ভারতের কর্তৃপক্ষ তিনটি বেসরকারী সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করেছে, যারা “কুদানকুলাম” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের উদ্যোক্তা ছিল. এ সম্বন্ধে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী শ্রীনারায়নস্বামী. তিনি বিদ্যুত্ কেন্দ্রকে ঘিরে পরিস্থিতি মীমাংসার প্রশ্ন নিয়ে দেখাশুনা করছেন. এ বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি ভারতের তামিলনাডু প্রদেশে নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ার অংশগ্রহণে. আমাদের সমীক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ এ বিষয়টি আলোচনা করে লিখছেন:

   তদন্তের গতিতে নির্ধারিত হয়েছে যে, তামিলনাডু প্রদেশে লাইসেন্স বাতিল করা বেসরকারী সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে অর্থ পাচ্ছিল এবং তা খরচ করছিল কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু করা বানচালের উদ্দেশ্যে প্রতিবাদ আন্দোলন আয়োজন করায়. সেই সঙ্গে তারা নিশ্চয়োক্তি করছিল যে, অর্থ খরচ করা হচ্ছে রোগীদের চিকিত্সার জন্য, প্রতিবন্ধীদের সাহায্যের জন্য এবং কুষ্ঠ রোগ উচ্ছেদ করার জন্য.

   তদন্ত দেখিয়েছে যে, প্রতিবাদ আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বহু লোককে আনা হয়েছে অতি দূর দূর অঞ্চল থেকে বিশেষ করে ভাড়া করা বাসে এবং ট্রাকে. যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে তাদের খাওয়া-দাওয়ার জন্য, তাদের “যুদ্ধং দেহি” মনোভাব এবং যথাযথ সক্রিয়তা সমর্থন করার জন্য. ভারতের “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকা লিখেছে যে, কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে অর্থ ও মদিরা.

   বহুদিন ধরে ভারতীয়দের ভয় দেখানো হয়েছে সেই রকম দুর্ঘটনার, যেমন ঘটেছে জাপানের ফুকুসিমা পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে, প্রতিবেশের তেজষ্ক্রিয় দুষণের এবং অন্য বহু “ভয়ঙ্কর” কিছুর. কিন্তু এ সব কিছু ছিল মিথ্যা, যা দেখিয়েছে এ প্রদেশে আসা এবং কাজ করা বিশেষ সরকারী কমিশন, যাতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট পরমাণু-বিজ্ঞানীরা.

   তদন্তের ফলে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমনমোহন সিংকে মার্কিনী “সায়েন্স” পত্রিকাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে এ কথা বলার ভিত্তি জুগিয়েছে যে, “কুদানকুলাম” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পেছনে সর্বপ্রথমে রয়েছে কয়েকটি মার্কিনী বেসরকারী সংস্থা.

   ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি ভারতের জনসমাজে বিপুল সাড়া জাগায়. দীর্ঘকাল ধরে ফোলানো প্রচারের বেলুন, অবশেষে, ফেটে গেছে. কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে দেখা দেওয়া এ কেলেঙ্কারি এক ভাল শিক্ষা হওয়া উচিত্, মনে করেন বিদ্যুত্শক্তি ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তোন খ্লপকোভ:

   জোর দিয়ে বলতে চাই যে, নিকট পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে তেল ও গ্যাসের যথেষ্ট ভান্ডারের অনুপস্থিতি বিবেচনা করলে, এ দেশের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির কোনো বিকল্প নেই, উপরন্তু ভারত হল সেই সব দেশের একটি, যা পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির ব্যাপক পরিসরের বিকাশ শুরু করছে, এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রাকৌশলিক, বৈজ্ঞানিক ও লোকবলের ক্ষমতা আছে তার. সেইজন্য আমার মতে, কুদানকুলামে যে সব উদ্বেগ আছে স্থানীয় অধিবাসীদের – তা সর্বপ্রথমে পারমাণবিক শিল্প ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের ভুল বোঝানো স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে যথেষ্ট পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের অভাবের দরুণ ঘটেছে.

   কিন্তু ব্যাপারটা কি এতেই সীমিত? সামনে রয়েছে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির ক্ষেত্রে রুশ-ভারত সহযোগিতার ব্যাপক কর্মসূচি. রাশিয়া ও ভারত মিলিতভাবে আগামী কয়েক বছরে আরও ১৬টি এনার্জি-ব্লক তৈরি করার পরিকল্পনা করছে. কারুর কারুর হয়ত এটা পছন্দ হচ্ছে না. মনে পড়ে বছর কুড়ি আগে ভারতের রকেটের জন্য ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন বিক্রির ঘটনার কথা. তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তা পছন্দসই ছিল না, আর তারা রকেট প্রকৌশল প্রসার নিরোধের অজুহাতে রাশিয়াকে এ চুক্তি থেকে বঞ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিল. আর তার দু সপ্তাহ পরে নিজেরাই ভারতকে ঐ ইঞ্জিন বিক্রির প্রস্তাব করেছিল.