রাশিয়াবাসীরা নির্বাচন করছে রাষ্ট্রপতিকে. এই প্রথম রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন ৬ বছরের জন্য. সারা রাশিয়ায় ৯৬ হাজার নির্বাচনী কেন্দ্রের দরজা খোলা হচ্ছে. মোবাইল নির্বাচনী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বিমানবন্দরে এবং রেল স্টেশনে. ভোটদান হবে এমনকি মহাকাশেও.

   সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন প্রার্থী : ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া পার্টি থেকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন, রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির অপরিবর্তনীয় নেতা গেন্নাদি জিউগানোভ, লিবেরাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি, ন্যায়ের রাশিয়া পার্টির সের্গেই মিরোনভ এবং আত্ম-প্রস্তাবিত কোটিপতি মিখাইল প্রোখোরভ.

   কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৪ঠা মার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন নিজেদের ভোটের অধিকার খাটাতে পারবেন ১০ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি লোক – এঁরা রাশিয়ার নাগরিক, যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে.

   প্রায় ১৫ লক্ষ নির্বাচক রয়েছে দেশের বাইরে. তাদের জন্য পৃথিবীর ১৪৬টি দেশে রাশিয়ার দূতাবাসে এবং কনস্যুল দপ্তরে নির্বাচনী কেন্দ্র খোলা হয়েছে. ৫৮টি দেশে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশন সময়ের আগে ভোটদানের ব্যবস্থা করেছে. তার মধ্যে ইস্লামিক রাষ্ট্রগুলিও আছে, যেখানে রবিবার – কাজের দিন.

    ১৭ই ফেব্রুয়ারী থেকে ৩রা মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার ৩৬টি অঞ্চলে – দুর্গম ও সুদূর এলাকাগুলিতে সময়ের আগে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল. এ সব এলাকার মধ্যে আছে প্রায় পুরো সুদূর উত্তরাঞ্চল, দূরপ্রাচ্য, সাইবেরিয়া ও উরালের কয়েকটি এলাকা. তাছাড়া সময়ের আগে নিজেদের ভোট দিয়েছে তারা, যারা মেরু কেন্দ্রে, আলোকস্তম্ভে এবং জাহাজে ডিউটি দিচ্ছে. যেমন, ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর জাহাজের নাবিকরা, যারা এডেন সাগরে সোমালির উপকূলের কাছে ডিউটিতে রয়েছে, আর তাছাড়া রাশিয়ার শান্তি সৈনিকরা, যারা দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবে-তে শান্তি রক্ষা করছে. সময়ের আগে দেওয়া ভোটের ফলাফল গোপন রাখা হবে ৪ঠা মার্চের সন্ধ্যা অবধি, যতক্ষণ না সমস্ত রাশিয়াবাসী নিজেদের ভোট দিচ্ছে.

   রাশিয়ার নির্বাচন, সর্বদাই পৃথিবীতে বিপুল আগ্রহ জাগায়. রাশিয়ায় এসেছে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের বহুসংখ্যক প্রতিনিধিদল, স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গ, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা, ইউরোপীয় পরিষদের পার্লামেন্টারী অ্যাসেম্বলি, ইউরোপীয় পরিষদ শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং উত্তরী পরিষদ থেকে. মোট ৭০০ জনের উপর বিদেশী বিশেষজ্ঞ এসেছেন.

   নির্বাচনের গতির উপর, সাধারণের চেয়ে বেশি সক্রিয়ভাবে নজর রাখছে রাশিয়ার নাগরিক বৃন্দের প্রতিনিধিরা. যেমন, ৬০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক – তরুণ আইনবিদ, যারা স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য নামে “পর্যবেক্ষক কোর” গঠন করেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের প্রতি স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করবে. তারা অন্যান্য সমিতির সাথে পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ চালাবে. এ সব সমিতি গঠিত হয়েছে নাগরিকদের উদ্যোগে, যারা গত বছরের ডিসেম্বরে পার্লামেন্টারী নির্বাচনের ফলাফলে অসন্তুষ্ট ছিল.

   কারসাজির সম্ভাবনা যথাসম্ভব কমানোর জন্য হাজার হাজার কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ইলেকট্রোনিক ভোট গণনা যন্ত্র এবং প্রায় ৬০ হাজার স্বচ্ছ ভোট-বাক্স. এবারের নির্বাচনের আরও একটি নতুনত্ব – ওয়েব ক্যামেরা. সারা দেশে প্রায় ৯০ হাজার নির্বাচনী কেন্দ্র এমন ক্যামেরায় সজ্জিত করা হয়েছে. ভোটদানের প্রক্রিয়ার প্রতি ইন্টারনেটে অন-লাইন ব্যবস্থায় ইচ্ছুক যে-কেউ তার প্রতি নজর রাখতে পারে, ঠিকানা - webvybory2012.ru. তাছাড়া, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশনের অপারেটিভ যোগাযোগের হট-লাইন আছে – বিনা খরচের বহু-চ্যানেল সম্বলিত টেলিফোন, যেখানে ফোন করে নির্বাচনের গতিতে নিয়ম লঙ্ঘনের খবর দেওয়া যেতে পারে.

0   ভোটদানের গতি, নির্বাচকদের উপস্থিতি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এবং রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল বাস্তব সময়ে পৌঁছোবে মস্কোয় কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশনের তথ্য কেন্দ্রে. প্রথম ফলাফল জানানো হবে মস্কো সময় রাত ৯টায়, যখন বন্ধ হবে রাশিয়ার সবচেয়ে পশ্চিম এলাকার – কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলি. ১৪ই মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশন ভোটদানের সমস্ত ফলাফল হিসেব করবে, আর ১৭ই মার্চের মধ্যে তা সরকারীভাবে প্রকাশিত হবে.