রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন মুখ্য বিদেশী পত্র-পত্রিকার প্রধান সম্পাদকদের সাথে সাক্ষাত্ করেছেন. তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে নিজের মতামত এবং বিরোধীপক্ষের আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেন, নির্বাচনে জয়লাভের ক্ষেত্রে দমিত্রি মেদভেদেভের সাথে তাঁর জুটির ভাগ্য সম্বন্ধে বর্ণনা করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে তীব্র সমস্যাবলি সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করেন.

   প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছিল বড় বড় পত্রিকার নেতৃবৃন্দকে – জাপানের “আসাহি সিম্বুন”, ফ্রান্সের “মন্ড”, ইতালির “রেপুবলিকা”, বৃটেনের “টাইমস”, জার্মানির “হান্ডলসব্লাট” এবং কানাডার “গ্লোব অ্যান্ড মেল”. আশ্চর্যের কিছু নেই যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কয়েক দিন আগের এ সাক্ষাতে বেশির ভাগ প্রশ্ন ছিল প্রাকনির্বাচনী অভিযান সম্পর্কে এবং ৪ঠা ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় দুমার নির্বাচনের পরে বিরোধীপক্ষের সক্রিয়তা সম্বন্ধে. জানা আছে যে, প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে কারসাজির এবং এ অজুহাতে লোকেদের রাস্তার মিছিলে জড়ো করেছিল. ভ্লাদিমির পুতিন বলেন যে, কর্তৃপক্ষের বিরোধীদের এ ধরণের ক্রিয়াকলাপে তিনি আশ্চর্য কিছু দেখেন না, আর প্রতিবাদ আন্দোলন – সারা পৃথিবীর জন্য সাধারণ ঘটনা :

   ক্ষমতাসীন পার্টির ক্রিয়াকলাপের প্রতি সমালোচকদের মনোযোগ নিবদ্ধ. যা ঘটেছে তাতে আমি, এমনকি, আনন্দিত. কর্তৃপক্ষের বিন্যাসগুলির সজীব প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত্ দেশে যা ঘটছে তাতে, লোকেদের মনোভাবে, এবং তাদের প্রত্যাশায় উত্তর দেওয়া উচিত্. গড়ে ওঠা পরিস্থিতি খাস শাসন ব্যবস্থাকে আরও জীবনীশক্তি সম্পন্ন করে তুলছে, চিন্তা করার এবং মীমাংসা খোঁজার প্রয়োজনীয়তা জাগাচ্ছে.

   ফ্রান্সের "মন্ড" পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সিলভি কাউফমান রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর কাছে জানতে চান, নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে বিতর্কে তিনি অংশগ্রহণ করছেন না কেন. ভ্লাদিমির পুতিন উত্তরে বলেন যে, তিনি প্রাকনির্বাচনী আলাপের চেয়ে বাস্তব কাজকর্মকেই প্রাধান্য দেন :

   নিজের সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী - প্রার্থীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে. আমি তাদের বহু বছর ধরে জানি এবং তাদের কর্মসূচির সাথেও পরিচিত. লোকে যখন বহু বছর ধরে বিরোধীপক্ষে থাকে, স্বভাবতই, তখন তারা শাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করে এবং অনেক কিছুরই প্রতিশ্রুতি দেয়. কিন্তু প্রায়ই এ কথা ভাবে না যে, এসব প্রতিশ্রুতি পুরণ করতে হবে. নিজের প্রবন্ধগুলিতে আমিও অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যরক্ষা, জনসংখ্যা সংক্রান্ত নীতিতে একসারি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছি. সেগুলি ব্যয়বহুল. বিশেষজ্ঞরা হিসেব করেছেন যে, আমার প্রস্তাবের খরচের পরিমাণ – চতুর্থ স্থানে. কিন্তু এটা ঠিক নয়, কারণ এ সব পদক্ষেপ কয়েক বছরের জন্য নির্ধারিত. জনসমক্ষে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পটভূমিতে বিতর্ক করা – অর্থহীন. তাছাড়া আইন প্রার্থীর প্রতিনিধির বিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়.

   ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, বিরোধীপক্ষের অনেক নেতাই শাসন ব্যবস্থায় ছিলেন এবং এখনও রয়েছেন বিধায়ক হিসেবে, সরকারের সদস্য হিসেবে এবং গভর্নর হিসেবে. কিন্তু নিজেদের কার্যকলাপে বিশেষ ফলাফল দেখাতে পারেন নি. সেই সঙ্গে, তাঁরা বিদেশী পত্র-পত্রিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে. তিনি মনে করিয়ে দেন যে, উল্টে, রাশিয়ায় রাজনৈতিক ব্যবস্থা হয়ে উঠবে উদারনৈতিক : এদিকেই নির্দেশিত একসারি আইনের খসড়া, যা রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রীয় দুমায় পেশ করেছেন.

   প্রধানমন্ত্রী আবার এ সম্ভাবনা সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেন যে, তাঁ জয়লাভের ক্ষেত্রে দমিত্রি মেদভেদেভ প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করবেন. তিনি বলেন যে, এ সম্বন্ধে গত বছরেই খোলাখুলি ঘোষণা করা হয়েছিল :

   আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি, সত্ ও স্পষ্টভাবে দেশকে প্রস্তাব করছি, নাগরিক পুতিন যেন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দাঁড়ান. আর সমস্ত নাগরিককে, ভুল না বুঝিয়ে বলি, যদি তা ঘটে তাহলে নাগরিক মেদভেদেভ প্রধানমন্ত্রী হবেন. আমরা কাউকে কি ঠকিয়েছি, কোনো ভুল বোঝাবুঝি আছে কি? না নেই. আমরা নির্বাচকদের কাছে গিয়েছি এ প্রস্তাব নিয়ে এবং তাঁদের মূল্যায়ন করার সুযোগ দিচ্ছি : তাঁরা রাজি কি না.

   ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন যে, বিরোধীপক্ষ যেমন কল্পনা করছে, তাঁর এবং দমিত্রি মেদভেদেভের মাঝে জুটিতে তথাকথিত স্থান পরিবর্তন সম্বন্ধে কোনো পুরনো সমঝোতা ছিল না. রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থী হিসেবে পুতিনের নাম উথ্থাপনের প্রধান কারণ ছিল জনসাধারণের মাঝে এবং সরকারের কাজের ফলাফল অনুযায়ী, তাঁর উঁচু রেটিং. ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে সঙ্কটের ঘটনার পটভূমিতে রাশিয়া নিজের অর্থনীতির বিন্যাস সুদৃঢ় করতে, সামাজিক অর্থদান বাড়াতে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক সঞ্চয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে. ইউরোপে প্রায়ই একেবারে উল্টো প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়, বলেন তিনি. বর্তমানে রাশিয়ার সামনে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতির পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান পাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে.

   সিরিয়ার পরিস্থিতির প্রতি রাশিয়ার মনোভাব সম্পর্কে "টাইমস" পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জেমস হার্ডিংয়ের প্রশ্নের উত্তরে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন যে, বর্তমানে প্রধান কর্তব্য হল – বিরোধী পক্ষগুলিকে আলাপ-আলোচনার টেবিলে বসানো. প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সঙ্গে সিরিয়ার সীমানার বাইরে জনসমাজ প্রায়ই বাস্তব অবস্থা সম্বন্ধে মোটেই সঠিক তথ্য পায় না :

   সিরিয়ায় কি ঘটছে লোকে তা দেখছে আপনাদের চোখ দিয়ে, ঘটনাবলিকে গ্রহণ করে সেইভাবে, যেভাবে আপনারা বর্ণনা করেন. খুব কম লোকেরই সুযোগ আছে সিরিয়ায় গিয়ে নিজের চোখে দেখার, সেখানে কি ঘটছে. আমরা চেষ্টা করি আপনারা যা লেখেন তার দ্বারা পরিচালিত না হওয়ার, বরং সত্যই যা ঘটছে তার উপর নির্ভর করার. সেখানে চলছে সশস্ত্র গৃহযুদ্ধ. আর আমাদের লক্ষ্য এক পক্ষকে – সরকার অথবা বিরোধীপক্ষকে সাহায্য করা নয়, আমরা চাই সর্ব-সিরিয়া আপোষ. লিবিয়ায় যা ঘটেছে, তা আর ঘটতে দেওয়া যায় না.

   ভ্লাদিমির পুতিন তাছাড়া বলেন যে, রাশিয়া সবকিছুই করবে, যাতে ইরানে সামরিক সঙ্ঘর্ষ না ঘটে. তার পরিণতি রাশিয়ার জন্য এবং অন্য বহু দেশের জন্য নেতিবাচক হবে. প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বিগত দশকে বিতর্কমূলক আন্তর্জাতিক প্রশ্নাবলির মীমাংসায় যুক্তিহীন বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে. রাশিয়া এ ধরণের নীতির চূড়ান্ত বিরোধী : তা এ পথেই নিয়ে যায় যে, কিছু কিছু দেশ নিরাপত্তার গ্যারান্টি হিসেবে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীর চেষ্টা করছে.