রাষ্ট্রীয় দ্যুমা অর্থাত্ সংসদের নিম্নকক্ষ রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে. গভর্ণরদের নিযুক্তি নয়, পরিবর্তে নির্বাচন আবার ফিরে আসছে. রাজনৈতিক পার্টিগুলির নথিভুক্ত হওয়ার জন্য আর হাজার হাজার সমর্থকের সই সংগ্রহ করার দরকার হবে না. তজ্জনিত খসড়া আইনাবলী প্রথমবার পাঠের পরে রাশিয়ার সাংসদরা গ্রহণ করেছেন. উক্ত আইনাবলী সব সাংসদের সমর্থন পেয়েছে. তবে দ্বিতীয়বার পাঠের আগে সাংসদরা তাদের সংশোধনী প্রস্তুত করছেন. এই প্রথম আইনাবলী নিয়ে আলোচনাচক্রে অংশ নিয়েছে সংসদবহির্ভুত পার্টিগুলোও.

      অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খসড়া আইন রাজনৈতিক পার্টিদের নথিভুক্ত হওয়ার পদ্ধতি অনেক সহজ করে দেবে. পার্টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য পাঁচশো সমর্থকই যথেষ্ট হবে, এখনকার মতো চল্লিশ হাজার নয়. তবে এই প্রস্তাবটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃস্টি করেছিল. আর এই আইনটির সাথে একমত নয় বিরোধীরাই. অংশতঃ কমিউনিষ্টদের মতে, এই আইন বড্ড বেশি উদারপন্থী, রাজনৈতিক ময়দানে নতুন নতুন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দীদের আবির্ভাবের আশংকায় তারা সমালোচনা করছে. শাসক দল ‘এজিনায়া রাশিয়া’ – ঐ খসড়া আইন সমর্থন করেছে.

     যে কেউ রাজনৈতিক পার্টি গঠণ করতে চাইবে, তারা অনায়াসে তা করতে পারবে. কারণ বস্তুতঃ সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে. অবশ্যই এটা, যারা রাজনীতি করে তারা সমেত গোটা জনসমাজকেই এমন দায়ভার নিতে বাধ্য করবে, কারণ যাতে কোনোভাবেই ফালতু লোকেরা অথবা যারা নিজের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে রাজনীতিকে ব্যবহার করে, সেরকম লোকজন রাজনৈতিক মঞ্চে অবতীর্ণ হতে না পারে.

     অন্য আর একটি খসড়া আইন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কিত. বর্তমানে নির্দলীয় পদপ্রার্থীরা নিজের সমর্থনে ২০ লক্ষ সই সংগ্রহ করতে বাধ্য. এই সংখ্যাটা কমে ৩ লক্ষে দাঁড়াবে.

    তাছাড়াও, গভর্ণরদের সরাসরি নির্বাচনের পদ্ধতি পুণর্বর্তন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে. প্রার্থীদের মনোনয়ন করতে পারবে রাজনৈতিক পার্টিগুলি, তবে রাষ্ট্রপতির সাথে শলা-পরামর্শ করার পরে. এই শেষ শর্তটিই বিরোধীপক্ষের একাংশের অসন্তোষের কারণ. শুনুন এ প্রসঙ্গে ‘ন্যায্য রাশিয়া’ পার্টির শীর্ষনেতা সের্গেই মিরোনভের বক্তব্য.

      আমরা তথাকথিত রাষ্ট্রপতির ফিল্টারের সম্পূর্ণ বিরোধী, যার দরুন যে পার্টি তার প্রার্থীকে গভর্ণরের পদে মনোনয়ন দেবে, তাকে প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির অনুমতি পেতে হবে. আমাদের মতে, এটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই নিয়ম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছি.

      তিনটি সংসদবহির্ভুত পার্টি – ‘ইয়াব্লকা’, ‘রাশিয়ার দেশপ্রেমীরা’ ও ‘সঠিক কার্যকলাপ’ – রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবিত খসড়া আইনাবলী সমর্থন করেছে. তবে তাদেরও নিজস্ব প্রস্তাব রয়েছে – অংশতঃ, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পার্টিদের মোর্চা গঠনের অনুমতি দেওয়া হোক. আর ‘ইয়াব্লকা’ পার্টির নেতা সের্গেই মিত্রোখিন ঘোষণা করেছেন, যে গভর্ণরদের সরাসরি নির্বাচন যত শীঘ্র সম্ভব শুরু করা দরকার. –

      আমি মনে করি, যে রাষ্ট্রীয় দ্যুমার পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত হবে এই যে উক্ত আইনে যেন এই শর্ত লিপিবদ্ধ করা হয়, যে আইনটি গৃহীত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সব গভর্ণরের পুণর্র্নিবাচনের আয়োজন করতে হবে.

     সংসদবহির্ভুত বিরোধী পার্টিরা আলোচনার ফলাফলে খুশি, যদিও তারা তাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ায় খানিকটা অসন্তুষ্ট.  “আমরা ছিলাম দর্শক মাত্র. তবে এটা ভালো যে আমরা শাসক দল ও সংসদীয় বিরোধী দলগুলির বক্তব্য দেখতে ও শুনতে পেরেছি. কোনো কোনো বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী মেলে, আর কোনো কোনো বিষয়ে মেলে না” – বলেছেন বাম ফ্রন্ট আন্দোলন গোষ্ঠীর নেতা সের্গেই উদালত্সভ. নিজেদের প্রস্তাবাবলী বিরোধীরা দেশের রাষ্ট্রপতি ও সংসদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে.