ব্রিকস গোষ্ঠী- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা – সংশোধনের প্রয়োজন বোধ করেছে, তা না হলে এই গোষ্ঠী বর্তমানের বাস্তব সমস্যা গুলির উত্তর দিতে অক্ষম হবে. দিল্লী শহরে দেশ গুলির বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র গুলির সম্মেলনে যোগ দিতে এসে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর লাতিন আমেরিকা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দাভীদভ উপরোক্ত ঘোষণা করেছেন.

এই সম্মেলন, যা “ব্যতিক্রমী পথের” অনুসন্ধান কাঠামো অনুযায়ী করা হয়েছে, সেখানে বিশেষজ্ঞরা এই গোষ্ঠীর উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধারণা ও প্রস্তাবকে পর্যালোচনা করে দেখেছেন, যা এই মাসের শেষে ব্রিকস গোষ্ঠীর নেতারা আলোচনা করবেন. কোন রকমের কঠোর নিয়মানুযায়ী আলোচনার ব্যবস্থা থাকায়, এখানে বিশেষজ্ঞরা নানা সময়ে সেই সব ধারণা ব্যক্ত করেছেন, যা এখনও সঠিক ভাবে শেষ অবধি তৈরী হয়ে ওঠে নি অথবা কড়া সমালোচনা করেছেন বর্তমানের সামাজিক ব্যবস্থার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও এই অনুশীলন ব্রিকস গোষ্ঠীর অন্তর্নিহিত ক্ষমতার পরবর্তী বিকাশের প্রয়োজনে খুবই মূল্যবান হতে পেরেছে. খুবই লক্ষ্যণীয় বিষয় হল যে, ব্রিকস ধারণাই তৈরী হয়েছে বিশ্লেষণ মূলক চিন্তা ভাবনা থেকে. গোল্ডম্যান স্যাকস কোম্পানীর কর্মী জিম ও’নিল এই সংক্ষিপ্ত নামকরণটি প্রস্তাব করেছিলেন বিশ্বের দ্রুততম ভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাওয়া দেশ গুলির গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার জন্য.

ব্রিকস গোষ্ঠী কি আরও একটি আলোচনার মঞ্চের চেয়ে বেশী কিছু হতে পারবে? এই প্রশ্নই বর্তমানে রাজনীতিবিদদের ও বিশেষজ্ঞদের মনোযোগের কেন্দ্রের রয়েছে. ইউরোপীয় অঞ্চলে সঙ্কট খুবই বাস্তব ভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, নতুন সমস্যা গুলির সমাধানে প্রয়োজন দ্রুত সমাধান সূত্র খোঁজা, কোন দীর্ঘসূত্রী আলোচনার অবকাশ নেই. প্রমাণিত হয়েছে যে, বৃহত্ ইউরোপ সেই সমস্যাগুলির এখন সমাধান করতেই পারছে না, উপযুক্ত অবস্থায় নেই বলে.

রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর লাতিন আমেরিকা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দাভীদভ মনে করেছেন যে, এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত্. তিনি মনে করেন যে, ব্রিকস গোষ্ঠীর প্রয়োজন হবে এমন একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া, যেখানে নিজেদের অবস্থানের বিষয়ে মতৈক্য খোঁজা, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপায় খোঁজা ও যথেষ্ট দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত রূপায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে.

ব্রিকস যে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন এবং তার কাজ যে বাস্তব উপকরণ দিয়ে প্রসারিত করা দরকার, এই বিষয়ে একমত হয়েছে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরাও, তারাও এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন. এই কেন্দ্রের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন মনে করেন যে, ব্রিকস গোষ্ঠী বর্তমান বিশ্বের নতুন বিপদ গুলির সমাধান আরও দ্রুত ও প্রয়োজন অনুযায়ী করতে বাধ্য, তাই তিনি বলেছেন:

“শুধুশুধুই তো আর দিল্লী শহরের সম্মেলনে ব্রিকস গোষ্ঠীর একটি নিয়ন্ত্রক কার্যকরী পরিষদ তৈরী নিয়ে নির্দিষ্ট কথাবার্তা হচ্ছে না – ব্রিকসের সম্পাদক মণ্ডলী তৈরী করার কথা হচ্ছে, এর পরবর্তী কালের অংশ হবে গোষ্ঠীর ব্যাঙ্ক ও বিনিয়োগ তহবিল গঠন. কিন্তু অন্য দিক থেকে সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে মনে করেছেন যে, এই প্রকল্পকে কোনও কঠোর কাঠামোর মধ্যে বাঁধাও ঠিক হবে না. ব্রিকস নমনীয়, যে কোন ধরনের আদর্শগত ধারণা অথবা বাধ্যতা মূলক সহযোগিতা থেকে স্বাধীন হওয়া উচিত্”.

0এটাই সমাকলনের প্রক্রিয়াকে প্রয়োজনীয় জীবনী শক্তি যোগাতে পারে বলে মনে করেছেন প্রফেসর সের্গেই লুজিয়ানিন. আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বর্তমানে সেই বোধ বাড়ছে যে, শক্তির মেরু হওয়া দরকার কোনও আলাদা দেশের নয়, বরং অনেক গুলি দেশের গোষ্ঠীর. দিল্লীতে জড়ো হওয়া অংশগ্রহণকারীদের ধারণা অনুযায়ী এবং ভারতের উপ পররাষ্ট্র সচিব সুধীর ভিয়াস মনে করেন যে, ব্রিকস এখনই বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বে একটি ক্রম প্রসারমান মেরু হতে পেরেছে ও বিশ্বের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সংশোধনের প্রশ্নে একটি মুখ্য ভূমিকা নিতে শুরু করতে পারে. ভারতীয় কূটনীতিবিদ এই বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন যে, এই গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে বিশ্বের মুখ্য সমস্যা গুলির সমাধানের প্রশ্নে. দিল্লী সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়ের তালিকায় পরিবেশ দূষণ, আবহাওয়া পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জল সংরক্ষণ, নগরায়ণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইত্যাদি বিষয় ছিল. এই সমস্ত ক্ষেত্রেই আন্তর্মহাদেশীয় গোষ্ঠী নিজেদের তরফ থেকে যথেষ্ট ওজন সমেত যুক্তি দিতেই পারে. কিন্তু এর জন্যই প্রয়োজন পড়বে ফলপ্রসূ ও সন্নিবিষ্ট কার্যকরী পরিষদের.