রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন নিজের পক্ষসমর্থকদের সাথে – আঞ্চলিক দপ্তরগুলির সক্রিয় কর্মী, সাংবাদিক এবং রাজনীতি বিশারদদের সাথে সাক্ষাত্ করেছেন. তিন ঘন্টা ব্যাপী এ আলাপের সময় রাষ্ট্রপতির পদপ্রার্থী বর্ণনা করেন নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে রাশিয়াকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, বহুসংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একসারি কামনা শোনেন.

   অ্যাপলায়েড পলিটিক্স ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ওলগা ক্রিশ্টানোভস্কায়া উল্লেখ করেন যে, বিগত কয়েক দিনে প্রকাশিত ভ্লাদিমির পুতিনের কর্মসূচি সম্বলিত প্রবন্ধে সবকিছুই ছিল : সমাজের পরিস্থিতির সঠিক নির্ণয়, বাস্তব সমস্যাবলি, এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশের জন্য নিরূপিত ব্যাপক একসারি পদক্ষেপের কথা. তবে একটি জিনিসের অভাব ছিল- সিদ্ধান্তের. তিনি জানতে চান, “আপনি যদি রাষ্ট্রপতি হন. রাশিয়াকে কোন দিকে নিয়ে যাবেন?” ভ্লাদিমির পুতিন কয়েকটি বাক্য এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন :

   আমাদের, অবশ্যই, গণতন্ত্রের সংস্থাগুলিকে মজবুত করা দরকার, আর তা এমনভাবে, যাতে এই গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলি আমাদের রাষ্ট্রীয় সত্ত্বাকে সব ধরণের শক থেকে রক্ষা করে, যাতে এ রাষ্ট্রীয় সত্ত্বা হয় স্থিতিশীল এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি দেয়. তা অর্জন করা যেতে পারে শুধু সেই ক্ষেত্রে যদি আমরা সমাধান করতে পারি সেই সব কর্তব্য, যা অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রধান কর্তব্য – অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উচ্চ গতি সুনিশ্চিত করা. আর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উচ্চ গতি সুনিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, সর্বপ্রথমে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, প্রয়োজন কারবারী পরিবেশের উন্নতির. এ সব কিছু একত্রে যেন প্রত্যেক সুনির্দিষ্ট রাশিয়ার নাগরিকের জীবনের মান উন্নত করে.

    আইনজীবি আনাতোলি কুচেরেনা বিতর্ককে ক্ষুরধার করতে চেয়েছিলেন. আপনার সমালোচকরা বলছে, যে আপনার হাতে ১২ বছর সময় ছিল এবং আপনার সকলকে সোনায় মুড়ে দেওয়া উচিত ছিল. আমি ৮ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলাম, ১২ বছর নয় – তার ভুল শুদ্ধ করে দেন পুতিন. –

    এটা বহু প্রচলিত জনমত, যে পুতিন বসে বসে সবাইকে আদেশ, নির্দেশ দেয়. এটা সেরকম নয়. আমি আপনাদের আরও একবার বলতে চাই, যে প্রধানমন্ত্রীর বহু শাসনাধিকার, অনেক সাঙ্গপাঙ্গ, কিন্তু সে রাষ্ট্রপতি নয়. আমি জানি না, এটা শুনতে কেমন লাগবে, কিন্তু আমি কখনোই পরের জমিতে ঢুকিনি. আমি দমিত্রি মেদভেদেভের সাথে আমাদের শাসনাধিকারগুলি ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছিলাম, আমরা নয়, সংবিধান ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিয়েছে. প্রত্যেকে নিজের নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত.

     তার নির্বাচনে খাঁড়া হওয়া উচিত নয়, এই ঘোষণার মূল্যায়ণ করে পুতিন বলেছেন, যে তার প্রতিপক্ষদের তার বিরূদ্ধে আক্রমণের এটা একটা পন্থা. যেমন কিনা, ভোটের আগেই কারচুপির অভিযোগ. পুতিন জোরগলায় বলেছেন, যে গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য আমি মনে করি, যে এই সব রাজনৈতিক যন্ত্রপাতি গ্রহণযোগ্য নয়. পুতিন বলেছেন, যে তিনি এরকম সোরগোলের নির্বাচনী প্রচারপর্বের জন্য প্রস্তুত ছিলেন. --

   সত্যি কথা বলতে কি, আমি ধরেই নিয়েছিলাম, যে এরকমই হবে. আমি জানতাম, যে চড়াগলায় বিতর্ক হবে. কিন্তু ভবিষ্যতে কাজ করতে গেলে জনসমর্থনের প্রয়োজন. সেটা ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়. আর তাই আমি খুশি, যে এরকম ঝড় উঠেছে, এটা ভালো কথা. তবে একমাত্র সবকিছুই আইনের কাঠামোর মধ্যে থাকা উচিত.

      ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থকদের তার জয়লাভ করা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই. তবু কেউ প্রশংসা করেছে আর কেউ তাবিচ-কবচ উপহার দিয়েছে. কালমিকিয়ার প্রতিনিধিরা বৌদ্ধ নববর্ষ ও বসন্তের আগমন উত্সব উপলক্ষে পুতিনকে একটি ঐতিহ্যগত  ধবধবে সাদা মাফলার উপহার দিযে স্বচ্ছ নির্বাচন কামনা করেছে.