীয় সব চেয়ে বড় রুশ শহরের এক প্রতীক. নিজের আকারের কারণে, রঙে ও সৌন্দর্যে, তা দেখতে পাওয়া যাবে শহরের বিভিন্ন অংশ ও দ্বীপ থেকেই.

    এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার জন্য. ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শীর্ষ সম্মেলন হবে, আর সেতু চালু হবে এই বছরের জুলাই মাসে.