রাশিয়ায় নির্বাচনী প্রচারপর্ব ফিনিশ লাইনে এসে পৌঁছেছে. নির্বাচনের আগে শেষ সপ্তাহে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলি রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন করছে এবং ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিচ্ছে.

     ‘নিজাভিসিমায়া গাজিয়েতা’(স্বাধীন সংবাদপত্র) লিখছে, যে বাজি ধরা হয়ে গেছে, শাসন ক্ষমতায় আসার জন্য প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি সমস্ত অভিযোগ প্রচার করেছে, তাদের প্রত্যেকের অবস্থান জানা গেছে. অন্যদিকে বিশ্লেষক ও রাজনীতিজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছে – নির্বাচনের পরে বেশ জটিল সময় আসবে. কমিউনিষ্ট পার্টির আশা এই, যে পরবর্তী নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হবে, কারণ পুতিনের রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র রীতিমতো সংকটের মুখে. ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী কাসিয়ানভ, যিনি বর্তমানে বিরোধীপক্ষে, বলেছেন যে পুতিন নির্বাচনের পরে দেশের আভ্যন্তরীন নীতির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গী বদল করতে বাধ্য হবেন, আর সংসদের বাইরের রাজনৈতির পার্টিগুলি ভাবী রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে গঠনমুলক সংলাপের জন্য প্রস্তুত. সম্ভাব্য নীতিবদলের কথা ‘নিজাভিসামায়া গাজিয়েতা’কে বলেছেন আধুনিক উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ইগর ইউরগেন্সও. “প্রধানমন্ত্রী এখন এক রাস্তার মোড়ে. তার ভেতরে পুতিন নং২ ও জিততে পারে, যা সংস্কারসাধনে সাহায্য করবে”. অতএব দেশে পরিস্থিতি অশান্ত. এটা ঘটছে এই কারণেই, যে শাসক কর্তৃপক্ষের আত্মবিশ্বাসের অভাব – ততখানি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নয়, যতখানি নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে.

        যাই হোক, বিরোধীরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলার আশা ছাড়ছে না. আসন্ন নির্বাচনে ‘ইয়াব্লকা’ পার্টির সমর্থকরা সব প্রার্থীর বিরূদ্ধে ভোট দেবেঃ তারা সব প্রার্থীর নাম ব্যালট পেপারে কেটে দেবে, যাতে ব্যালটটা অবৈধ হয়ে যায়. 'কমেরসান্ত' সংবাদপত্র লিখছে, যে ‘ইয়াব্লকা’ পার্টির সমর্থকেদের এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ, তারা বিরোধী চার পদপ্রার্থী – কমিউনিষ্ট পার্টির গেন্নাদি জুগানভ, লিবেরাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভ্লাদিমির ঝেরেনোভস্কি, 'ন্যায্য রাশিয়া' পার্টির সের্গেই মিরোনভ ও পুঁজিপতি মিখাইল প্রখোরভকে পঞ্চম প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একই শাসনব্যবস্থার অঙ্গ বলে মনে করে. তাসত্ত্বেও ‘ইয়াব্লকা’ পার্টি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে অবৈধ ও অব্যবহৃত ব্যালট পেপারগুলির ওপর কেউ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারে.

        চলতি নির্বাচনী প্রচারপর্বের মুখ্য ফলাফল হল – রাশিয়ায় প্রকাশ্য রাজনীতির জায়গা বেড়েছে, মনে করে ‘এক্সপার্ট’ পত্রিকা. যখন গত ২৪শে সেপ্টেম্বরে ‘এজিনায়া রাশিয়া’ পার্টির কংগ্রেসে ঘোষণা করা হল, যে তাদের প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন, ধরা হয়েছিল, যে আগামী নির্বাচন হবে পুরোপুরি নিরামিষ. কিন্তু বাস্তবে সবকিছু হল ঠিক তার বিপরীত. দ্যুমার(লোকসভার) আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অন্তর্বর্তীকালে আবির্ভাব হল রাজনীতির সেই সব ধারার, যেগুলো সম্পর্কে আমরা সাময়িকভাবে ভুলে গেছিলাম. আমরা জনবহুল প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশের কথা বলতে চাইছি. মানতেই হবেঃ এই সব প্রতিবাদী সভা-সমাবেশ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গমাত্রার সামাজিক ও রাজনৈতিক ফয়দা আদায় করা যায়নি. আপাততঃ অসন্তুষ্টরা শুধুমাত্র প্রমাণ করেছে, যে তারা প্রয়োজনে রাস্তায় বেরোতে পারে. আর পুতিনের সমর্থকেরা প্রমাণ করলো, যে ইচ্ছা হলে তারাও অন্য ধরনের শ্লোগান নিয়ে ততোধিক মানুষের সমাবেশের আয়োজন করতে সক্ষম. বাদবাকি সবকিছু -  রাস্তায় বেরোতে বাধ্য করার কারণ, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে অনড় থাকা, নিজস্ব মতবিশ্বাসে অটল থাকা, শুধুমাত্র এই আন্দোলনের সম্ভাব্য শক্তি, যা প্রয়োগ করা শিখতে হবে. পত্রিকাটির মতে, প্রতিবাদীরা  এই আশা করতে পারে, যে নির্বাচনের পরে তাদের এরকম মনমেজাজ বদলে যাবে না. যাই হোক না কেন, নতুন করে শেখা এই দক্ষতা ও অভিযোগ শাসনব্যবস্থাকে উল্টে দেওয়ার জন্য নয়. বিপ্লব – রাজনীতির ক্ষেত্রে নিজের লক্ষ্যসাধনের জন্য বহু পদ্ধতির একটি মাত্র. আরেকদিকে ভ্লাদিমির পুতিনও দেখিয়ে দিয়েছেন, যে তিনি তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন অথবা অন্ততঃ সমাজজীবনে কি ঘটছে সেটা উপলব্ধি করতে পারেন.