ভারতে ব্রামোস নামক ক্রুইজ মিসাইল বোমারু বিমান সু-৩০এম.কে.আইয়ের ককপিট থেকে নিক্ষেপের জন্য মানিয়ে নেওয়ার কার্যপদ্ধতি শেষ হতে চলেছে. এই বছর শেষ হওয়ার আগেই, সম্ভবতঃ গ্রীস্মকালীন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে. এই সম্পর্কে জানিয়েছেন ইন্দো-রুশী যৌথ শিল্পসংস্থা ‘ব্রামোস এয়ারস্পেসের’ কার্যকরী পরিচালক শিভাথানু পিল্লাই. সবিস্তারে এ সম্মন্ধে জানাচ্ছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক গেওর্গি ভানেতসোভ.

       ক্রুইজ মিশাইল ব্রামোস – রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে সফল. এর ভিত্তিস্বরূপ ছিল রুশী সুপারসনিক রকেট. ভারতে নির্মীয়মান রকেট হল উক্ত রকেটের সর্বাধুনিক সংস্করন.

       ইন্দো-রুশী শিল্পসংস্থাটির নামকরন করা হয়েছে দুই নদী – ব্রক্ষ্মপুত্র ও মস্কোভার নামে. কোম্পানীটির হেড অফিস ও মুখ্য শিল্পকেন্দ্র ভারতে অবস্থিত. ভারতীয় এবং রুশী ইঞ্জিনীয়ারদের সম্মিলিত উদ্যোগে রকেট নির্মাণ করা হলেও, মুখ্য ভূমিকায় আছে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা.

      সম্মিলিত উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন আকারের একসারি ব্রামোস ক্রুইজ মিসাইল তৈরি করা হয়েছে – বলছেন ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা’ নামক রুশী পত্রিকার মুখ্য সংকলক ইগর কোরোতচেঙ্কো.

      ভারত এমন নমুনাবিহীন অস্ত্র পাচ্ছে, বিশ্বে যার জুড়ি নেই, এবং এই অস্ত্র অন্যান্য দেশের দ্বারা প্রস্তাবিত অনুরূপ অস্ত্রের থেকে অনেক বেশি উত্কর্ষ মানের. রাডারের পক্ষে ব্রামোসকে নির্ণয় করা শক্ত. এর গতি শব্দের গতির তিনগুনেরও বেশি. ব্রামোসে প্রকৃতপক্ষে এই নীতি প্রয়োগ করা যেতে পারে, যে “নিক্ষেপ করো আর ভুলে যাও” – রকেট নিজেই লক্ষ্য খুঁজে বের করে তাকে ভেদ করবে.

      ঐ রকেটটির ওজন ৫০০ কেজিরও কম. রকেটটিতে বসানো হচ্ছে এয়ার-রিএ্যাকটিভ ইঞ্জিন, যা প্রথাগত ইঞ্জিনের তুলনায় কম জ্বালানী ব্যবহার করে. রকেটটি ওড়ে বদলরত ট্রাজেকটরিতে ১০ মিটার থেকে শুরু করে ১৪ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত. রকেটটি জলে ডুব দিতে পারে এবং অপ্রত্যাশিত কোনো প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে জলের তলা থেকে ভেসে উঠতে পারে. ব্রামোস ক্রুইজ মিসাইলের লক্ষ্যভেদের সর্বাধিক দূরত্ব ৩০০ কি.মি. যদি এই দূরত্ব বাড়ানো হয়, তাহলে রকেট প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করা হবে. রাশিয়া তজ্জনিত আন্তর্জাতিক সম্মতিপত্র স্বাক্ষরকারী এবং তাকে লঙ্ঘন করতে পারে না.

      এখন ব্রামোস ক্রুইজ মিসাইলকে ভারতীয় এয়ারফোর্সের জন্য মানানসই করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে. মিলিটারি ও নেভিকে ঐ রকেট সরবরাহ করা হচ্ছে. যুদ্ধজাহাজ তাওয়ার, ত্রিশূল ও তলোয়ার নামক জাহাজগুলি, যেগুলো রাশিয়ায় বানানো হয়েছিল, তাদের ডেকেও ঐ রকেট থাকবে. সামুদ্রিক বিমান বাহিনী তাদের সাবমেরিনে বসানোর জন্যেও ঐ রকেট পাবে. বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে এয়ারফোর্সের জন্য ব্রামোসকে মানানসই করার কাজে. বোমারু বিমান সু-৩০এম.কে.আইয়ে ব্রামোসের ব্যবহারের জন্য চলতি কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. সু-৩০এম.কে.আই. রুশী লাইসেন্সের ভিত্তিতে ভারতে নির্মিত হচ্ছে এবং ভারতের এয়ারফোর্সের মুখ্য সামরিক অস্ত্রে পরিণত হতে পারে.