সুবিদিত বিশ্লেষন কেন্দ্র গুলির অন্যতম – ‘আন্তর্জাতিক সংকটমোচন দল’ পশ্চিমী দুনিয়ার কাছে ইরানের পারমানবিক সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে তুরস্ককে আরও সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত করার আহ্বাণ জানিয়েছে. ঐ দল কতৃক প্রকাশিত রিপোর্টে এই আহ্বাণ জানানো হয়েছে. উক্ত রিপোর্টে পাশ্চাত্য দুনিয়ার কূটনীতির মান যথেষ্ট নীচে নেমে গেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে. এবং উদাহরন স্বরূপ ইরানের পারমানবিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির জন্য ব্রাজিল ও তুরস্কের যৌথ প্রস্তাব পাশ্চাত্য দুনিয়া কতৃক খারিজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমাদের প্রতিবেদক স্তানিস্লাভ তারাসভ বলছেন –

      রিপোর্টে লেখা হয়েছে, যে যখন পশ্চিমী দেশগুলি স্বীকার করছে, যে ইরানের সাথে যুদ্ধের পরিণতি ধ্বংসাত্মক হতে পারে – তেহেরানের বিরূদ্ধে বিধিনিষেধ আরও কড়া করে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার প্রয়াস পুরোপুরিই নিস্ফল হবে. পাশ্চাত্য কোন কোন সুযোগ হারাচ্ছে? ‘আন্তর্জাতিক সংকটমোচন দল’ স্বীকার করছে, যে ইরানের প্রশ্নে তুরস্ক নতুন ধারনার জন্ম দিয়েছে. তুরস্ক প্রস্তাব দিয়েছে, যে নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা জারী করে ইরানকে কোনঠাসা করা নয়, বরং ইরানের অবস্থান বদল করার জন্য বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন দেশকে, বিশেষতঃ উন্নয়নশীল দেশগুলি, যাদের সাথে ইরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাদের আকৃষ্ট করা উচিত.

      এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কেননা – যদি সামরিক আক্রমণের হুমকিকে ব্রাকেটের বাইরে রাখা যায়, তাহলে পাশ্চাত্যের ইরান সম্পর্কে কোনো পরিপ্রেক্ষিতশীল স্ট্র্যাটেজিক রাজনীতি নেই. তদুপরি ইরানের পররাষ্ট্রনীতি আরও বেশি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা মার্কিনী ও বৃটিশ প্রচার মাধ্যমগুলি নিয়মিত করে থাকে - এরকম কোনো আশঙ্কা আদপেই নেই. বরং উল্টে, বিধিনিষেধের পাশাপাশি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার হুমকি তেহেরানকে বাধ্য করছে পশ্চিমী দুনিয়ার প্রতি ক্রমশঃ বেশি অবিশ্বাস পোষণ করতে শুরু করতে.

     এরই পটভূমিকায় তুরস্কের অবস্থান বিশেষ রকমের. তুরস্কের ভূখন্ডে মার্কিনী রাডার স্থাপণ ও সিরিয়ায় সংকটের তীব্রতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও এখনো আঙ্কারা তেহেরানের আস্থাভাজন. সেইজন্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সাথে ছয়দেশীয় আলাপ-আলোচনা ইস্তাম্বুলে আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছেন. এবং পশ্চিমী দুনিয়া যে এই আশাব্যঞ্জক সংকেতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না – সেটা পাশ্চাত্যের কূটনীতিরই চরম পরাজয় বলে মানতে হবে. বিশ্লেষক দলটির মতে, অন্ধগলির পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে তুরস্ক, যার দৃঢ়বিশ্বাস এই যে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, যা সামান্য হলেও সমস্যার সমাধানের ফিনিশ লাইনে পৌঁছে দিতে পারবে.

    আঙ্কারার এই দৃষ্টিভঙ্গী মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে খাপ খায়, যে ধাপে ধাপে তেহেরানের সাথে পশ্চিমী দেশগুলিতে তার সমালোচকদের মধ্যে আস্থা স্থাপণের সেতু নির্মাণের স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করে. এবং এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে সুবিদিত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষন প্রতিষ্ঠান এরকম দৃষ্টিভঙ্গীরই সবচেয়ে উচ্চ মূল্যায়ণ করেছে. শুধুমাত্র আশা করা যেতে পারে, যে খোদ পশ্চিমের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদেরা অন্ধগলি থেকে বেরোনোর অপরিহার্যতা উপলব্ধি করতে পারবে.