২০০৮ সালে প্রদত্ত মোবাইল ফোনের পরিষেবা দেওয়ার জন্য ১২২টি লাইসেন্স ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় রাশিয়া হতাশ হয়েছে. লাইসেন্স বঞ্চিত হওয়া ১১টি পরিষেবকদের মধ্যে আছে রুশী কোম্পানি ‘সিস্টেমা-শ্যাম টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড’. উদ্ভুত বিতর্ক মার্চের শেষদিকে নির্দ্ধারিত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতকালে বোধহয় অন্যতম মুখ্য আলোচ্য বিষয় হবে. এই বিষয়ে সবিষদে লিখছেন আমাদের প্রতিবেদক গেওর্গি ভানেতসোভ.

        ‘সিস্টেমা’ কোম্পানি ভারতের শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে ছয় মাসের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে বিতর্কের মীমাংসা করার আবেদন সহ সরকারীভাবে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে. সিস্টেমা একইসাথে ভারতের সরকারকে জানিয়েছে, যে SSTL লাইসেন্স বাতিল করা – ১৯৯৬ সাল থেকে জারী থাকা বিনিয়োগ করা অর্থের পারস্পরিক সুরক্ষা ও অগ্রাধিকারদান সম্বলিত দ্বিপাক্ষিক ইন্দো-রুশী সম্মতিপত্রের পরিপন্থী. ঐ দলিলে ভারত বিনিয়োগ করা পুঁজির সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছিল, পুঁজিকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নয়. যদি ২৮শে অগাস্ট, ২০১২সালের মধ্যে বিতর্কের মীমাংসা না হয়, তাহলে কোম্পানি আন্তর্জাতিক দেওয়ানি আদালতে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ‘সিস্টেমা’র প্রতিনিধি ইউলিয়া বেলোউস. তার কথায়, উক্ত নোটিসের কপি মস্কোস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে.

       ‘সিস্টেমা’, যা ভারতের টেলিকম্যুনিকেশনের বাজারে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার লগ্নী করেছে, একেবারে শুরু থেকে মোবাইল ফোন যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা বর্তমানে ভারতের সমস্ত অঞ্চলে পরিষেবা দেয়, ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায়ে অত্যন্ত হতাশ. বস্তুতঃ, ‘সিস্টেমা হোল্ডিং কোম্পানী’ ও তার শাখা ‘সিস্টেমা-শ্যাম টেলিসার্ভিসেসেস কোম্পানী’ অতঃপর লাইসেন্সের ন্যায্য ক্রেতা হওয়ার ফল ভোগ করছে. সিস্টেমা কোম্পানীতে এই দৃঢ়বিশ্বাস ছিল, যে ভারতের টেলিকম্যুনিকেশন দপ্তর কতৃক নিরূপিত প্রক্রিয়া আইনের পরিপন্থী নয়.

      উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতসপ্তাহে ‘সিস্টেমা’র মুখ্য কর্ণধার ভ্লাদিমির ইভতুশেনকভের ভারতের যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী কপিল সিব্বাল ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সাথে বিষদে আলোচনা হয়েছে.

    বর্তমানে ‘সিস্টেমা-শ্যাম’ কোম্পানী দেড়কোটিরও বেশি গ্রাহককে পরিষেবা জুগিয়ে চলেছে. ২০১০ সালে কোম্পানীটিকে ভারতীয় টেলিকম্যুনিকেশন পরিষদ সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গ্রাহককে সন্তুষ্টি যোগানোর স্বীকৃতি দিয়েছিল.

     উদ্ভূত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও রুশী কোম্পানী অন্যান্য কয়েকটি বিদেশী কোম্পানীর মতো ভারতের বাজার ছেড়ে যেতে চায় না. দুবাইয়ের ‘এটিসল্ট’ ও বাহরিনের ‘বাটেলকো’ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, যে তারা ভারতে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে.

       ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর ফাঁকা লাইসেন্সগুলি বিক্রয়ের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা হবে. ভারতের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী কপিল সিব্বাল জানিয়েছেন, যে প্রতিযোগিতা ২০১৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই আয়োজিত হবে. SSTL কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর ভসিয়েভলোদ রোজানভ ঘোষণা করেছেন, যে তার কোম্পানী আগামী নীলামে অংশ নেবে.