রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়া ও পরিবর্তনশীল জগত নামে নিজের প্রবন্ধে ইরান সম্পর্কে লিখেছেন : “নিঃসন্দেহে, এ দেশের উপর সামরিক আঘাত হানার ক্রমবর্ধমান বিপদে রাশিয়া উদ্বিগ্ন. যদি তা ঘটে, তাহলে তার পরিণতি হবে বিপর্যয়কর. তার বাস্তব পরিসর কল্পনা করাও সম্ভব নয়”.

   সামরিক বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর এ ধারণার সাথে একমত. পরিণতির বাস্তব পরিসর অবশ্য কল্পনা করা যেতে পারে. আর তা সত্যই বিপর্যয়কর হবে. আর তা এজন্যও যে, যেমন ধরুন, লিবিয়ার চেয়ে পার্থক্যে ইরান নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম. আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন এ প্রসঙ্গে লিখছেন :

   ইরানের বিমান বাহিনীতে প্রায় ৩০০ সামরিক বিমান আছে. তার বনিয়াদ হল মার্কিনী বিমান, যা ইরানের শাহ সত্তরের দশকে কিনেছিলেন. অপেক্ষাকৃত নতুন বিমানের মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে “মিগ-২৯” মার্কা বিমানের, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল. বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সব বিমানের বড় একটা অংশ আধুনিক “এফ-১৫” ও “এফ/এ-১৮” মার্কা বিমানের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম নয়, আর পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-২২ রাপ্টর” বিমানের কথা তুলছিই না. তবে আক্রমণকারী পক্ষের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করতে সে সক্ষম – উপরন্তু বৈমানিকদের প্রস্তুতি যথেষ্ট উচ্চ মানের এবং তারা নিয়মিত সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা উপযুক্ত মানে বজায় রাখছে.

   ইরানের বিমান বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্বন্ধেও এ কথা প্রযোজ্য.

   রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ সমরবিদ্যার পি-এইচ.ডি ইউরি বন্দার মনে করেন যে, যাই হোক না কেন, ইরানকে আক্রমণ করতে যারা ঝুঁকি নেবে, তাদের জন্য আকাশে তারা সহজে জিততে পারবে না:

   সত্যিই, ইরানের বিমান বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেকেলে হয়ে পড়েছে. তবে বাহিনীকে সজ্জিত করা হচ্ছে নতুন নতুন অস্ত্রে. ইরানী হাত গুটিয়ে বসে ছিল না. আর তা ট্যাক্টিক্যাল. অপারেটিভ এবং অপারেটিভ-স্ট্র্যাটেজিক দিক সম্বন্ধেও বলা যায়. তারা তৈরি করেছে ( যদিও. হয়ত অনুকরণ করেছে) রাশিয়ার রেডিওলোকেশনাল রকেট থেকে রক্ষার ব্যবস্থা. অতএব এখন তারা নিজেদের রেডিওলোকেশন স্টেশনগুলি রক্ষা করতে সক্ষম. যদিও তাদের বেশির ভাগ বিমান বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেকেলে, তবে তা কার্যকরী আছে.

   দ্বিতীয় বিষয়. ইরান - পাহাড়ী দেশ. পাহাড়ী এলাকা তাদের বিমান বিরোধী ট্যাক্টিক্যাল বিমান বিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, যেমন “টপ-এম ১”, “বর্গ” ও “ঘন” ব্যবস্থা, “টাইগার-ক্যাট” ব্যবস্থা, যা অপারেটিভ এবং স্ট্র্যাটেজিক উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে. তার অর্থ, এগুলিকে পাহাড়ী এলাকায় স্থাপন করলে তা প্রতিপক্ষের স্ট্র্যাটেজিক বিমান বাহিনীর জন্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারে. যেমন, মার্কিনী স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান এবং অনুসন্ধানী বিমানের জন্য.

   ইরানের বিমান বিরোধী ব্যবস্থা এখন আধুনিক দাবির খুবই কাছাকাছি রয়েছে. আর প্রতিপক্ষ যদি একবারের, সঠিক আঘাত হানে ইরানী পারমাণবিক প্রকল্পের উপর, তাহলে তাদের, অর্থাত্ মার্কিনীদের আগে থেকে বিপুল ক্ষতি হবে এ কথা মেনে নিতে হবে.

0   নিঃসন্দেহে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, সঠিক করে বললে, বিমান বাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নির্দেশিত, তার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলির বাহিনীর তুলনা হয় না. তবে সন্দেহ নেই যে, অভিযান যদি দীর্ঘকাল চলে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলির বিমান ও রকেট শক্তি ইরানের আকাশ-বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারবে. কিন্তু আক্রমণকারী পক্ষকে এর জন্য উচ্চ মূল্য দিতে হবে. আর সেই সঙ্গে ওঠে আরও একটি প্রশ্ন, প্রকৃতপক্ষে মুখ্য প্রশ্ন: আকাশ থেকে ইরানের উপর এ সব আঘাত সমস্যার মীমাংসা করবে কি, যাকে তেহেরানের সমালোচকরা প্রধান বলে অভিহিত করেন – পারমাণবিক সমস্যা ? এ বিষয়ে সন্দেহ আছে.