আমেরিকা সহ পাশ্চাত্য দুনিয়া ইচ্ছা করে নিকট ও মধ্য প্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধিকে আরও উস্কে দিচ্ছে এই উদ্দেশ্যেই, যাতে এখনকার খনিজ তেলের উঁচু দর ধরে রাখা যায়. এরকম অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে ক্রমশঃই বেশিসংখ্যক বিশেষজ্ঞ উপনীত হচ্ছেন.

      বাজারে পরিস্থিতি এখন অভূতপূর্ব. সাধারণতঃ তেলের দর বাড়ার সাথে সাথে ডলারের বিনিময় মূল্য পড়তে শুরু করে. কিন্তু বর্তমানে মার্কিনী ডলারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দী – ইউরো নিজেই ইউরোসংঘে ঋণসংকটের কারণে প্রচন্ড চাপের মুখে পড়েছে. সেইজন্যেই ডলারের বিনিময় হার উঁচু রয়ে গেছে.

      খনিজ তেলের দাম এই মুহুর্তে ১০০ ডলারের নীচে নামছে না. এটা ঘটছে ইরান সহ গোটা আরব দুনিয়াকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির দরুন. সেইজন্য তেল আমদানীকারী দেশগুলিকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে. সেইকারণেই তেলের উঁচু দর ডলারের চাহিদা বাড়ায় ও তার উঁচু দর ধরে রাখে. এবং এইভাবেই মার্কিনী অর্থনীতি নিকট প্রাচ্যে উত্তেজনা বজায় রাখতে আগ্রহী. এই প্রসঙ্গে শুনুন রাজনীতি বিশ্লেষক আন্দ্রেই গ্রোজিন কি বলেন.

      আরব রাষ্ট্রগুলি হচ্ছে পশ্চিমী অর্থনৈতিক মডেলের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ. ওরা  ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে মুখ্য জ্বালানী সরবরাহকারীর ভূমিকা পালন করে, এবং সেইজন্য ঐ সব বাজারের পরিস্থিতির উপর তারা নির্ভরশীল. যদি পাশ্চাত্যে অর্থনৈতিক মন্দা চলতেই থাকে, যার পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশেষজ্ঞরা, তাহলে জ্বালানীর ব্যবহার হ্রাস পাবে ইউরোপ ও আমেরিকায়. এর ফলে তেলের দাম কমার কথা. কিন্তু সেটা ঘটছে না ঐ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য. আর ডলারের বিনিময় মূল্য উঁচুই থেকে যাচ্ছে দুর্বল ইউরোর সুবাদে. আরও ওপরে তোলার কোনো দরকার নেই আমেরিকার – তাহলে আমেরিকার রপ্তানী করা জিনিষের উঁচুদামের কারণে তাদের চাহিদা কমে যাবে. ফলশ্রুতিতে আমেরিকার এমন বাণিজ্যিক ব্যালান্স তৈরি হয়েছে, যা আমেরিকার ফেডেরাল রিজার্ভ সিস্টেমের পক্ষে অনুকূল – এবং পারস্য উপসাগরীয় এলাকার শেখদের, অভাবনীয় মুনাফার দৌলতে যাদের রাজনৈতিক ওজন বেড়েই চলেছে.

  তাহলে আমরা কি পাচ্ছি – পাশ্চাত্য, বিশেষতঃ আমেরিকা আরবীয় বসন্ত সংগঠন করেছে আর আরবরা এখন পশ্চিমের অর্থনীতিকে বাঁচাচ্ছে? আন্দ্রেই গ্রোজিনের মতামত শুনুন.

এখন খুব কম লোকের মনেই সন্দেহ আছে, যে আরব দুনিয়ায় গত বসন্তের উত্তপ্ত ঘটনাবলীকে পাশ্চাত্য ব্যবহার করেছে. আমেরিকা ও কয়েকটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র কিছু সংস্থার মাধ্যমে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সরাসরি চাপ প্রয়োগ করে, যার মধ্যে সামরিকও আছে, নিকট প্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়েছে. মনে হয়েছিল, যে পশ্চিমের লক্ষ – রাজনৈতিক, মানে আরব দুনিয়ার জনগণের শক্তি পাশ্চাত্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় খাতে বইয়ে দেওয়া. এবার অর্থনৈতিক মুনাফারও হিসাব করার সময় এসেছে.

   যখন সিরিয়ায় বলপূর্বক অনুপ্রবেশ বা ইরানে আঘাত হানার কথা ওঠে, কেউ ভেবে দেখে না, যে অবিরত ডলার ছাপার পরে আমেরিকার ডলারের অবস্থা কি হবে. অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরের অন্যপাড়ের বিশৃঙ্খল ঘটনাবলীর দৌলতে ইউরোও খানিকটা থিতু হওয়ার সুযোগ পেয়েছে. তার মানে পাশ্চাত্য নিজের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে আরব দুনিয়ার তোলপাড় করা পরিস্থিতি ব্যবহার করে চলেছে.